ড্র করলে সিরিজ জয়। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটে নামার আগ পর্যন্ত হারার সম্ভাবনা নেই। যেই সাগরিকায় সকাল গড়িয়ে দুপুর পড়লো দ্বিতীয় ইনিংসে হুড়মুড় করে ভেঙে গেল বাংলাদেশ। ৮৬ রানের মামুলি টার্গেট ছুঁতে তিন উইকেট হারালেও অস্ট্রেলিয়া পা হড়কায়নি। ১-১ ব্যবধানে সিরিজ শেষ করার দিনে যা গেছে ওই বাংলাদেশেরই গেছে। অস্ট্রেলিয়ার মতো দলের বিপক্ষে সিরিজ জেতার সম্ভাবনার অপমৃত্যু দেখতে হলো।
দ্বিতীয় ম্যাচে ছোটো ছোটো কিছু প্রাপ্তি হয়তো আছে; কিন্তু সেটা প্রথম ম্যাচের কাছে নগণ্য। মিরপুরের দাপুটে বাংলাদেশ এই চারদিন বার কয়েক ম্যাচে ফিরেছে ঠিকই, কিন্তু তল খুঁজে পায়নি। যার জন্য ‘দায়ী’ নাথান লায়ন।
দুই ইনিংসে তিনি ক্যারিয়ার সেরা ১৩ উইকেট নিয়েছেন। ভেঙেছেন ১৩০ বছর আগের অস্ট্রেলীয় রেকর্ড। দুই ম্যাচের সিরিজে ২২ উইকেট নেয়ার কীর্তি অন্যকোনো অজি বোলারের নেই। লায়নের কাছে বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানরা এক প্রকার অসহায় আত্মসমর্পণ করেছেন। বাতাসে বল ভাসানো, লেংথের নিয়ন্ত্রণ আর ব্যাটসম্যানকে বিভ্রান্ত করেছেন ধারাবাহিকভাবে।
জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে সুযোগ হাতছাড়ার শুরুটা হয়েছিল সৌম্য সরকারকে দিয়ে। কামিন্সের বলে স্লিপে রেনশকে ক্যাচ দিয়ে ফিরেছেন দুই চারে ৯ রান করা এই বাঁহাতি। আউট সুইং করা বল খেলতে যেয়ে পা না নড়ানোর খেসারত দিতে হয়েছে বাজে একটি সিরিজ কাটানো সৌম্যকে।
দ্রুত তাকে অনুসরণ করেন তামিম ইকবালও। প্রথম ইনিংসে ৯ রানের পর বৃহস্পতিবারের অবদান ১২ রান। লায়নের বল বেরিয়ে এসে খেলতে গিয়ে লাইন মিস করে স্টাম্পিং।
ইমরুল কায়েস (১৫) দুঃস্বপ্নের সিরিজে ব্যর্থ আরেকবার। বাজে শট খেলে ফিরেছেন লায়নের বলে। চারে প্রমোশন পাওয়া নাসির হোসেন ৫ রানে বিদায়। ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো চার নম্বরে নেমে সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি। টিকতে পারেননি প্রথম টেস্টের ম্যাচ সেরা সাকিব আল হাসানও (২)।
তালগোল পাকানো ব্যাটিংয়ের পর প্রতিরোধ গড়েন মুশফিক-সাব্বির। ষষ্ঠ উইকেটে ৫৪ রানের জুটি তাদের। ঝুঁকি নিয়ে খেলা সাব্বির রহমান পরে উইকেট ছুঁড়ে এসেছেন বেরিয়ে এসে মারতে যেয়ে। চট্টগ্রাম টেস্টে দ্বিতীয়বারের মতো স্টাম্পড। লায়নের বলে এগিয়ে এসে বল ব্যাটে ছোঁয়াতে পারেননি। ওয়েড তখন ২৪ রান করা সাব্বিরকে সাজঘরের পথ ধরতে বাধ্য করান।
টেকেননি আরেক ভরসা মুশফিকও। পানি পানের বিরতির পর আঘাত হানেন কামিন্স। সেসময় ৩১ রান করা টাইগার অধিনায়কের ব্যাট ছুঁয়ে আসা ক্যাচ গ্লাভসে জমান ওয়েড।
মুমিনুল হক লিডটা এগিয়ে নিচ্ছিলেন। কিন্তু কামিন্সের বল বাতাসে ভাসিয়ে তিনিও সাজঘরে ফিরেছেন, ২৯ রানের অবদান রেখে।
টার্গেটের পথে হাঁটতে যেয়ে ম্যাক্সওয়েল (২৫) এবং হ্যান্ডসমকম্ব (১৬) অপরাজিত থেকে দলকে জয় এনে দেন।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
বাংলাদেশ ১ম ইনিংস: ৩০৫ (তামিম ৯, সৌম্য ৩৩, ইমরুল ৪, মুমিনুল ৩১, সাকিব ২৪, মুশফিক ৬৮, সাব্বির ৬৬, নাসির ৪৫, মিরাজ ১১, তাইজুল ৯, মোস্তাফিজ ০*; কামিন্স ০/৪৬, লায়ন ৭/৯৪, ও’কিফ ০/৭৯, অ্যাগার ২/৫২, ম্যাক্সওয়েল ০/১৩, কার্টরাইট ০/১৬)
অস্ট্রেলিয়া ১ম ইনিংস: ৩৭৭ ( রেনশ ৪, ওয়ার্নার ১২৩, স্মিথ ৫৮, হ্যান্ডসকম্ব ৮২, ম্যাক্সওয়েল ৩৮, কার্টরাইট ১৮, ওয়েড ৮, অ্যাগার ২২, কামিন্স ৪, ও’কিফ ৮*, লায়ন ০; মিরাজ ৩/৯৩, মোস্তাফিজ ৪/৮৪, সাকিব ১/৮২, তাইজুল ১/৭৮, নাসির ০/১৪, মুমিনুল ০/৬, সাব্বির ০/৯)
বাংলাদেশ ২য় ইনিংস: ১৫৭ (তামিম ১২, সৌম্য ৯, ইমরুল ১৫, নাসির ৫, সাকিব ২, মুশফিক ৩১, সাব্বির ২৪, মুমিনুল ২৯, মিরাজ ১৪*, তাইজুল ৪, মোস্তাফিজ ০; কামিন্স ২/২৭, লায়ন ৬/৬০, ও’কিফ ২/৪৯, অ্যাগার ০/৯)
অস্ট্রেলিয়া ২য় ইনিংস: (লক্ষ্য ৮৬) ১৫.৩ ওভারে ৮৭/৩ (রেনশ ২২, ওয়ার্নার ৮, স্মিথ ১৬, হ্যান্ডসকম্ব ১৬*, ম্যাক্সওয়েল ২৫*; মোস্তাফিজ ১/১৬, সাকিব ১/৩৫, তাইজুল ১/২৬, নাসির ০/১০)
ছবি: সাকিব উল ইসলাম








