গতকাল রোববার থেকে সারাদেশে শুরু হয়েছে দেশের সবচেয়ে বড় পাবলিক পরীক্ষা প্রাথমিক ও ইবতেদায়ি শিক্ষা সমাপনী। এতে ৩০ লাখ ৯৬ হাজার ৩৩১ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেওয়ার কথা থাকলেও প্রথম দিন ইংরেজি পরীক্ষায় অনুপস্থিতির সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৬০ হাজার। দ্বিতীয় দিন বাংলা পরীক্ষায় সেই সংখ্যা ছাড়িয়ে হয় ১ লাখ ৭৯ হাজার ৫০৩ জন।
সাংবিধানিকভাবে যেখানে প্রাথমিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক, সেখানে সমাপনী পরীক্ষায় বিশাল সংখ্যার এই অনুপস্থিতি সরকার এবং সংশ্লিষ্টদেরকে ভাবিয়ে তুলেছে। এরই মধ্যে অনুপস্থিতির কারণ খুঁজতে শুরু করেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। কিন্তু হঠাৎ করে কেন এত বড় সংখ্যক পরীক্ষার্থী অংশ নিল না? এটা কীসের বার্তা দিচ্ছে?
এটা এমন নয় যে, অন্যান্য বছরেও এই পরীক্ষায় শিক্ষার্থীরা অনুপস্থিতি থাকে না। কিন্তু প্রথম পরীক্ষাতেই যখন এর সংখ্যা দেড় লাখ ছাড়িয়ে যায়; তখন তা বড় প্রশ্ন হবে, সেটাই স্বাভাবিক। তবে শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের ধারণা, এর পেছনে অনেকগুলো কারণের অন্যতম কারণ প্রাথমিকের মেধাবৃক্তি।
কেননা শহর অঞ্চলের তীব্র প্রতিযোগিতার মুখে পরীক্ষার্থীদের একটা অংশ বৃত্তি নিশ্চিত করতে গ্রামাঞ্চলের স্কুল থেকে পরীক্ষায় অংশ নেয়। ওইসব শিক্ষার্থীরা মূলত দুই স্কুল থেকে রেজিস্ট্রেশন করে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত গ্রামের স্কুল থেকে পরীক্ষায় অংশ নেয় তারা।
আমরা জানি, সরকার ২০১০ সাল থেকে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের মধ্য থেকে উপজেলা বা ওয়ার্ড ভিত্তিতে মেধা বৃত্তি দিচ্ছে। সরকার মনে করে, এতে শিক্ষার্থীদের ঝরেপড়া বন্ধ ও শ্রেণিকক্ষে উপস্থিতি বৃদ্ধির পাশাপাশি তাদের মেধারও স্বীকৃতি দেওয়া যায়। ট্যালেন্টপুল এবং সাধারণ কোটায় এই বৃত্তি দেওয়া হয়। প্রতিমাসে ৩০০ এবং ২২৫ টাকা করে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত অর্থবরাদ্দ থাকে বৃত্তিপ্রাপ্তদের জন্য।
এটা অস্বীকার করার উপায় নেই, শহর অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের একটা অংশ গ্রামের অনেক শিক্ষার্থীর তুলনায় এগিয়ে থাকে। সেই এগিয়ে থাকা শিক্ষার্থীরা এমন পন্থা অবলম্বন করে। অার এই কাজে যেসব সরকারি বা বেসরকারি স্কুল জড়িত থাকে, প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সেইসব স্কুলও এই মেধাবৃক্তির সুবিধা পায়। কেননা স্কুলগুলোর মূল উদ্দেশ্যই থাকে নিজেদের ভালো ফলাফল দেখানো।
এর বাইরে পরিবারের দারিদ্র্যও বহু শিক্ষার্থীর অনুপস্থিতির বড় কারণ বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। এর পেছনে হয়তো আরো অনেক কারণ আছে। তবে অনুপস্থিতির পেছনে যখন অন্য এলাকা থেকে মেধাবৃক্তি পাওয়াই বড় কারণ, তখন জাতির জন্য তা বড় দুঃখজনক বিষয় হয়ে উঠে।
একে আমরা অসুস্থ প্রতিযোগিতা বলে মনে করি। যে কোনো উপায়েই হোক, এই ধরনের অসদুপায় থেকে শিক্ষার্থীদের বিরত রাখতে হবে। মূলত সুস্থ প্রতিযোগিতা মেধাকে শাণিত করে।







