ইসলামের নামে যেকোনো সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ফতোয়া দিয়েছেন বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের ৭০ হাজার আলেম। আর এই ফতোয়াকে সমর্থন করেছেন ১৫ লাখ মুসলামান। ভারতের উত্তরপ্রদেশে একটি ওরস অনুষ্ঠানে তারা এ ফতোয়া দেন।
ফতোয়ায় ইসলামিক স্টেট (আইএস), আল-কায়েদা, তালেবানকে ‘ইসলামপন্থী সংগঠন নয়’ বলে মন্তব্য করা হয়। এ সংগঠনগুলোর সদস্যরা ‘মুসলমান নয়’ বলেও ফতোয়ায় বলা হয়।
টাইমস অব ইন্ডিয়ার (টিওআই) খবরে বলা হয়, উত্তরপ্রদেশের বেরেলিতে বিখ্যাত আলেম আহমেদ রেজা খানের সমাধিস্থলের (দরগাহ-ই-আলা হজরত) পাশে গত রোববার থেকে ওরস শুরু হয়। সেই ওরসে যোগ দিয়েছেন বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা লাখ লাখ মুসলমান। সেখান থেকেই ফতোয়া জারি করা হয়।
ফতোয়া জারি করা আলেমদের অন্যতম মুফতি মোহাম্মদ সলিম নূরী। টাইমস অফ ইন্ডিয়াকে তিনি বলেন, গত রোববার ওরস শুরু হওয়ার পর থেকেই দরগাহে আসা মুসলমানদের মধ্যে ফতোয়ার পক্ষে সমর্থনের ফরম বিলি করা হয়। তিনদিনে এ ফতোয়াকে সমর্থন করেছেন ১৫ লাখ মুসলমান।
দরগাহ আল হজরতের চেয়ারপারসন হজরত সুবহান রাজা খান বলেন, ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে হামলার পর এ বছরের ওরসে ফতোয়া জারির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যাতে করে এটা স্পষ্ট হয়, মুসলমানরা সন্ত্রাসকে নিন্দা জানায়।
দরগাহর অন্যতম নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি মোহাম্মদ এহসান রাজা খান বলেন, ‘কোরআনে লেখা আছে, একজন নিরীহ লোককে হত্যা গোটা মানবজাতিকে হত্যার সমতুল্য।’
মুফতি মোহাম্মদ সলিম নূরী সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে ‘মুসলিম সংগঠন’ না বলতে মিডিয়াকে অনুরোধ জানান।
প্যারিস হামলার নিন্দার পাশাপাশি ফ্রান্সের নেতৃত্বে সিরিয়ায় বহুজাতিক বাহিনীর বিমান হামলারও নিন্দা করেন আলেমগণ। এই বিমান হামলায় অনেক নিরীহ নারী ও শিশু নিহত হচ্ছেন। তারা বলেন, শক্তিশালী পশ্চিমা জাতিকে সন্ত্রাস দমনের জন্য কাজ করতে হবে, তবে তা নিরীহ নারী-পুরুষ ও শিশুদের জীবনের বিনিময়ে নয়।
ফতোয়া জারি করা আলেমগণ মার্কিন রিপাবিলিকান প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পের করা মন্তব্যেও সমালোচনা করেন।
তারা বলেন, কোনো একটা দেশ যদি এভাবে একটি সম্প্রাদায়কে কোনো দেশে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলে অন্যরাও এ ব্যাপারে উৎসাহিত হবে। সেক্ষেত্রে যেকোনো সময় যেকোনো দেশের যেকোনো সম্প্রদায় নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়তে পারে।






