শ্রমিকদের জোরালো ও শক্তিশালী মতামত প্রদানকে খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মার্শা ব্লুম বার্নিকাট। তিনি এমনই মতামত প্রদানের পরিবেশ তৈরির কথা বলেন, ‘যেখানে তারা বলতে পারবে ‘আমরা এমন ফেটে যাওয়া দেয়াল-যুক্ত ভবনে কাজ করব না’, এবং তাদের সেই মতামত যেন শোনা হয় এবং সম্মান করা হয়।’
রানা প্লাজা ভবন ধসের তিন বছর পূর্তি উপলক্ষে এক বিবৃতিতে এসব কথা বলেন তিনি।
বার্নিকাট বলেন, বাংলাদেশ সরকারও ইতোমধ্যে শত শত নতুন ইউনিয়নের নিবন্ধন দিয়েছে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে শ্রমিকদের প্রতি আহ্বান জানান যেনো তারা গণতান্ত্রিকভাবে তাদের নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য কমিটির প্রতিনিধি নির্বাচন করেন, যাতে তাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা অব্যাহত থাকে।
রাষ্ট্রদূত মনে করেন, রানা প্লাজার দুঃখজনক ভবন ধস আমাদের সবার ওপর একটি দায়িত্ব অর্পণ করেছে – সরকারি কর্মকর্তা, শ্রমিক, কারখানা মালিক এবং ভোক্তা হিসাবে আমাদের সম্মিলিত দায়িত্ব একটি নিরাপদ কর্মপরিবেশ তৈরি করা ও এই বিষয়টি নিশ্চিত করা যেনো শ্রমিকদেরও বলার অধিকার থাকে।
বার্নিকাট জানান, গত তিন বছর ধরে ৩৬শ’রও বেশি কারখানার নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন করা হয়েছে এবং ৩৯ টি ঝুঁকিপূর্ণ কারখানা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। বিশ্বের যে কোনো প্রান্ত থেকে মানুষরা কারখানার নিরাপত্তাজনিত তথ্য পেতে পারেন ওয়েবসাইটের এই ঠিকানায় — http://database.dife.gov.bd/factories।
বাংলাদেশের শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় ২শ’রও বেশি পরিদর্শক নিয়োগ দিয়েছে এবং তাদেরকে প্রশিক্ষণ
দিয়েছে। এছাড়াও একটি টোলমুক্ত হেল্প লাইন চালু করেছে যার নম্বর হলো: ০৮০০-৪৪৫০০০। হাজারো কারখানা তাদের কর্মস্থলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা উন্নয়নের জন্য পদক্ষেপ নিয়েছে এবং ৩১ টি কারখানা সম্পূর্ণরূপে পুনর্গঠন করা হয়েছে।
এই সব কিছুই চমৎকার অর্জন, যা জীবন রক্ষা করতে পারে বলে মনে করেন বার্নিকাট।
মার্কিন রাষ্ট্রদূত আহ্বান জানান, ‘রানা প্লাজা ভবন ধসের ঘটনায় যারা প্রাণ হারিয়েছেন তাদের জন্য, তাদের পরিবারের জন্য এবং এই ঘটনায় যারা আহত হয়েছেন, আসুন আজকে আমরা এক মুহূর্ত সময় নিয়ে তাদের কথা স্মরণ করি। বাংলাদেশের শ্রমিক, মালিকপক্ষ এবং সরকারের সঙ্গে একসাথে কাজ করার জন্য আসুন আমরা ভবিষ্যতের প্রতি আমাদের প্রতিশ্রুতিকে পুনর্ব্যক্ত করি যেনো এ ধরনের দুঃখজনক ঘটনা ভবিষ্যতে আর না ঘটে।
একটি উন্নততর ও অধিকতর উজ্জীবিত তৈরি পোশাক খাত নির্মাণে এবং শ্রমিকের অধিকার ও নিরাপত্তার সঙ্গে সাফল্য যে ওতপ্রোতভাবে জড়িত সে জন্যেও আমাদের একত্রে কাজ করতে হবে বলে মনে করেন তিনি।








