নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাত খুন মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) ওয়াজেদ আলী খোকনের মেয়ে মাইশা ওয়াজেদ প্রাপ্তির মুখে বিষ ঢেলে হত্যার চেষ্টা করেছে দুর্বৃত্তরা। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
প্রাপ্তি নারায়ণগঞ্জের একটি ইংরেজি মিডিয়ামের স্কুলের এ’ লেভেলের ছাত্রী।
তার বাবা অ্যাডভোকেট কেট ওয়াজেদ আলী খোকন মুঠোফোনে জানান, সন্ধ্যা সাতটার দিকে প্রাপ্তি শহরের উকিলপাড়া এলাকার হাজী মঞ্জিলের চতুর্থ তলায় তার মামার কোর্চিং সেন্টার ‘তৌহিদ টিউটরিয়াল’এ পড়া শেষ করে নিচে নামার পর অজ্ঞাত তিনজন লোক এসে তার বাবার বন্ধু পরিচয় দেয়। তারা তাকে বলে, “সাত খুন মামলার একজন আইনজীবী হিসেবে তোমার বাবার ভালো ভূমিকা ছিল।”
“এ কথা বলে তারা প্রাপ্তির মুখে একটি মিষ্টি জোর করে ঢুকিয়ে দিয়ে পানি ঢেলে দেয়। এ সময় প্রাপ্তির বমি শুরু হলে খবর পেয়ে পরিবারের লোকজন অচেতন অবস্থায় তাকে খানপুর ৩০০ শয্যা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর কর্তব্যরত ডাক্তাররা তার মুখে বিষ ঢুকানো হয়েছে বলে জানান।”
তাৎক্ষণিকভাবে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
পারিবারিক সূত্রে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, সাত খুন মামলার প্রধান আসামী নুর হোসেনের সহকর্মীরা মামলার রায়ে ক্ষুব্দ হয়ে তার মেয়ের উপর এরকম আমানবিক ঘটনা ঘটাতে পারে।
জেলা পুলিশ সুপার মঈনুল হক ঘটনাস্থল পরিদর্শনে শেষে সাংবাদিকদের জানান, পরিবারের স্বজনদের কাছ থেকে বিষয়টি জানতে চেষ্টা করছি। বিষয়টি বিভিন্ন পর্যায়ে তদন্ত করা হচ্ছে।
নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাত খুন মামলায় আওয়ামী লীগ নেতা নূর হোসেন, লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) তারেক সাঈদ মোহাম্মদ, কোম্পানি কমান্ডার মেজর (অব.) আরিফ হোসেন ও লে. কমান্ডার (চাকরিচ্যুত) এম মাসুদ রানাসহ ১৫ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে মঙ্গলবার রায় দেন হাইকোর্ট।
বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বাকি ১১ জনের মৃত্যুদণ্ডের পরিবর্তে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতে ১০ বছর ও ৭ বছর কারাদণ্ডপ্রাপ্তদের সাজা বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট।
ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের ফতুল্লার লামাপাড়া থেকে ২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম, আইনজীবী চন্দন সরকারসহ ৭ জনকে অপহরণ করা হয়। অপহরণের তিন দিন পর শীতলক্ষ্যা নদীতে তাদের লাশ পাওয়া যায়। এই ঘটনায় দুটি মামলা হয়।
গত ১৬ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ দুই মামলায় ৩৫ জন আসামির মধ্যে ২৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়ে রায় দেন। অন্য নয় জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।








