আবু ধাবিতে শ্বাসরুদ্ধকর লড়াইয়ের পর আফগানিস্তানকে ৩ রানে হারিয়ে এশিয়া কাপের ফাইনালে খেলার আশা বাঁচিয়ে রাখল বাংলাদেশ। ২৫০ রানের লক্ষ্যে ব্যাটিংয়ে নামা আফগানিস্তান মোস্তাফিজের শেষ ওভারের ম্যাজিকের পর ৭ উইকেটে ২৪৬ রানের বেশি এগোতে পারেনি।
শেষ ৪ ওভারে আফগানিস্তানের দরকার ছিল ৪২ রান, হাতে ৪ উইকেট। কঠিন কাজটা সহজ হয়ে আসে শেষ ওভারে। ৩ উইকেট নিয়ে ৬ বলে দরকার ৮ রান। মোস্তাফিজ দিলেন মাত্র ৪। কাটার মাস্টার শেষ বলটি করেন ডট। তাতেই বিজয়গাঁথা লেখা হয়ে যায় টাইগারদের।
গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচে আফগানিস্তানের কাছে ১৩৬ রানে হার নিয়ে পরদিন দুবাইয়ে সুপার ফোর শুরু করা বাংলাদেশ ভারতের কাছে বিধ্বস্ত হয়েছিল ৭ উইকেটে। যেখান থেকে আত্মবিশ্বাসে লেগেছিল ধাক্কা, সেই আবু ধাবিতে ফিরতেই এল রোমাঞ্চকর জয়। সেইসঙ্গে নেয়া হয়ে গেল মধুর প্রতিশোধও!
ভারতের কাছে লড়াইবিহীন হারের পরও ফাইনালের আশা ছাড়েননি বাংলাদেশ অধিনায়ক। সংবাদ সম্মেলনে মাশরাফী বলেছিলেন, সুযোগ আছে শেষ দুই ম্যাচ জিতলে। ২৬ সেপ্টেম্বর পাকিস্তানকে হারাতে পারলেই ফাইনাল খেলবে বাংলাদেশ।
রোববারই দুবাইয়ে পাকিস্তানকে ৯ উইকেটে উড়িয়ে দিয়ে ফাইনালের পথে এক পা দিয়ে রেখেছে ভারত। দুই ম্যাচেই বড় ব্যবধানে জিতেছে তারা। বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের জয় একটি করে ম্যাচে।
মাঝারি পুঁজি নিয়ে বোলিংয়ে নামা বাংলাদেশ পেয়েছিল দুর্দান্ত শুরু। ২৬ রানের মধ্যে আফগানিস্তানের ২ উইকেট ফেলে আশা জাগান টাইগার বোলাররা। তবে আফগানদের প্রত্যয়ী ব্যাটিংয়ে যখন হারের শঙ্কা দেখা দেয়, তখন ব্রেক-থ্রু আনেন অধিনায়ক মাশরাফী নিজেই।
থিতু হয়ে যাওয়া আজগর আফগানকে ফিরিয়ে ভাঙেন ৭৮ রানের চতুর্থ উইকেট জুটি। পরের জুটিটি যখন ভয়ঙ্কর হতে চলেছে তখন সর্বোচ্চ রান করা হাসমাতউল্লাহ শাহিদীকে বোল্ড করে ম্যাচে ফেরার আশা জাগান। সেইসঙ্গে বাংলাদেশের প্রথম বোলার হিসবে ওয়ানডে ক্রিকেটে আড়াইশ উইকেট শিকারের মাইলফলক স্পর্শ করেন ম্যাশ। হাসমাতউল্লাহ আউট হওয়ার আগে করে যান ৭১ রান।
ইনিংসের শুরুতে নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে রান আটকে রাখেন বাংলাদেশের বোলাররা। তৃতীয় উইকেট জুটিতে ৬৩ ও চতুর্থ উইকেট জুটির ৭৮ রান তুলে আফগানরা কঠিন করে ফেলে বাংলাদেশের জয়ের পথ।
ইনিংসের চতুর্থ ওভারের দ্বিতীয় বলে মোহাম্মদ শেহজাদের ক্যাচ ছাড়েন মিড-অনে দাঁড়ানো মোহাম্মদ মিঠুন। আফগানদের দলীয় সংগ্রহ তখন ১৮ রান। আর শেহজাদের ৯। ওপেনিং জুটি ভাঙতে অবশ্য সময় লাগেনি। পরের ওভারে মোস্তাফিজুর রহমান এসেই ফেরান ইহসানউল্লাহকে (৮)। ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে শান্তর হাতে ক্যাচ দিয়ে মাঠ ছাড়েন এ ডানহাতি ব্যাটসম্যান। আফগানদের সংগ্রহ তখন ২০ রান।
