২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচনে অবৈধ ক্ষমতা দখলের মতো গভীর ষড়যন্ত্রের জাল বুনছে সরকার। ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকার জনগণকে আবারও গোল দিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি।
সোমবার দুপুরে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত তারেক রহমানের ১১ তম কারাবন্দী দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভায় বিএনপি নেতারা বলেন, ১/১১ এর পর আওয়ামী লীগ ক্ষমতা গ্রহণ করে প্রথমেই আঘাত হানে তারেক রহমানের ওপর। তারেক রহমানকে দেশত্যাগে বাধ্য করে অবৈধভাবে ক্ষমতায় টিকে আছে। আবারও একইভাবে সরকার নতুন ফাঁদ তৈরি করছে। নির্বাচনে অংশ না নিলে বিএনপির নিবন্ধন বাতিলের ধোঁয়া তুলে পাতানো নির্বাচন দিতে চায় সরকার।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বক্তব্য রাখেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রিজভী আহমেদ, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শওকত মাহমুদ প্রমুখ।
মির্জা ফখরুল বলেন, তরুণ প্রজন্মের আইকনে পরিণত হতে চলা তারেক রহমানকে ভয় পেয়েছিল আওয়ামী লীগ সরকার। তাই তার ওপর নির্যাতন চালানো হয়েছিল। আজও মিথ্যা মামলা দিয়ে তাকে দেশে আসতে দিচ্ছে না। অথচ কোন আদালত তারেক জিয়ার দুর্নীতির প্রমাণ পায়নি। তিনি কোনো দুর্নীতি করেন নি। তিনি ধারাবাহিক চক্রান্তের শিকার।
তিনি বলেন, যারা এদেশে গণতন্ত্রের কথা বলে, জনগণের পক্ষে থাকে, স্বাধীনতার পতাকা বহন করে স্বৈরাচারী শাসকরা তাদের ওপর আঘাত আনে। তারেক রহমানও স্বৈরাচারী আক্রমণের শিকার। আওয়ামী লীগ আর গণতন্ত্র একসাথে যায় না। তারা মুখে গণতন্ত্রের কথা বলে জনগণকে বিভ্রান্ত করে। আর কাজ কর্মে স্বৈরাচারী আচরণ। জনগণের সাথে রাষ্ট্রের যে চুক্তি তা আওয়ামী লীগ বিশ্বাস করে না। তারা সুপরিকল্পিতভাবে মানুষের আই-ওয়াশ করে ক্ষমতায় টিকে আছে। কিন্তু এভাবে বেশিদিন টিকতে পারবে না।
তিনি আরো বলেন, আজকে বলা হচ্ছে নির্বাচনে না গেলে বিএনপির নিবন্ধন বাতিল হবে। কিন্তু আইন কার জন্য? জনগণের কল্যাণের জন্য আইন। জনগণ যাদের চায় না তাদের দিয়ে নির্বাচন হতে পারে না। বিএনপিকে নিয়েই এদেশে নির্বাচন হতে হবে। তবে তা শেখ হাসিনার অধীনে নয়।
বাংলাদেশের মানুষ অন্যায়কে কখনো মেনে নেয়নি জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, এধরণের অন্যায় করে সাময়িক টিকে থাকা যায়, কিন্তু পতন হবেই। শক্তি সঞ্চয় করে অন্যায়কে পরাজিত করতে হবে, ফিরিয়ে আনতে হবে তারেক জিয়াকে।
রিজভী আহমেদ চলমান উপজেলা নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা প্রশাসনের ছত্র ছায়ায় কেন্দ্র দখলে নিয়েছে অভিযোগ করে বলেন, নাৎসি সরকারের আচরণ এমনই হয়। কিন্তু উৎপীড়কদের পতন হয়। তবে কিছু সময় লাগে।
তিনি উৎপীড়কদের পতনের জন্য আন্দোলন চালিয়ে যেতে হবে জানিয়ে বলেন, পৃথিবীর সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনে বিশৃঙ্খলা হয়। যেদেশের শাসনব্যবস্থা অবিচারমূলক সেখানে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে গেলে বিশৃঙ্খলা দরকার। এক্ষেত্রে তিনি ফরাসি বিপ্লবে রেইন অব টেরর’ এর দৃষ্টান্ত দেন।
রিজভী আরো বলেন, মানুষের পক্ষে, স্বৈরতন্ত্রের পতন করে গণতন্ত্রের জন্য আমাদেরকে বিশৃঙ্খলা করতে হবে। যেভাবে আমরা নব্বইয়ে এরশাদের মতো দানবকে রাস্তায় নামিয়ে এনেছিলাম, একই ভাবে শেখ হাসিনার মতো নিষ্ঠুর, নির্দয় শাসককে বিশৃঙ্খলা করেই রাস্তায় নামিয়ে আনতে হবে এবং তারেক জিয়াকে দেশে ফিরিয়ে এনে এদেশে গণতন্ত্র কায়েম করতে হবে।
বাংলাদেশ ছাত্র ফোরাম ও উত্তরাঞ্চল ছাত্র ফোরাম আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব করেন বিজেপি চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ।







