বিভক্ত কোরীয় উপদ্বীপে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে সাউথ কোরিয়া একটি সলিড ফুয়েল (কঠিন জ্বালানি) রকেট ইঞ্জিন উৎক্ষেপণ করেছে।
আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, মহাকাশ নজরদারিতে আরও সক্ষমতা অর্জনে এই রকেট ইঞ্জিন উৎক্ষেপণ একটি বড় ও সফল পদক্ষেপ।
নর্থ কোরিয়ার প্রথম আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (আইসিবিএম) পরীক্ষা চালানোর ছয় দিন পরেই গতকাল বুধবারে সাউথ কোরিয়া এই রকেটটি উৎক্ষেপণ করা হয়।
দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী সুহ উক এবং অন্যান্য ঊর্ধ্বতন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের সামনে রকেটটি উৎক্ষেপণ করা হয় সিউলের ১৫০ কিলোমিটার (৯৩ মাইল) দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত তায়ান থেকে।
মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়, এই সফল পরীক্ষাটি সাউথ কোরিয়ার স্বাধীন মহাকাশভিত্তিক নিরীক্ষণ এবং নজরদারি ক্ষমতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে।
সাউথ কোরিয়ার বর্তমানে নিজস্ব কোনো সামরিক নিরীক্ষণ উপগ্রহ নেই, এ কারণে নর্থ কোরিয়ার কৌশলগত সেবাগুলো পর্যবেক্ষণ করতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গুপ্তচর উপগ্রহের উপর নির্ভর করতে হয়।
সাউথ কোরিয়ার সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি পলিসি ইনস্টিটিউটের একজন রিসার্চ ফেলো লি চুন জিউন বলেন, সলিড ফুয়েল রকেটের উন্নয়ন সাউথ কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তির উন্নতিতেও অবদান রাখবে, কারণ স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণে ব্যবহৃত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং রকেট একই ধরনের বডি, ইঞ্জিন এবং অন্যান্য প্রযুক্তি দ্বারা গঠিত।
সাউথ কোরিয়া গত অক্টোবরেই তাদের প্রথম অভ্যন্তরীণভাবে উত্পাদিত তরল-জ্বালানি মহাকাশ রকেট, নুরি উৎক্ষেপণ করেছিল। তিন পর্যায়ের এই রকেট দেশটির পতাকা দ্বারা সুসজ্জিত এবং একটি ডামি স্যাটেলাইট বহন করে সফলভাবে উৎক্ষেপিত হইয়্ব তার কাঙ্খিত উচ্চতায় পৌঁছাতে পারলেও স্যাটেলাইটটিকে কক্ষপথে পৌঁছে দিতে ব্যর্থ হয়।
তবে সিউলের এই সর্বশেষ রকেট উৎক্ষেপণের বিষয়ে নর্থ কোরিয়ার কাছ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।






