ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) উপনির্বাচনে প্রার্থীদের আগাম প্রচারণার পোস্টার,বিলবোর্ড, ব্যানার, ফেস্টুন সরানোর নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার পর উত্তরের তিনটি এলাকা ঘুরে মূল পয়েন্টগুলোতে তেমন কোনো প্রচারণা সামগ্রী দেখা যায়নি। তবে তিনটি এলাকার দু’টি পয়েন্টে এখনো রয়ে গেছে সম্ভাব্য প্রার্থীদের কিছু পোস্টার।
৭ ডিসেম্বর, রোববার উত্তর সিটি নির্বাচনী এলাকার শ্যামলী রিং রোডের শ্যামলী ক্লাব এবং সংলগ্ন মাঠের প্রাচীরে দেখা গেছে মেয়রপদে আওয়ামী লীগের ‘সবুজ-সংকেত’ পাওয়া ব্যবসায়ী আতিকুল ইসলামের পোস্টার।
এখানে তার নামে দেখা যায় দু’রকমের পোস্টার। একটিতে হাস্যোজ্জ্বল মুখে ইংরেজি নববর্ষের শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন তিনি। এই পোস্টারের পাশেই তাকে মেয়র হিসেবে দেখতে চেয়ে পোস্টার সেঁটেছেন কৃষিপণ্যের পাইকারী ব্যবসায়ী আলহাজ্ব এ আর আলমগীর।

তেজগাঁও শিল্প এলাকার তিব্বত মোড়ের কাছাকাছি ইম্পালস হসপিটালে ঢোকার রাস্তা সংলগ্ন প্রাচীরে আজও দেখা গেছে মেয়র পদে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী শাকিল ওয়াহেদের পোস্টার। তার পোস্টারের ওপরেই আছে আওয়ামী লীগের আরেক মনোনয়ন প্রত্যাশী আদম তমিজি হকের পোস্টার।

রাজধানীর যত্রতত্র পোস্টার লাগানোর জন্য ৫ ডিসেম্বর হক গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তমিজি হককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করে ডিএনসিসির ভ্রাম্যমাণ আদালত। এরপরও আজ একেবারে কার্যালয় সংলগ্ন দেয়ালে পোস্টার থেকে যাওয়ায় বিস্ময় প্রকাশ করেন প্রতিষ্ঠানটির প্রজেক্ট প্রধান জাহিদুল ইসলাম।
৬ তারিখের মধ্যে প্রচারণা সামগ্রী সরানোর কোনো নোটিশ তারা হাতে পাননি জানালেও আজকের মধ্যেই অবশিষ্ট পোস্টার ও কার্যালয়ের ফটকে টাঙানো বিলবোর্ডটি অপসারণ করা হবে বলে চ্যানেল আই অনলাইনকে জানিয়েছেন তিনি।

এই কথা জানানোর পর রোববার সন্ধ্যায় কার্যালয়ের সামনের বিলবোর্ডটি অপসারণ করা হয় এবং রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টে তমিজি হকের পোস্টার অপসারণ করা শুরু হয়।

অগ্রিম প্রচারণা সরানোর বেঁধে দেয়া সময়ের পরও কোন জায়গায় সম্ভাব্য প্রার্থীদের প্রচারণা সামগ্রী দেখা গেলে প্রথমে সেগুলো অপসারণ করা হবে এবং ওই ব্যক্তিদের ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনকে অবহিত করবে ডিএনসিসি।
ডিএনসিসি’র নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহফুজুল হক মাসুম চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন: নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী ডিএনসিসির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ থেকে এসব পোস্টার-ব্যানার অপসারণ করা শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে আমরা একজন সম্ভাব্য প্রার্থীকে পোস্টার লাগানোর জন্য জরিমানা করেছি। এখনো কিছু পোস্টার রয়ে গেছে। এধরণের পোস্টার অপসারণ করা হবে এবং এই প্রচারণা চালানো ব্যক্তিদের ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনকে অবহিত করা হবে।
৩১ ডিসেম্বর ঢাকার সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থীদের আগাম প্রচারের ব্যানার-ফেস্টুন সরানোর নির্দেশনা দেয় নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইসির যুগ্ম-সচিব (চলতি দায়িত্ব) ফরহাদ আহাম্মদ খান স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র পদে উপ-নির্বাচন এবং ঢাকার দুই সিটির ৩৬ ওয়ার্ডের সম্ভাব্য প্রার্থীদের আগামী ৬ জানুয়ারি রাত ১২টার মধ্যে এসব সামগ্রী সরাতে নির্দেশ দেয়া হয়।
ঢাকার দুই সিটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে এ সংক্রান্ত একটি চিঠি পাঠানো হয়।চিঠিতে বলা হয়, জানুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহের যেকোনো দিন উত্তর সিটি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে। ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহের যেকোনো দিন ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসি। তফসিল ঘোষণার আগে সম্ভাব্য প্রার্থীদের পোস্টার, ব্যানার, দেয়াল লিখন, বিলবোর্ড, গেট, তোরণ বা ঘের, প্যান্ডেল ও আলোকসজ্জা ইত্যাদি প্রচার সামগ্রী ও নির্বাচনী ক্যাম্প থাকলে সেগুলো অপসারণ করা প্রয়োজন।
এছাড়া এগুলো না সরালে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়ার জন্যও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেয়া হয়।
নির্ধারিত সময়ের পরে কোনো প্রার্থীর পোস্টার-ব্যানার কোথাও দেখা গেলে সিটি করপোরেশন (নির্বাচন আচরণ) বিধিমালা অনুযায়ী তা হবে শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এ অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ ছয় মাস কারাদণ্ড অথবা ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হতে পারে। নির্বাচনী আইন লঙ্ঘনের জন্য নির্বাচন কমিশন প্রার্থীতাও বাতিল করতে পারে।








