টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের পর অন্যরা যখন টেস্টের লড়াইয়ে নামার আগে লাল বলে অনুশীলন করে গেছেন, সাকিব আল হাসান তখন দেশের বাইরে দুটি ফ্র্যাঞ্চাইজি টি-টুয়েন্টি টুর্নামেন্টে খেলেছেন। ফরম্যাট অনুযায়ী প্রস্তুতি না থাকার পরও পাকিস্তান সফরের দলে আছেন তারকা অলরাউন্ডার।
কানাডা লিগ শেষ করা সাকিব তিন-চারদিন পর লাহোরে দলের সঙ্গে যোগ দেবেন। ফিরবেন না ঢাকায়। ঢাকা থেকে বাংলাদেশ দল সোমবারই রওনা হচ্ছে। রাওয়ালপিন্ডিতে প্রথম টেস্ট শুরু আগামী ২১ আগস্ট। সাকিব ৫ দিনের ম্যাচে নামার আগে ৫ দিনের মতো সময় পাবেন অনুশীলনের।
আওয়ামী লীগের মনোনয়নে মাগুরা-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন সাকিব। ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে সরকারের পতনের পর সংসদ ইতিমধ্যে বিলুপ্ত হয়ে গেছে। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠন করা হয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।
পালিয়ে বেরাচ্ছেন শেখ হাসিনা সরকারের সংসদ সদস্যরা। বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনেরও হদিস মিলছে না। তবে আপাতত সাকিবের ক্রিকেট ক্যারিয়ারে রাজনীতির প্রভাব পড়ছে না। অনেক জল্পনার পর তাকে রেখে ঘোষণা করা হয়েছে দুই টেস্টের সিরিজের জন্য, ১৬ সদস্যের দল।

বিসিবির প্রধান নির্বাচক গাজী আশরাফ হোসেন লিপু সোমবার মিরপুরে আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে সাকিবের বিষয়ে ব্যাখ্যা দেন। বলেন, ‘সাকিবের সঙ্গে যোগাযোগ থাকে, যোগাযোগ ছিল। গতমাসেও ছিল, এ মাসেও হয়েছে। প্রসেস হল যে দেশের বাইরে কোনো খেলোয়াড় যদি থাকে তার খোঁজ-খবরটা নেয়া।’
অনুশীলন না করেই পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে কেন সাকিব- ব্যাখ্যায় প্রধান নির্বাচক বললেন, ‘পারফরম্যান্সের আলোকেই যাচ্ছে। তার পারফরম্যান্স দিয়ে সে নিজেকে সে জায়গায় নিয়ে যেতে পেরেছে। অভিজ্ঞতা রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন ফরম্যাটে, পাকিস্তানের বিপক্ষে তার রেকর্ড, সবকিছু মিলিয়ে তিনি যাচ্ছেন।’
দেশের বাইরে খেলা হলেও গ্যালারি থেকে হজম করতে হতে পারে তীর্যক মন্তব্য। কানাডা লিগে সাকিবকে গালমন্দ করেন কয়েকজন প্রবাসী বাংলাদেশি। নিরাপত্তা নিশ্চিতের বিষয়টিও সামনে আনেন লিপু।
‘অবশ্যই বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আমরা চিন্তিত। তার নিরাপত্তা আমাদের নিশ্চিত করতে হবে। সাকিব আল হাসান বাংলাদেশের একজন টপ প্লেয়ার। সিলেকশনের ক্ষেত্রে আমরা ভেবেছি, যেহেতু তিনি একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। মূলত তার মেধার বিবেচনায় তাকে দলে নেয়া হয়েছে।’







