রাজনৈতিক ভাবে দেউলিয়া হয়ে বিএনপি এখন সদস্য সংগ্রহের নামে মারামারি শুরু করেছে বলে অভিযোগ করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, বিএনপির তৃণমূলের ভীত এতোটাই নড়বড়ে হয়ে গিয়েছে যে, জেলা পর্যায়ের সম্মেলনগুলোতে কেন্দ্রীয় নেতাদের উপস্থিতিতেই কর্মীরা মারামারি করছে; নেতারা লাঞ্চিত হচ্ছে।
শোকের মাস আগস্টকে সামনে রেখে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলটির সহযোগী সংগঠনগুলোর বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের কাছে ওবায়দুল কাদের এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, সদস্য সংগহের নামে বিএনপি জেলায় জেলায় যেভাবে বিশৃঙ্খলা করছে তাতে করে দলটির নেতাকর্মীদের গায়ে কাপড় থাকে না। এগুলো দেখে হাসি পায়।
আওয়ামী লীগের সকল কিছু বিএনপি অনুকরণ করে দাবি করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর আমরা স্লোগান দিয়েছিলাম: এক মুজিব লোকান্তরে, লক্ষ মুজিব ঘরে ঘরে। পরে জিয়াউর রহমান হত্যার পরও বিএনপিকে বলতে দেখেছি, এক জিয়া লোকান্তরে, লক্ষ জিয়া ঘরে ঘরে। এগুলো খুব বেশি দিনের ইতিহাস নয়।
বৃহস্পতিবার রাতে আ স ম রবের বাসায় পুলিশি অভিযান সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে ওবাদুল কাদের বলেন, এখন স্বাভাবিকভাবেই নির্বাচন নিয়ে নতুন নতুন ধারা তৈরি হবে। গণতন্ত্রের বিকাশের স্বার্থে এটা চলুক তা আমরাও চাই। শেষ না দেখা পর্যন্ত এ বিষয়ে মন্তব্য করা ঠিক হবে না।
‘আমি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হয়েছি, আ স ম আব্দুর রব ভাই আমার নেতা ছিলেন। তার সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে। তার বাসায় উল্টাপাল্টা কিছু ঘটে থাকলে অবশ্যই খবর পেতাম। তেমন কিছু ঘটেনি। তারপরও আমি খবর নেবো।’
সাংবাদিকদের প্রতি অনুরোধ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, আওয়ামী লীগ গণতান্ত্রিক একটি দল। আমাদের ঘরোয়া গণতন্ত্র, তর্ক-বিতর্ক নিয়ে সঠিক সংবাদ প্রকাশ করুন। তথ্য যাচাই না করে রঙ চড়ানোর কী দরকার? অভ্যন্তরীণ বিষয়ে আমাদের সমালোচনা আমরা করবো। কিন্তু কেউ কেউ এমন বিষয় নিয়ে আসেন যেগুলো তথ্য নয়।
তিনি বলেন, আমি কোন নিউজ করার বিপক্ষে নই, কেননা গঠনমূলক সমালোচনা করলে আমরা দল হিসেবে শুদ্ধ হতে পারি। তাই গণমাধ্যমকে আমরা শত্রু মনে করি না।
সারাদেশে ৩১ টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিজয় খুব ভালোভাবে সংবাদ মাধ্যমে প্রচার হয়নি বলেও মনে করেন ওবায়দুল কাদের। নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জিতলে খবর আসে না। এটা যদি বিএনপি করতো তবে বড় করেই খবর প্রকাশ হতো।
বৃহস্পতিবার সারাদেশে ৩১ টি ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে বন্যাজনিত কারণে ২টি ইউনিয়নের নির্বাচন স্থগিত হয়েছে। বাকি ২৯টির মধ্যে আওয়ামী লীগ ২২, স্বতন্ত্র ৪, বিএনপি ৩টিতে বিজয়ী হয়েছে।








