বাংলাদেশে সরকারি প্রশাসনের ভাবমূর্তির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়,এমন বিষয় ফেসবুকের মতো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার না করতে কর্মকর্তাদের যে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে, তা নিয়ে কর্মকর্তাদের মধ্যে মতভেদ দেখা দিচ্ছে।
মন্ত্রী পরিষদ বিভাগের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত নির্দেশনায় উপ সচিব মঈনউল ইসলাম স্বাক্ষরিত একটি দরখাস্তে বলা হয়েছে, অক্টোবর ২০১৫ মাসে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে অনুষ্ঠিত বিভাগীয় কমিশনারের সভায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত জনৈক কর্মকর্তা কর্তৃক পোস্ট করা একটি ছবির বিষয়ে আলোচনা হয়। ছবিটি তাঁর পেশাগত অবস্থানের সঙ্গে আদৌ সঙ্গতিপূর্ণ নয়।
বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে সমালোচনার আশঙ্কা রয়েছে। তথ্য প্রযুক্তি ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম মানুষের মতপ্রকাশের ক্ষেত্রে অবারিত সুযোগ সৃষ্টি করেছে।
কিন্তু কোন সরকারি কর্মকর্তার অবাধে বা কর্মের সঙ্গে সামঞ্জস্যহীনভাবে যথেচ্ছ আচরণ করার সুযোগ নাই। এ জন্য যে কোন কর্মকর্তার নিকট থেকে তথ্য প্রযুক্তির দ্বায়িত্বশীল বক্তব্যকাম্য।
এ পরিপ্রেক্ষিতে সভায় নিম্নরুপ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে:
‘‘মাঠ পর্যায়ের কোন কোন কর্মকর্তা ফেসবুকে একান্ত ব্যক্তিগত এবং কর্মের সঙ্গে সঙ্গতিহীন বিষয় শেয়ার করছেন। প্রশাসনের ভাবমূর্তির সঙ্গে এসব বিষয় সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। উদ্ভাবনমূলক, সরকারি কাজের ইতিবাচক দিক যা অন্যকে উদ্বুদ্ধ করবে এমন বিষয় ফেসবুকে শেয়ার করার জন্য মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নির্দেশনা প্রদান করা আবশ্যক।’’
এমতাবস্থায়, উক্ত সিদ্ধান্ত অনুসরণ করতে তাঁর অধিক্ষেত্রের সকল কর্মকর্তাকে নির্দেশনা প্রদানের জন্যে আদিষ্ট হয়ে অনুরোধ করা হলো।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোঃ শফিউল আলম বিবিসি বাংলাকে বলছেন, সরকারি কর্মকর্তাদের জন্যে যে আচরণবিধি রয়েছে, অনেকে ফেসবুক ব্যবহারের সময় তা মানছেন না । তিনি আরো বলেন ‘‘কিছুটা বিধিনিষেধ তো এক অর্থেই আছেই। আচরণবিধিতে অনেক কিছুই নিষেধ করা আছে। রাজনীতির কথা অনুষ্ঠানে যেতে পারবোনা, আদালত অবমাননা করা যাবেনা, কাউকে ব্যক্তিগত আক্রমণজনক কিছু বলতে পারবোনা। এগুলো তো আছে। সোশ্যাল মিডিয়া নতুন বিষয়। সেখানে যাতে কোড অব কন্ডাক্ট মানা হয় সেটিও মনে করিয়ে দেয়া। সবকিছুরই তো একটা সীমারেখা আছে সেটা যেন অতিক্রম না করে’’।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসমূহের মধ্যে ফেসবুকই বাংলাদেশে বেশি জনপ্রিয়। বহু সরকারি কর্মকর্তাও ফেসবুকে সক্রিয় রয়েছেন। বাংলাদেশে অনেক সরকারি দপ্তরের নিজস্ব ফেসবুক পাতা রয়েছে, যেখানে নানা রকম তথ্য দেয়া হয়।আবার অনেক সরকারি কর্মকর্তা ব্যক্তিগতভাবে ফেসবুক বা অন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করেন এবং সেখানে যেমন তাদের ব্যক্তিগত তথ্য বা ছবি দেখা যায়, তেমনি অনেক সময় দাপ্তরিক তথ্যও শেয়ার করা হয়।
ফেসবুকে খুবই সক্রিয় একজন সরকারি কর্মকর্তা হলেন পটুয়াখালি জেলার গলাচিপা উপজেলার ভূমি বিষয়ক সহকারী কমিশনার কাজী সায়েমুজ্জামান।তিনি মনে করেন সরকারি কর্মকর্তাদের জন্যে এ ধরণের একটি নির্দেশনার প্রয়োজন ছিল।
বিবিসি বাংলাকে তিনি বলেন “আমার ব্যক্তিগত পরিচয় আছে। কিন্তু সরকারি কর্মকর্তার পরিচয় সেটিকে ছাপিয়ে গেছে। তাই পেশাগত পরিচয়কে প্রাধান্য দেয়া উচিত। ফেসবুকে যারা আমার তালিকায় আছেন তারা কিন্তু আমাকে ব্যক্তিগতভাবে দেখেননা দেখেন ভূমি কর্মকর্তা হিসেবে। যেহেতু প্রশিক্ষণ দেয়া হয় তাই এ ধরনের পরিপত্র আসাটা লজ্জার। দায়িত্বশীল আচরণ নিজ থেকেই করা উচিত”।
তবে মন্ত্রিপরিষদের নির্দেশনাকে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ক্ষেত্রে বাধা হিসেবে দেখছেন না সচিব শফিউল আলম। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্টাফদের আচরণ কেমন হবে, সে বিষয়ে এখন অনেক প্রতিষ্ঠান পূর্ণাঙ্গ সোশ্যাল মিডিয়া গাইডলাইন তৈরি করছে।
তবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলছেন, সরকারি কর্মকর্তাদের জন্যে এমন গাইডলাইন তৈরি করার বিষয়টি নিয়ে এখনো চিন্তা-ভাবনা শুরু হয়নি।






