১৫.২ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে দেড়শ ছোঁয়া দল শেষ ২৮ বলে নিতে পারল না ২৭ রান। শেষ ওভারে ১৬ রানের কঠিন সমীকরণ মেলানোর রাস্তাও বন্ধ হয়ে যায় হার্দিক পান্ডিয়ার প্রথম ডেলিভারিতেই ডেভিড মিলার বাউন্ডারি লাইনে ক্যাচ তুলে দিলে। সূর্যকুমার যাদবের অবিশ্বাস্য ক্যাচের পরই উৎসব শুরু করে দেয় বার্বাডোজের গ্যালারিতে থাকা হাজারো ভারতীয় দর্শক। ২০০৭ টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রথম চ্যাম্পিয়ন দল ২০২৪-এ শিরোপা পুনরুদ্ধার করল প্রোটিয়াদের ৭ রানে হারিয়ে।
অষ্টমবারের চেষ্টায় সেমিফাইনালের বাঁধা জয় করে ফাইনালের মঞ্চে আসা সাউথ আফ্রিকা শিরোপার দাবিদার ছিল হেইনরিক ক্ল্যাসেনের বিধ্বংসী ফিফটিতে। তার আউটের পরই বদলে যায় ম্যাচের ভাগ্য। পুরো কৃতিত্ব ভারতের বোলারদের। শেষ পর্যন্ত তারা হাল ছাড়েনি। জেতা ম্যাচ হেরে চোকার্স ট্যাগলাইনের বদনাম ঘুঁচাতে পারল না প্রোটিয়ারা। ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৬৯ রানে থামে তারা। শেষ ২৮ বলে ১৯ রানের বেশি করতে পারেনি।
কুইন্টন ডি ককের দায়িত্বশীল ব্যাটিং, ক্ল্যাসেনের আগ্রাসী ভূমিকাও জেতাতে পারল না সাউথ আফ্রিকাকে। বিধ্বংসী মিলারও নিজেকে রাখলেন বোতলবন্দী করে।
হার্দিক পান্ডিয়ার করা অফ স্টাম্পের অনেক বাইরের বল জায়গায় দাঁড়িয়ে ব্যাট চালান ক্লাসেন। তার ব্যাটের কানায় লেগে বল জমা পড়ে কিপারের গ্লাভসে। ক্লাসেনের ৫ ছক্কা ও ২ চারে ২৭ বলে ৫২ রানের বিধ্বংসী ইনিংসের পর ভাঙে ডেভিড মিলারের সঙ্গে তার ২২ বল স্থায়ী ৪৫ রানের জুটি। তারপরই শুরু হয় নাটকীয়তা। ডট বলের মিছিলে প্রোটিয়াদের নাস্তানাবুদ করে ছাড়ে রোহিত শর্মার দল।
আশা জাগিয়েও ভারতকে অল্পতে আটকাতে পারেনি তারা। ভারতের দেয়া ১৭৭ রানের লক্ষ্যে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতে উইকেট হারালেও মধ্যবর্তী জায়গায় এসে দারুণ জবাব দিচ্ছে প্রোটিয়ারা। প্রথমবার বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলা সাউথ আফ্রিকার সংগ্রহ ১১.৩ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে ১০০ রান।
লক্ষ্যতাড়ায় নেমে জাসপ্রীত বুমরাহ ও আর্শদীপ সিংয়ের তোপে শুরুতেই দুই ব্যাটারকে হারিয়ে ধুঁকছিল প্রোটিয়াবাহিনী। চাপ সামলে নিয়েছেন ডি কক।
২৩ থেকে ৩৪ রানে রানে যেতে তিন উইকেট হারিয়ে বেশ চাপে পড়েছিল ভারত। একপ্রান্ত আগলে প্রতিরোধ গড়েন কোহলি। ১১ রানের ব্যবধানে দ্রুত ৩ উইকেট হারানোয় অক্ষর প্যাটেলকে নামিয়ে দেয়া হয় ব্যাটিং পজিশনে প্রমোশন দিয়ে। তাতেই বদলায় ভারতীয় ইনিংসের চেহারা। আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে ভারতকে এ বাঁহাতি ব্যাটার নিয়ে যান ভালো অবস্থানে।
ব্রিজটাউনে টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে টসে জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে কোহলি দুর্দান্ত শুরু করলেও অন্য প্রান্ত থেকে ভারত হারায় তিন উইকেট। কেশব মহারাজ ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে জোড়া শিকারের দেখা পান।
এ বাঁহাতি স্পিনার রোহিতকে (৯) ফেরানোর এক বল পরই রিশভ পান্টকে (০) সাজঘরে পাঠান। দুই ব্যাটারই ক্যাচ দেন সুইপ করতে গিয়ে। পরে কাগিসো রাবাদার বলে বাউন্ডারি লাইনে ক্যাচ দেন সূর্যকুমার যাদব (৩)।
শিরোপার লড়াইয়ে ব্যাটিংয়ে নেমে স্ট্রাইক নেন রোহিত। মার্কো জানসেনের প্রথম বলেই সিঙ্গেল নিয়ে রানের খাতা খোলেন ভারতীয় অধিনায়ক। টুর্নামেন্টে অফফর্মে থাকা কোহলি প্রথম দুই বলেই মারেন বাউন্ডারি। তিন বাউন্ডারিতে শেষ করেন প্রথম ওভার। দলীয় সংগ্রহে জমা হয় ১৫ রান
প্রথম ওভারের পর দ্বিতীয় ওভারের শুরুর দুই বলে বাউন্ডারি মারেন রোহিত। শিরোপার লড়াইয়ে স্বপ্নের মতো শুরুটা মুহুর্তে দুঃস্বপ্নে রূপ নেয়। তিন বলের ব্যবধানে হারায় দুটি উইকেট।







