সাগরে ভাসমান মানুষদের উদ্ধারে দেশগুলোর সরকারের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দিয়েছে ইউএনএইচসিআর।
সমুদ্র পথে ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রায় দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার দুটি দেশ বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের অভিবাসন প্রত্যাশীরা যে চরম অমানবিক পরিস্থিতির শিকার হয়েছেন তার বিবরণ প্রকাশ পেয়েছে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) এর প্রকাশিত প্রতিবেদনে।
চলতি বছরের এপ্রিল থেকে জুন মাস পর্যন্ত সময়কালে মানবিক দুর্যোগের ভয়াবহ শিকার এই সাগরে ভাসা জনস্রোত এবং পরবর্তীতে অবৈধভাবে অন্য দেশে সমুদ্র্রসীমায় প্রবেশের দায়ে আটক বা শরণার্থী হিসেবে চিহ্নিত এই সকল ভাগ্য বিড়ম্বিতদের নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্যোগসহ বিভিন্ন বিষয় প্রতিবেদনটিতে তুলে ধরা হয়েছে।
ইউএনএইচসিআর প্রকাশিত প্রতিবেদনটিতে মূল বিষয় হিসেবে যা উঠে এসেছে সেগুলো হলো:
— তিনমাস সময়কালে কমপক্ষে ৫ হাজার অভিবাসন প্রত্যাশী ও শরণার্থীকে বঙ্গোপসাগর ও আন্দামান সাগর থেকে উদ্ধার করা হয়েছেন।
— এক হাজারেরও বেশি অভিবাসী পাচারকারীদের নৌকায় সমুদ্রে ভাসমান রয়েছেন যারা হিসাবে অন্তর্ভূক্ত হয়নি।
— পাচারকারীদের জাহাজে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন কমপক্ষে ৭০ জন।
— থাইল্যান্ড এবং মালয়েশিয়া সীমান্তে পাচারকারীদের ক্যাম্পের আশেপাশে ২০০’র বেশি কবরের সন্ধান পাওয়া গেছে। যেখানে ভাগ্য পরিবর্তনের আশায় এসে বিভীষিকাময় মৃত্যু বরণ করা অভিবাসীরা শায়িত রয়েছেন।
— এছাড়াও ইন্দোনেশিয়ায় পৌঁছানো অভিবাসীদের মধ্যে ৫৫ শতাংশই হলো শিশু।
এই অঞ্চলের অভিবাসী সমস্যার শিকার দেশগুলো হলো বাংলাদেশ, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, মিয়ানমার এবং থাইল্যান্ড। মে মাসে অভিবাসন প্রত্যাশী এই লোকজনের যন্ত্রণাক্লিষ্ট ভাসমান জীবন দেশগুলোর সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে এবং জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ভীষণভাবে নাড়া দেয়। ২০ এবং ২১ মে আক্রান্ত দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা এ বিষয়ে বৈঠকে বসেন।
অবৈধ অভিবাসন বিষয়ে আলোচনার জন্য আক্রান্ত পাঁচটি দেশ এই অঞ্চলের অন্য ১২টি দেশসহ এবং কয়েকটি সংস্থা মে মাসের ২৯ তারিখে ব্যাংককে এক বিশেষ বৈঠকে মিলিত হয়, যেখান থেকে অভিবাসন প্রত্যাশীদের রক্ষা এবং অবৈধ অভিবাসন রোধে ১৭ টি প্রস্তাবনা এবং সুপারিশ পেশ করা হয়। কুয়ালালামপুরে জুলাইয়ের ২ তারিখে অনুষ্ঠিত আসিয়ানের মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে যৌথ টাস্ক ফোর্স গঠন এবং ট্রাস্ট ফান্ড তৈরির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।





