বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ‘অসত্য রায়’ দেওয়া হলে সরকার পতনের আন্দোলন শুরু হবে বলে আওয়ামী লীগের প্রতি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিএনপির তিনজন কেন্দ্রীয় নেতা। তারা বলছেন, মিথ্যা মামলায় সাজা দেয়ার পায়তারা ভালো হবে না।
খন্দকার মোশাররফ হোসেন
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে অসত্য রায় দেয়া হলে তার মুক্তির আন্দোলন নয়, সরকার পতনের আন্দোলন শুরু হবে।
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বেগম জিয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতির কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলেও দাবি করেন তিনি।
রোববার দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবকদল আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বিএনপির এই নীতিনির্ধারক বলেন, দেশের জনগণ সুষ্ঠুভাবে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারলে আওয়ামী লীগ ত্রিশটার বেশী আসন পাবে না।

এ সময় তিনি গতকাল শনিবার আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দেয়া বক্তব্যের সমালোচনা করে বলেন, বিএনপি নেতারা নয়, বেগম খালেদা জিয়ার মামলার রায় নিয়ে বক্তব্য দিয়ে ক্ষমতাসীন দলের মন্ত্রীরাই আদালত অবমাননা করেছেন।
গয়েশ্বর রায়ের হুমকি
অালাদা আরেক অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ও সরকারকে সুস্পষ্ট হুমকি দিয়ে বক্তব্য রাখেন।
দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে আরাফাত রহমান কোকোর স্মরণে এক সভায় গয়েশ্বর বলেন, বেগম খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় জেলে পাঠানো হলে আমরা কান্নাকাটি করবো না। তাকে মুক্তির আগেই আমরা আপনার (শেখ হাসিনা) পতন ঘটাবো।
মিথ্যা প্রহসনের এই রায় থেকে সরে আসারও দাবি জানান গয়েশ্বর।
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী
দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে অর্পন বাংলাদেশ আয়োজিত শিক্ষাবৃত্তি প্রদানের এক অনুষ্ঠানে বেগম খালেদা জিয়াকে ছাড়া দেশে কোনো নির্বাচন হতে দেয়া হবে না বলেও হুমকি দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
তিনি বলেন, অবৈধ ক্ষমতা দখলের প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে মামলা, গুম, খুন এসব চালিয়ে যাচ্ছে সরকার। কিন্তু ক্ষমতা দখলের ষড়যন্ত্র কখনো বাস্তবায়ন হতে দিবে না দেশের জনগণ।
‘খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় সাজা দেয়ার পায়তারা ভালো হবে না’ বলেও হুঁশিয়ারি দেন বিএনপির এই নেতা।
আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায় ঘোষণার তারিখ ঘোষণা করেন ঢাকার বকশিবাজার আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে স্থাপিত বিশেষ জজ আদালত।







