আকাশ পথে প্যারিস থেকে মিলানের দূরত্ব ৬৪৫ কিলোমিটার। সোমবার রাতে প্রায় একই সময়ে দুই শহরে বসেছিল বর্ষসেরা পুরস্কারের অনুষ্ঠান। তবে প্যারিস পুরস্কারের উজ্জ্বলতা যেন মিলান পুরস্কারের চেয়ে ৬৪৫ গুণই বেশি।
সেই কারণেই হয়তো মিলানে সিরি আ’র বর্ষসেরা পুরস্কার হাতে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর হাসি অনেকটা ম্লান। আর প্যারিসে ছয় নম্বর ব্যালন ডি’অর হাতে দিলখোলা হাসিতে লিওনেল মেসি। দুই বছর আগে মেসিকে ছুঁয়েছিলেন রোনালদো। এবার আরও একবার সবাইকে ছাড়িয়ে গেছেন এলএমটেন।
মেসির ছাড়িয়ে যাওয়ার চেয়ে রোনালদোর জন্য আরও বড় চিন্তার কারণ হতে পারে ইতালিয়ান মিডিয়ায় তাকে নিয়ে সমালোচনার বহর।
একটা অদ্ভুত ব্যাপার। সিরি আ’র বর্ষসেরা খেলোয়াড় তিনি, অথচ রোনালদোর পারফরম্যান্সে খুশি নয় ইতালির মিডিয়া। পুরস্কার পাওয়ার পরেরদিনই দেশটির নামজাদা ক্রীড়া দৈনিক ‘কোরিয়েরে ডেল স্পোর্তে’ প্রথম পাতায় রোনালদোর বিশাল ছবি দিয়ে শিরোনাম করেছে ‘ক্রাইসিস’। কীসের ‘ক্রাইসিস’?
জুভেন্টাসের হয়ে ২১টি গোল করেছেন রোনালদো। কিন্তু ওই পত্রিকার দাবি, রোনালদোর পারফরম্যান্স দিনকে দিন ‘শুকিয়ে’ যাচ্ছে। সঙ্গে তার দলের পারফরম্যান্সও আহামরি নয় বলে দাবি পত্রিকাটির।
ইতালিয়ান লিগে প্রতিদ্বন্দ্বিতা কম। তারপরও লিগে ইন্টার মিলানের পেছনে জুভেন্টাস। কোচ মাউরিসিও সারিরও সমালোচনা চলছে। বলা হচ্ছে, সারি ও রোনালদো- দুজনেই দুজনের উপর বিরক্ত এবং তাদের মধ্যে দূরত্ব ক্রমশ বাড়ছে। ইতালির সাবেক তারকা অ্যান্থনিও কাসানো তো সরাসরি বলেছেন, ‘রোনালদো এবং সারির মধ্যে কোনো না কোনো সমস্যা আছেই।’
লিগ ও চ্যাম্পিয়ন্স লিগে পরপর দুটি ম্যাচে আগে রোনালদোকে মাঠ থেকে তুলে নেন সারি। সিরি আ’তে এসি মিলানের বিপক্ষে ম্যাচে আগে মাঠ থেকে তুলে নেয়ায় রিজার্ভ বেঞ্চে না বসে সরাসরি ড্রেসিংরুমে চলে গিয়েছিলেন রোনালদো। আর ম্যাচ শেষ হওয়ার আগেই স্টেডিয়াম ছেড়ে জাতীয় দলে যোগ দিতে পর্তুগালের বিমান ধরেছিলেন।
দলের সেরা তারকার এমন আচরণ মেনে নিতে পারছেন না জুভেন্টাসের অধিকাংশ সমর্থক। তার জেরেই মিডিয়ার সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে রোনালদোকে। সবকিছুর জন্য রোনালদোর পড়তি ফর্মকেই দায়ী করা হচ্ছে।
ফন ডাইক ও রোনালদোর বোনের খোঁচা-খুঁচি
ক্যারিয়ারে বড় ট্রফি বলতে একটা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ। আরেকটা রানার্স-আপ। লিভারপুলের হয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, আর রোনালদোর পর্তুগালের কাছে হেরে ইউরোপিয়ান নেশনস কাপে রানার্স-আপ হয় নেদারল্যান্ডস। তারপরও রোনালদোকে নিয়ে খোঁচা দেন ভার্জিল ফন ডাইক। এমন আচরণ কে সহ্য করতে পারে?
পারেননি রোনালদো বোনও। ব্যালন ডি’অর ভোটে রোনালদোর আগে থেকে দ্বিতীয় হয়েছেন ফন ডাইক। তবু তাকে জবাব দিতে ছাড়েননি রোনালদো পপ গায়িকা বোন কাতিয়া আভেইরা।
কী খোঁচা দিয়েছিলেন ফন ডাইক? ব্যালন ডি’অর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন না রোনালদো। মঞ্চের পাশে এক সাংবাদিক ফন ডাইককে প্রশ্ন করেন রোনালদোর অনুপস্থিতি নিয়ে। উত্তরে তিনি বলেন, কেন? সে কী এখানে ক্যান্ডিডেট ছিল নাকি?
এরই জবাব দেন কাতিয়া। বলেন, ‘তুমি যখন যথেষ্ট ট্রফি জিতে যাবে তখন হয়তো ক্রিস্টিয়ানোর সঙ্গে এক টেবিলে বসতে পারবে। আমার মনে হয়, অনেক লোকই খুব হতাশার সঙ্গে বাঁচে!!!’
তিনি আরও বলেন, ‘ডিয়ার ভার্জিল, এখন তুমি কোথায় যাবে? ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো তোমার চেয়ে হাজারগুণ এগিয়ে। তুমি যে দেশে খেল (ইংল্যান্ড) সেদেশে ক্রিস্টিয়ানো তিনবার লিগ জিতেছিল। তুমি এতো বছর খেলে এখনো সেই ট্রফিটায় হাত দিতে পারোনি। যেদেশে খেলো সেদেশে ক্রিস্টিয়ানো সেরা খেলোয়াড় হয়েছে, টপ স্কোরার হয়েছে এবং সেটা তোমার চেয়ে কম বয়সেই।’
কাতিয়া যেন থামতেই চাইছিলেন না। তার আরও সংযোজন, ‘ক্রিস্টিয়ানো রিয়াল মাদ্রিদে গিয়ে সেখানে ক্লাবের ইতিহাসের সেরা ফুটবলার হয়। পাঁচবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জেতে। তার মধ্যে একটা তোমার দল লিভারপুলকে হারিয়েই। দেশের হয়ে খেলেও তো সে তোমার দলের হৃদয়ভঙ্গ করেছে। ক্যারিয়ারে একটু কম সাফল্যের সময়েও ক্রিস্টিয়ানো তোমার চেয়ে অনেক বেশি ট্রফি জিতেছে। দারুণ না?’







