সংসদের হাতে থাকা বিচারপতিদের অভিসংশনের ক্ষমতাকে অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায় নিয়ে বহুদিন পর উত্তাল ছিলো জাতীয় সংসদ। আইনমন্ত্রীসহ প্রত্যেকেই একমত ছিলেন যে, হাইকোর্ট সংবিধান পরিপন্থী রায় দিয়েছেন যা তারা দিতে পারেন না। বিরোধীদল জাতীয় পার্টির প্রতিক্রিয়া ছিলো আরো তীব্র। ঘটনাচক্রে এদিনই সংসদে উঠা বিচারপতিদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধির বিলের বিরোধিতা করে তারা অধিবেশন থেকে ওয়াক আউট করেন।
অধিবেশনের শুরুতেই হাইকোর্টের রায়ের ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি মন্ডলীর সদস্য শেখ সেলিম। তার মতে হাইকোর্ট এখতিয়ারের বাইরে গিয়ে ওই রায় দিয়েছে।
শেখ সেলিম বলেন,‘কোথা থেকে সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক মনগড়া রায় বিচারপতিরা দেন এটা ভাবতে অবাক লাগে। এর পেছনে কোনো ষড়যন্ত্র আছে কি না তা আমাদের খুঁজে দেখতে হবে। আজকে এই সংসদে উনাদের বেতন-ভাতা আইনের বিল উত্থাপন করা হয়েছে। এখন আমরা যদি তা পাশ না করি তাহলে কি উনারা এটা পাশ করতে পারবে ’।
এনিয়ে জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্যরা কথা বলতে শুরু করলে ৩০০ বিধিতে বক্তব্য দেন আইনমন্ত্রী। আইনমন্ত্রী বলেন,‘এই রায় সংবিধানপরিপন্থী। আমরা এই রায়ের বিরুদ্ধে আগামী রোববার-সোমবারের মধ্যে আপিল বিভাগে আপিল করবো ‘।
এরপরই আইনমন্ত্রী বিচারপতিদের বেত-ভাতা বৃদ্ধি সংক্রান্ত একটি বিল উত্থাপন করতে গেলে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে সংসদ। বিল উত্থাপনের তীব্র বিরোধিতা করেন জাতীয় পার্টির সদস্যরা। জাতীয় পার্টির জিয়াউদ্দিন ফ্লোর পেয়ে কথা বলতে শুরু করার পর হস্তক্ষেপ করেন স্পীকার। তিনি বিলটি উত্থাপনের জন্য আইনমন্ত্রীকে সুযোগ দিয়ে আবারো বাবলুকে ফ্লোর দেন।
বাবলু বলেন,‘তাদেরকে এভাবে সুযোগ দেয়া যায় না। কারণ যুদ্ধের মধ্যে দিয়ে যে অধিকার আমরা অর্জন করেছি, ৭২ এর সংবিধানের মাধ্যমে আমরা জনগণের পক্ষ থেকে যে অধিকার আমরা লাভ করেছি সেটাকে সংরক্ষণ করতে হবে। আজকে যে রায় হয়েছে সেটা সংসদের জন্য অপমানজনক’।
বাবলুর বক্তব্যের পর বিল পাসের বিরোধিতা করে ওয়াকাউট করে জাতীয় পার্টি। এরপরই স্পীকারে কাছ থেকে ফ্লোর চান আওয়ামী লীগ এর বর্ষিয়ান নেতা তোফায়েল আহমেদ। তিনিও আদালতের সমালোচনা করেন।
তোফায়েল বলেন, বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে রক্ত দিয়ে স্বাধীনতা অর্জন করে এই রায় শুনে সত্যি খুব কষ্ট পেয়েছি।
বিল পাসের আগে আবারো বক্তব্য দেন আইনমন্ত্রী। তিনি সংসদকে আশস্ত করেন যে সরকার এ ব্যাপারে প্রয়োজনী আইনী ব্যবস্থা নেবে।
বৃহস্পতিবার সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনীকে অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্ট। হাইকোর্টের এই রায়ের ফলে বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে থাকছে না। বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী, বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি মো. আশরাফুল কামালের বিশেষ বেঞ্চ সংখ্যাগরিষ্ঠের মতের ভিত্তিতে রায় ঘোষণা করেন।
সুপ্রিম কোর্টের ৯ আইনজীবীর করা একটি রিট আবেদনে দেওয়া রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে এই রায় ঘোষণা করা হয়।







