বাংলাদেশ আর ভারতের মধ্যে পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে মাঝখানে শুধুমাত্র ভারত মহাসাগর ও বঙ্গোপসাগর। সেই সাগর পাড়ি দিতেই আগে ঘুরতে হতো সুদূর সিঙ্গাপুরের পথ। তাতে সময় লেগে যেতো দিনের পর দিন। এখন সোজা পথেই পরিবহণ হবে পণ্য, সময় লাগবে মাত্র ১০ ঘণ্টা।
পরিবহনের লম্বা সময়ের এই ব্যবধান কমাতেই লেগে গেলো টানা ৬৮ বছর। কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, ভারত এবং বাংলাদেশের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত এবং রাজনৈতিক অদূরদর্শিতার কারণেই বঙ্গোপসাগরের সোজা পথ ছেড়ে এত বছর বাঁকা পথে নৌবাণিজ্য চলেছে।
তবে কেউ কেউ মনে করেন এর পিছনে বেসরকারি জাহাজ ব্যবসায়ী চক্রের স্বার্থও জড়িত ছিলো।
সোমবার ভারত এবং বাংলাদেশের মধ্যে উপকূলবর্তী নৌ-বাণিজ্য সংক্রান্ত প্রোটোকল সই করেন দু’দেশের সচিবেরা। এখন পণ্যবাহী নৌযান ভারতের হলদিয়া, কলকাতা, করিমগঞ্জ বা পারাদ্বীপ থেকে রওনা হয়ে বঙ্গোপাসাগর দিয়ে বাংলাদেশের আশুগঞ্জ, সিরাজগঞ্জ, মংলা, নারায়ণগঞ্জ বা খুলনার বন্দরে পৌঁছাবে।
এতদিন ভারতের পূর্ব উপকূলের বন্দরগুলি থেকে মালবাহী জাহাজ বঙ্গোপসাগর হয়ে যেতো ভারত মহাসাগরে। তারপর সিঙ্গাপুর বা কলম্বো সমুদ্রবন্দরে সেসমস্ত সেই মাল খালাস করে আবার বাংলাদেশের জাহাজে বোঝাই হয়ে তবেই পৌঁছাতো বাংলাদেশের বন্দরে। ফলে পণ্য পৌঁছতে লেগে যেত দিনের পর দিন। সময় নষ্টের ফলে বাণিজ্যেতো ক্ষতি হতোই, নষ্ট হতো অনেক পণ্য এমনকি বহুগুণে বেড়ে যেতো পরিবহণের খরচও।
জুন মাসের শুরুর দিকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরে এ ব্যাপারে দু’দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে চুক্তি হয়। তাই ফল এই প্রটোকল সই।







