কুড়ি দলের টুর্নামেন্টে একে একে নামতে শুরু করেছে বড় দলগুলো। টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপও আসল রং ছড়াতে শুরু করেছে। পাকিস্তানকে হারিয়ে যুক্তরাষ্ট্র নিজ দেশের বিশ্বকাপ জমিয়ে তুলেছে। তাতে মার্কিনীদের কাছে সিরিজ হারের ক্ষতে একটু প্রলেপ লাগলেও লাগতে পারে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের!
এবারের বিশ্বকাপ ঘিরে ভক্তদের প্রত্যাশার বেলুনটা বড় করতে দেননি স্বয়ং বাংলাদেশের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তই। বরাবরের মতো ‘সেমিফাইনাল খেলবো’ এমন রবও ওঠেনি। নির্ভার থেকে বিশ্বকাপ শুরুর কথা ছিল। কিন্তু হয়েছে অবশ্য উল্টোটা।
বিশ্বকাপ শুরুর আগে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ২-১এ টি-টুয়েন্টি সিরিজ হার দুর্বিষহ করে তুলেছে টাইগারদের ভেতরকার পরিস্থিতি। আত্মবিশ্বাস এতটাই তলানিতে নেমে গেছে যে, ভারতের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচেও চাপে ভুগেছে দল। ব্যাটিং হয়েছে অবিশ্বাস্য রকমের বাজে। টি-টুয়েন্টি খেলেছে ওয়ানডে স্টাইলে! তাতে এই ফরম্যাটে সামর্থ্য নিয়ে নতুন করে উঠেছে প্রশ্ন।
দুঃসময়ে ভক্তদের পাশে থাকার অনুরোধ আগেই করে রেখেছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। প্রত্যাশার সঙ্গে প্রাপ্তির অমিল দেখে বারবার হতাশ হওয়া দর্শকরা এবার ভাগ্যের হাতে ছেড়ে দিয়েছেন সবকিছু। বাংলাদেশের বিশ্বকাপ ঘিরে তাদের প্রত্যাশা খুব বড় নয়।
বাংলাদেশ দলের ব্যাটিংয়ের যে হাল তাতে অনেকে তো নেপাল, নেদারল্যান্ডসকেও শক্ত প্রতিপক্ষ ভাবতে শুরু করেছেন! চায়ের দোকানের আড্ডায় ‘কোনো ম্যাচ জিতবে কিনা’ শান্তবাহিনী- এই শঙ্কাও প্রকাশ করছেন অনেকে।
ডালাসে বাংলাদেশ সময় শনিবার সকাল সাড়ে ৬টায় শুরু হতে চলা ম্যাচে সমশক্তির দল শ্রীলঙ্কাকে হারাতে পারলে আবার রাতারাতি বদলে যেতে পারে পরিস্থিতি। দল হয়ে ভালো ক্রিকেট খেলে জয় পেলে সু্পার এইটে খেলার সম্ভাবনা অনেকটাই বেড়ে যাবে। দুঃসময় সরে গিয়ে উঠবে আশার সূর্য। নিরাশাবাদী সমর্থকও হয়ত হয়ে উঠবেন আশাবাদী।
নিউইয়র্কে নিজেদের প্রথম ম্যাচে সাউথ আফ্রিকার কাছে বিধ্বস্ত হওয়া শ্রীলঙ্কা সুপার এইটের আশা বাঁচিয়ে রাখতে হারাতে চাইবে বাংলাদেশকে। বাংলাদেশ চাইবে বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই জয় তুলে সমালোচনার তীর থেকে রেহাই পেতে।
মনস্তাত্ত্বিকভাবে দুদলের অবস্থানও কাছাকাছি। শ্রীলঙ্কা নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে হেরেছে। টুর্নামেন্টের শুরুটাও তাদের ভালো হয়নি। প্রোটিয়াদের কাছে হয়েছে নাস্তানাবুদ।
কয়েক বছর ধরে দুই দলের দ্বৈরথ বেশ উপভোগ্য। সেটি ওয়ানডে ফরম্যাটেও। নিধাস ট্রফির ‘নাগিন নৃত্য’ থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক ‘টাইমড আউট উদযাপন’ দিয়েছে নানা আলোচনার জন্ম। বিশ্বকাপের মঞ্চে বাঘ-সিংহের লড়াই ঘিরেও থাকছে উত্তাপের আবহ। চলতি বছর মুখোমুখি দেখায় চার ম্যাচে দুটি করে জিতেছে বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কা।
যুক্তরাষ্ট্রে প্রথমবার হচ্ছে বিশ্বকাপ। এই অঞ্চলের প্রবাসী বাংলাদেশিরা চাইলেও এতদিন পারেননি লাল-সবুজের দলকে সমর্থন দিতে। ব্যাটাররা বারবার হতাশ করলেও দেশ মাতৃকার টানে ভক্তরা মাঠে এসে দলকে সমর্থন যোগাবেন ঠিকই। গ্যালারিতে টাইগার জার্সিতে ‘বাংলাদেশ-বাংলাদেশ’ ধ্বনিতে উজ্জীবিত রাখার চেষ্টার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে চান বাংলাদেশ অধিনায়ক শান্ত।
‘দর্শকদের প্রত্যাশা তো সবসময় থাকেই। সবার আশা থাকে। সবাই চায় আমরা ভালো ক্রিকেট খেলি। সেই জায়গা থাকবেই। আমরাও চাই ভালো ক্রিকেট খেলে বাংলাদেশের মানুষদের যেন ভালো একটা ম্যাচ উপহার দিতে পারি। তবে গুরুত্বপূর্ণ হল, আমরা কীভাবে ম্যাচটিতে নিজেদের পরিকল্পনার বাস্তবায়ন করছি এবং আমাদের যে শক্তির জায়গা আছে, সেভাবে ম্যাচটি খেলছি কিনা। নিজেদের শক্তি অনুযায়ী খেলতে পারলে অবশ্যই ভালো একটি ম্যাচ আমরা খেলতে পারব।’
ব্যাটিং বিভাগ ঘিরে হতাশার ছবিটা দেখতে পাচ্ছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক শান্তও। তবে পেছনে কী হয়েছে সেটি ভুলে নতুন করে শুরুর ভাবনা তার মধ্যে।
‘টপঅর্ডার ব্যাটসম্যানরা সাম্প্রতিক সময়ে ভালো করেনি বা করছে না। তবে কালকের দিনটি পুরোপুরি নতুন দিন। যার যে জায়গায় ঘাটতি আছে, অনুশীলনে সেখানে শতভাগ দিচ্ছে। উন্নতির জায়গায় যদি বলেন, আগের জায়গা থেকে এখন সবাই ভালো অবস্থায় আছে। অনুশীলনে ও নেটে যেভাবে ব্যাটিং করেছি আমরা, তাতে মনে হয়েছে সবাই আগের চেয়ে ভালো অবস্থানে আছে।’
‘আগে কী হয়েছে, এটা চিন্তা না করে কালকে একটা নতুন দিন, জানি না কে ভালো খেলবে বা কে খারাপ করবে, নতুন দিনে শুরুটা ভালো করবে বা যে ব্যাটসম্যান সেট হবে, তার বড় দায়িত্ব খেলাটা ভালোভাবে শেষ করার। যেভাবে আমাদের ব্যাটাররা প্রস্তুতি নিয়েছে, সেভাবে বাস্তবায়ন করতে পারলে ভালো ম্যাচ হবে।’








