ধীরে হলেও মোটামুটি নিশ্চিত উত্তেজনাপূর্ণ ফিনিশিংয়ের শিরোনাম হতে যাচ্ছে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতের অ্যাডিলেড টেস্ট। ব্যাট হাতে ৪০০ ছাড়ানো লিডের সম্ভাবনা জাগিয়ে অজিদের ম্যাচ থেকেই ছিটকে দেয়ার ইঙ্গিত দিয়েছিল কোহলিরা। কিন্তু ৪ রানে চার উইকেট হারিয়ে স্বাগতিকদের ৩২৩ রানের লক্ষ্য দিতে পেরেছে সফরকারীরা।
টার্গেট কঠিন, তবে অসম্ভব নয়! লক্ষ্যে নেমে শুরুটা ভালো করে অস্ট্রেলিয়া। এরপরই দুই ওপেনারকে হারায় তারা। চাপ কাটিয়ে উঠে না উঠতেই আবারও দুই উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে অস্ট্রেলিয়া। যদিও দিনের শেষ আধাঘণ্টা বেশ ভালোভাবেই কাটিয়েছে দলটি।
সংক্ষিপ্ত স্কোর: ভারত-২৫০ ও ৩০৭, অস্ট্রেলিয়া-২৩৫ ও ১০৪/৪ (চতুর্থ দিন শেষে)
চতুর্থ দিন শেষে অজিদের সংগ্রহ ৪ উইকেটে ১০৪ রান। শন মার্শ ৩১ ও ট্রাভিস হেড ১১ রানে অপরাজিত। পঞ্চম ও শেষদিনে তাদের জয়ের জন্য দরকার ২১৯ রান, হাতে ৬ উইকেট। সুযোগটা অবশ্য অজিদের চেয়ে ভারতের জন্যই বেশি। সবমিলিয়ে অন্যরকম একটা দিনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সন্ধ্যা ঘনিয়েছে অ্যাডিলেডে।
জয়ের আশা করলেও অস্ট্রেলিয়াকে চিন্তায় রাখবে অ্যাডিলেডের ইতিহাস। অস্ট্রেলিয়াও গত ১০০ বছরের মধ্যে অ্যাডিলেডে চতুর্থ ইনিংসে দুইশর বেশি রান তাড়া করে জিততে পারেনি। এই মাঠে যে গত ১০০ বছরে ৩০০ রানের বেশি টপকে টেস্ট জেতেনি কোনো দলই।
যদিও টেস্টে চতুর্থ ইনিংসে সর্বোচ্চ ৩৬৯ রান তাড়া করে জেতার ইতিহাস রয়েছে অস্ট্রেলিয়ার। ১৯৯৯ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে হোবার্টে জিতেছিল তারা। অ্যাডিলেডে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে চতুর্থ ইনিংসে ৩১৫ রান তাড়া করে জয়ের নজিরও আছে অস্ট্রেলিয়ার। তবে সেই ম্যাচটি ১১৬ বছর আগে।
প্রথম ইনিংসে ১৫ রানের লিড নেয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংস মিলিয়ে রোববার অজিদের ৩২৩ রানের লক্ষ্য ছুঁড়ে দেয় ভারত। শুরুটা একটু ভালো হলেও চা-পানের বিরতিতে যাওয়ার ঠিক আগে ফিঞ্চের উইকেট হারায় অজিরা। স্কোরবোর্ডে তখন রান ২৮।
ফিঞ্চকে ফেরান অশ্বিন। চা-পানের বিরতির পর আরও একটি উইকেট হারায় স্বাগতিকরা। ৪৪ রানের মাথায় মোহাম্মদ সামির বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন অভিষিক্ত হ্যারিস। পরে ৬০ রানের সময় অশ্বিনের বলে ‘আত্মহত্যার সামিল’ এক শট খেলে ফেরেন দলের অন্যতম নির্ভরযোগ্য ব্যাটসম্যান উসমান খাজা (৮)।
শন মার্শের সঙ্গে জুটিতে অজিদের একটু আশার সঞ্চার করেছিলেন পিটার হ্যান্ডসকম্ব (১৪)। কিন্তু সামির বলে পূজারাকে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনিও। সেখান থেকে জুটি গড়েছেন মার্শ ও ট্রাভিস হেড। শেষবেলায় বেশ আত্মবিশ্বাসী মনে হয়েছে দুজনকেই।
এর আগে চতুর্থদিন লাঞ্চ বিরতিতে যে ইঙ্গিত দিয়েছিল, বিরতির পর সেই সুযোগটাই হাতছাড়া করে ভারত। টেলএন্ডারদের ব্যর্থতায় বিরতির পরপরই গুটিয়ে যায় কোহলিদের দ্বিতীয় ইনিংস।
দ্বিতীয় ইনিংসেও লড়াকু ব্যাটিং করেছেন চেতশ্বর পূজারা। প্রথম ইনিংসে ১২৩-এর পর এবার ৭১ এসেছে তার ব্যাটে। সঙ্গে লড়েছেন রাহানে। কিন্ত এ দুই ব্যাটসম্যান আউট হতেই দ্রুত শেষ দেখে ইনিংস। মারমুখী পান্ট একটা চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত সফল হননি। ২৫ রানে ভারতের শেষ পাঁচ উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচে কামব্যাক করে ব্যাগি-গ্রিনরা।
বিরতির পর ১৬ বলে ২৮ রান করা পান্টকে ফেরান নাথান লায়ন। এরপর ৫ রানে স্টার্কের শিকার হন রবীচন্দ্রন অশ্বিন। ভারতের শেষ চার উইকেটের পতন হয় মাত্র চার রানের ব্যবধানে। ৭০ রানে লায়ন রাহানেকে সাজঘরের রাস্তা দেখানোর পর ঈশান্ত, শামি ফেরেন শূন্য রানে। লায়ন দাপটেই ৩০৭ রানে শেষ হয় কোহলিদের দ্বিতীয় ইনিংস।
প্রথম ইনিংসে ২ উইকেটের পর দ্বিতীয় ইনিংসে ৬ উইকেট তুলে নেন অজি অফস্পিনার।








