মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া যুদ্ধাপরাধী সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর পক্ষে সাক্ষ্য দিতে চান পাকিস্তানের পাঁচ নাগরিক। তাদের মধ্যে আছেন পাকিস্তানের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ মিয়া সুমরো, সাবেক মন্ত্রী ইসহাক খান খাকওয়ানি, ডন মিডিয়া গ্রুপের প্রধান আম্বার হারুন সায়গল এবং দু’জন ব্যবসায়ী।
এই পাঁচ পাকিস্তানীর দাবি, ১৯৭১ সালের যে সময়ে সংঘটিত অপরাধে সাকার মৃত্যুদণ্ড হয়েছে সেসময় বাংলাদেশেই ছিলেন না তিনি। সাকা সেসময় অর্থাৎ ৭১’র এপ্রিলে পাকিস্তানের করাচিতে ছিলেন দাবি করে আদালত চাইলে সাক্ষ্য দিতে প্রস্তুত আছেন বলে জানিয়েছেন ওই পাঁচ পাকিস্তানি।
কাতার ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা অনলাইনে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাকার পক্ষে পাকিস্তানীরা সাক্ষ্য দিতে চান। প্রতিবেদনটি তৈরি করেছেন বাংলাদেশে বাস করা আদালত অবমাননায় সাজাপ্রাপ্ত ব্রিটিশ সাংবাদিক ডেভিড বার্গম্যান।
সাকার রিভিউ অাবেদনের দিনই প্রকাশিত বার্গম্যানের প্রতিবেদনে ওই পাঁচ পাকিস্তানী দাবি করেন, আদালতে সাক্ষ্য দেয়ার আগ্রহ প্রকাশ করলেও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ও সংশ্লিষ্ট আদালত তাদের সাক্ষ্য গ্রহণে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন।
সাক্ষ্য দিতে চাওয়া পাঁচ পাকিস্তানী মনে করেন, তাদের সাক্ষ্য না নিয়ে সাকার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হলে তা অত্যন্ত অন্যায় হবে।
‘আদালত যদি চান তাহলে একজনের জীবন বাঁচাতে অবশ্যই সাক্ষ্য দিতে আমি বাংলাদেশে আসবো,’ আল জাজিরায় প্রকাশিত বার্গম্যানের প্রতিবেদনে সাকার হয়ে সাক্ষ্য দিতে চাওয়া আম্বার হারুন সায়গলের এমন বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে।
বার্গম্যানের প্রতিবেদনে মুনিব আরজমান্দ খান নামে পাকিস্তানের একজন গার্মেন্টস মালিক দাবি করেন, ‘সাক্ষ্য নেয়া হলে পুরো বিচারটিই পাল্টে যেতো।’
এই পাকিস্তানি দাবি করেন, ঢাকায় পাকিস্তানি বাহিনী আক্রমণ চালানোর ৪ দিন পর অর্থাৎ ২৯ মার্চ তিনি পুরনো বন্ধু সালাউদ্দিন কাদেরকে করাচি বিমানবন্দর থেকে অভ্যর্থনা জানিয়ে হারুনদের পারিবারিক বাসভবনে পৌঁছে দিয়েছিলেন। এর তিন সপ্তাহ পর লাহোরগামী প্লেনে তিনি সাকাকে তুলে দিয়েছিলেন।
এই বক্তব্যের পক্ষে ডন গ্রুপের প্রধান হারুন সায়গল দাবি করেন, সালাউদ্দিন তাদের বাড়িতে ৭১’এর মার্চের শেষ থেকে মধ্য এপ্রিল পর্যন্ত ছিলেন। ওই সময় খাবার টেবিলে তাদের মধ্যে আলাপচারিতা হতো বলেও দাবি করেন সায়গল।
মানবতাবিরোধী অপরাধে বর্তমানে মৃত্যুপরোয়ানা মাথায় নিয়ে কাশিমপুর কারাগারে আছেন বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী। আপিল বিভাগ তার মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিত করার পর সাকার পক্ষে বুধবার রিভিউ আবেদন করা হয়েছে। একইদিন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী অাহসান মুহাম্মদ মুজাহিদও রিভিউ অাবেদন করেছেন।






