সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের বিচারে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে হোম সিরিজে এগিয়ে বাংলাদেশই। তবে মাঠের লড়াইতে সফরকারীদের ব্যাপারে সজাগ থাকার পরামর্শ সাকিব আল হাসানের। চোটের কারণে সিরিজে খেলতে না পারা সাকিবের মতে, কোনরকম ভুল করলে তার সুযোগ নিয়ে ম্যাচ জিতে যাওয়ার সামর্থ্য আছে জিম্বাবুইয়ানদের।
রোববার শুরু হচ্ছে বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ের তিন ওয়ানডের সিরিজ। আঙুলের ইনজুরির কারণে দলের বাইরে আছেন সাকিব। তবে তার চিন্তা-চেতনায় দল থাকছেই। একটি কোম্পানির ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হওয়ার অনুষ্ঠান শেষে সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন সাকিব। সেখানে বাংলাদেশ ও জিম্বাবুয়ের পার্থক্য তুলে ধরেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার। সিরিজে টাইগাররা অনেক ভালো করবে বলেই তার বিশ্বাস।
‘আসলে আমার যখন ডেব্যু(অভিষেক) হয়েছিল, তখন আমরা জিম্বাবুয়ের সঙ্গে হারতাম। এখন ওদের হারাই। তবে এখনও মনে করি ওদেরকে খুব হাল্কা করে নেয়ার কিছু নেই। কারণ দলটির সামর্থ্য আছে আমাদের মিসটেক কাজে লাগিয়ে ম্যাচ জিতে যাওয়ার। ওদেরকে হাল্কা করে কেউই নিচ্ছে না, নেবেও না।’
ম্যাচে ভুল হবে সেটা স্বাভাবিক। তবে ভুল হয়ে গেলেও যেন কাটিয়ে ওঠা যায় সেটা মনে করিয়ে দিয়েছেন সাকিব, ‘মিসটেক হবে এটা স্বাভাবিক। মিসটেকও ওভারকাম করা সম্ভব। কিছু কিছু মিটটেক থেকেও ওভারকাম করে আসা সম্ভব ম্যাচের ভেতরে। আমি খুবই আত্মবিশ্বাসী যে, এরকম ক্যাপাবিলিটি আমাদের খেলোয়াড়দের ভেতরে আছে। তারা ওই মিসটেকগুলো ওভারকাম করে কামব্যাক করতে পারবে।’
জিম্বাবুয়ে সিরিজের আগে জুনিয়রদের কিছু পরামর্শও দিয়েছেন সাকিব। যদিও দলে খেলা কাউকে ‘জুনিয়র’ বলতে ঘোর আপত্তি তার, ‘আমার কাছে জুনিয়র-সিনিয়র শব্দটাই পছন্দ হয় না। আমার কাছে মনে হয় যারা দলে আছে সবাই খেলার জন্য সামর্থ্যবান। তা না হলে কেউ থাকতো না। এখানে সিনিয়রের কম দায়িত্ব, জুনিয়রের কম দায়িত্ব; এরকম কোনো বিষয় নেই। সবার একটাই দায়িত্ব কিভাবে দলের হয়ে ম্যাচটা জেতাতে পারবে। সেই চেষ্টা সবাই করবে। কোনদিন দুই-তিনজন ভালো খেলবে, কোনদিন চার-পাঁচজন। একটা ম্যাচে ১১জন ভালো খেলা খুবই কঠিন। সেটা যদি খেলে তাহলে বাংলাদেশ সব ম্যাচ জিততে পারবে।’
‘যারা দলে থাকে, ভালো করেই দলে আসে। যারা থাকে না, তারা একটু ফর্মের কারণে বাদ পড়ে। তার মানে এই না, যে দলে থাকে না সে খেলোয়াড় হিসেবে খারাপ। আবার যে দলে আছে সে খেলোয়াড় হিসেবে ভালো। যখন যার সুযোগ আসবে সে অবশ্যই চেষ্টা করবে যেন পারফর্ম করতে পারে। দলের হয়ে অবদান রাখতে পারে। এটাই একমাত্র ফোকাস হওয়া উচিত। যারা সুযোগ পাচ্ছে না তাদেরও চেষ্টা থাকবে পারফর্ম করার, সেরা পারফরম্যান্স সবসময় ধরে রাখার চেষ্টা করা। বিশেষ করে ঘরোয়া ক্রিকেটে। যেন সুযোগ এলে পটেনশিয়াল অনুযায়ী কাজে লাগাতে পারে।’ যোগ করেন টাইগারদের টেস্ট ও টি-টুয়েন্টি অধিনায়ক।
প্রশ্নপর্বে অবাধিরতভাবেই উঠে আসে সাকিবের ইনজুরির প্রসঙ্গ। বলেছেন, ‘আমার ইচ্ছার ওপর তো কিছু নির্ভর করছে না। সুস্থ হলে খেলব। এখন সেটার জন্য যতটুকু সময় লাগে ততটুকু নিতে হবে। এখানে জোরাজুরির কোনো সুযোগ নেই। আবার বসে থাকারও সুযোগ নেই। যখন সুস্থ হবো, ততদিন পর্যন্ত অপেক্ষা করব।’
ফেরার ব্যাপারে ধরাবাধা কোনো সময়ও তাই বলতে পারেননি সাকিব, ‘এখন আসলে কোনো আপডেট দিতে পারছি না। একমাসও হয়নি ইনফেকশন গেল। যদি এক-দেড় মাস যায় তাহলে বোঝা যাবে কী অবস্থা। তবে আগের থেকে ভালো অবস্থা। ব্লাড টেস্ট করানো হয়েছে। ওটা প্রতি সপ্তাহে করালে বোঝা যাবে কি অবস্থা। এখন পর্যন্ত সবকিছু ইতিবাচক। দ্রুত উন্নতি হচ্ছে। সবকিছু ভালোর দিকে আছে। সময়ের ব্যাপার আরকি।’