বাংলাদেশ দল দ্বিতীয় সাফল্যের দেখা পায় সাকিব আল হাসানের দুর্দান্ত ফিল্ডিংয়ে। অপুর পরের ওভারে ব্যাকফুটে জোরের উপর কাট শট খেলেন শেহজাদ। সাকিব গালি থেকে ডান দিকে ঝাঁপিয়ে বল তালুবন্দী করে ননস্ট্রাইক প্রান্তে সরাসরি থ্রো’তে রান আউট করেন রহমত শাহকে (১)।
২৬ রানে ২ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়া আফগানিস্তানকে পথ দেখিয়ে যান শুরুতে জীবন পাওয়া শেহজাদ। মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের বলে বোল্ড হওয়ার আগে করেন ৫৩ রান। দলীয় সংগ্রহ তখন ৮৯। পরে মাশরাফীর আঘাত আর শেষে মোস্তাফিজের ম্যাজিক্যাল ওভারে আসে জয়।
মাশরাফীর মতো মোস্তাফিজও নিয়েছেন ২টি উইকেট, রান দিয়েছেন ৯ ওভারে ৪৪, আছে একটি মেডেনও। একটি করে উইকেট নিয়েছেন সাকিব ও মাহমুদউল্লাহ।
আগে বাংলাদেশ এদিন বড় পুঁজি পায়নি টপঅর্ডারের ব্যর্থতায়। টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে দ্রুত ফিরে যান ওপেনার শান্ত এবং তিন নম্বরে নামা মিঠুন। লিটনকে নিয়ে মুশফিক গড়েন ৬৩ রানের জুটি। পরে রিয়াদ-ইমরুল যোগ করেন আরও ১২৮ রান।
শান্ত ফেরেন পঞ্চম ওভারের শেষ বলে। আফতাব আলমকে হাফভলি বানিয়ে কাভার দিয়ে উড়িয়ে মারতে চেয়েছিলেন। কানায় লেগে উঠে যায় পয়েন্টের আকাশে। ওখানে ছিলেন রহমত শাহ। বলে চোখ রেখে তালুবন্দি করেন। ১৮ বলে ৬ করে ফিরতে হয় শান্তকে।
পরের ওভারের তৃতীয় বলে মিঠুনকে ফেরান মুজিব উর রহমান। টার্ন করে ভেতরে ঢোকা বল ঠিকমতো সামলাতে ব্যর্থ হন মিঠুন। প্যাডে লাগলে আম্পায়ার আঙুল উঁচু করে দেন। রিভিউ না নিয়েই ১ রানের মাথায় পথ ধরেন ডানহাতি এ ব্যাটসম্যান।
এরপর মুশফিক-লিটন ৬৩ রানের জুটি গড়েন। এই জুটি ভাঙেন রশিদ খান। অফস্টাম্পের এক বলে সামনে ঝুঁকে সুইপ করেন। ঠিক মতো ব্যাটে না লাগলে চলে যায় স্লিপে। ইহসানুল্লাহ অনায়াসে সেটি ধরে ফেলেন। আগের তিন ম্যাচে ১৩ রান করা লিটন এদিন ৪৩ বলে ৪১ করে ফেরেন। একই ওভারের শেষ বলে সাকিব (০) রানআউট হয়ে বিদায় নেন।
২১তম ওভারের পঞ্চম বলে পথ ধরেন মুশফিক। ইমরুল কায়েস লেগসাইডে বল ঘুরিয়ে একপা-দুইপা করে ক্রিজে থেকে যান। মুশফিক ততক্ষণে অনেকটা পথ চলে আসেন। সেখান থেকে আর ফিরতে পারেননি। টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে ১৪৪ রান করা মুশফিককে ফিরতে হয় ৫২ বলে ৩৩ রান করে।
রিয়াদ অর্ধশতক তুলে নেন ৫৯ বলে। বিদায় নেন ৮১ বলে ৭৪ রান করে। বিদায় নেয়ার আগে ইমরুলকে নিয়ে অনেকটা পথ পাড়ি দেন। ৪৭তম ওভারে আফতাব আলমের একটি সাদাসিধে শর্ট বলে অফসাইড দিয়ে উড়িয়ে মারতে গিয়ে সোজা পয়েন্টে ধরা পড়েন।
রিয়াদ ফিরে গেলে মাশরাফীকে (১০) নিয়ে ইমরুল আরও ২১ রান যোগ করেন। পরে মিরাজকে নিয়ে যখন শেষ করেন, তখন দলের স্কোর ২৪৯। ইমরুল শেষ পর্যন্ত ৮৯ বলে ৭২ রানে অপরাজিত থাকেন।








