দায়টা কাকে দিতে পারে পিএসজি? নেইমারকে, যিনি গত মৌসুমের মতো এবারও ব্যস্ততম সময়ে চোটে পড়ে গেলেন? নাকি জিয়ানলুইজি বুফনকে, যিনি ২০ বছরে অভিজ্ঞতা জমিয়ে একদিনেই সব গুবলেট করে ফেললেন? চাইলে সবকিছুর জন্য ভাগ্যকেও দোষ দিতে পারে পিএসজি। নইলে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের মাঠ থেকে ২-০ গোলের জয় নিয়ে ফেরার পরও কেনো নিজেদের মাঠে এভাবে ৩-১ গোলে হেরে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠা হবে না প্যারিসের জায়ান্টদের!
চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনাল! কেবল এই শব্দটা শুনলেই দীর্ঘশ্বাস পড়তে পারে পিএসজি মালিক নাসের আল খেলাফির। ফিন্যান্সিয়াল ফেয়ার প্লের খড়গ মাথায় নিয়েও কোটি কোটি ইউরো খরচ করে একটি দল সাজালেন এ কাতারি ধনকুবের, কেবল চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ের জন্যই। সেই দলটাই কিনা টানা তিনবার দ্বিতীয় রাউন্ড থেকে বাদ পড়ে গেল!
২০১৬/১৭ মৌসুমের চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ঘা এখনো শুকোয়নি। নিজেদের মাঠে ৪-০ গোলে এগিয়ে থাকার পরও বার্সেলোনার অতিমানবীয় খেলায় ৬-১ গোলের ম্যাচে কোয়ার্টার ফাইনাল পেরোনো হল না পিএসজির। সেই ম্যাচের পরই নতুন করে দল সাজাতে ব্যস্ত হয়ে পরে প্যারিসের ক্লাবটি। তাতে কোনো লাভই হল না। পরের মৌসুমে রিয়াল মাদ্রিদের কাছে হেরে একই কাণ্ডের পুনরাবৃত্তি ঘটল। চোটের জন্য মাঠের বাইরে থাকলেন দলের সবচেয়ে দামী তারকা নেইমার।
দানে দানে তিন দান। আগের দুই মৌসুমের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে এবারের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার মঞ্চ আগের লেগেই ঠিক করে রেখেছিল পিএসজি। চোটজর্জর দল নিয়ে প্যারিসে পা দিয়ে কাজটা আরও সহজ করে রেখেছিল ম্যানইউ। পিএসজিকে যেটা করতে হতো সেটা হল স্রেফ ম্যানইউকে আটকে রাখা। কোনো গোল করতে না দেয়া!
পিএসজির খেলার ধরণ নিশ্চয় আগেই ধরতে পেরেছিল ম্যানইউ। বিশেষ করে রক্ষণ ছেড়ে দানি আলভেজের উইঙ্গার বনে যাওয়া ভিন্ন কিছুরই ইঙ্গিত দিচ্ছিল। তাই শুরুতেই ধাক্কা দিয়ে পিএসজির কোমর ভেঙে দিতে চাইলেন রোমেলু লুকাকু, স্বাগতিক গোলরক্ষক বুফন আড়মোড়া ভেঙে দাঁড়াবার আগেই দ্বিতীয় মিনিটে বল ঢুকিয়ে দিলেন জালে।
১১ মিনিটে হুয়ান বেরনাত একটা গোল শোধ দিয়ে নিশ্চয়তা দিয়েছিলেন পিএসজিকে। দুই লেগ মিলিয়ে অগ্রগামিতা ৩-১ গোলের। কিন্তু পিএসজি কী তখন ঘুণাক্ষরেও টের পেয়েছিল, এই ম্যাচটাই তাদের ছিটকে দেবে কোয়ার্টার ফাইনালের দৌঁড় থেকে!
ভাগ্য খারাপ হলে যা হয় আরকি! ম্যাচের ৩০ মিনিটে এক শিশুতোষ ভুল করে বসলেন বুফন। মার্কাস র্যাশফোর্ডের সোজা শট হাতে গলাতে গিয়ে তুলে দিলেন লুকাকুর হাতে। সুযোগ সন্ধানী লুকাকু একদমই ভুল করলেন না। ম্যানইউ এগিয়ে গেল ২-১ গোলে।
এরপর থেকেই ক্রমাগত বাড়ন্ত চাপ চেপে বসল পিএসজির ঘাড়ে। সেই চাপটাই শেষে কাল হল। ম্যাচ শেষ হওয়ার এক মিনিট আগে কিমপিম্বে নিজেদের ডি-বক্সে করে বসলেন হ্যান্ডবল। পরে ভিডিও প্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে রেফারি পেনাল্টির বাঁশি বাজালে কপাল পোড়ে পিএসজির। স্পটকিক থেকে গোল করে রেড ডেভিলদের কোয়ার্টার ফাইনালে তুলে দেন র্যাশফোর্ড।
বুধবার নক্ষত্র পতন প্যারিসেই থেমে থাকেনি । পোর্তোর কাছে হেরে দ্বিতীয় রাউন্ড থেকেই বাদ পড়েছে গতবারের সেমিফাইনালিস্ট রোমা। নিজেদের মাঠে ২-১ গোলে জেতা দলটি পর্তুগালের চ্যাম্পিয়নদের কাছে হেরে গেছে ৩-১ গোলে।









