আমাদের জীবনে আজকাল খুব বেশি জায়গা করে নিচ্ছে হৃদরোগ, ডায়বেটিস, স্থূলতাসহ বেশ কিছু দীর্ঘমেয়াদী সমস্যা। যার ফলে হার্ট অ্যাটাক, ব্রেন স্ট্রোক, কিডনি ফেইলিয়র, লিভার সিরোসিস, ক্যান্সারের মতো ভয়াবহ রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যাও বাড়ছে।
এ ধরণের সমস্যার পেছনের কারণ ও ভয়াবহ ফলাফল নিয়ে ফেসবুকে সহজ ভাষায় কিছু তথ্য দিয়ে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন প্রবাসী ডাক্তার আমিনুল ইসলাম। ওই স্ট্যাটাসে তিনি লিখেছেন:
‘নিস্ক্রিয় জীবনযাপন যে হৃদরোগ, ব্রেনস্ট্রোক, ডায়াবেটিস, স্হূলতা ইত্যকার অঘটন ঘটনে পটিয়সী তা আমাদের জানা। শরীরের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ যে অঙ্গ অনুল্লেখ্য থেকে যায় তা হল লিভার। শারীরিক নিস্ক্রিয়তা হার্ট, রক্তনালী, ব্রেনের মত লিভারকেও তিলে তিলে নষ্ট করে দিতে পারে। ধুকে ধুকে ভোগাতে পারে বা মৃত্যু ঘটাতে পারে সিরোসিস নয়তো বা ক্যান্সার রোগে।
যাদের ওজন বেশী, যাদের অফিস-চাকুরী-টেলিভিশন বা কম্পিউটার জনিত কারণে চেয়ারে বসে কাটাতে হয় দীর্ঘ সময়, অথবা যাদের অতিভোজনের স্বভাব আছে তাদের শরীরে ইনসুলিন অন্য সবার মত কাজ করতে পারেনা। এ অকার্যকারিতার আরেক নাম ‘ইনসুলিন রেজিষ্ট্যান্স’। এর ফলে একদিকে যেমন ডায়াবেটিসের পত্তন ঘটে অন্যদিকে ফ্যাট বা চর্বি বিপাকে দেখা দেয় গন্ডগোল। ফলশ্রুতিতে লিভারের কোষে কোষে ফ্যাট জমতে থাকে। যাকে প্রাথমিক অবস্থায় ফ্যাটি লিভার (fatty liver) বলা হয়। লিভারের ভিতর এ চর্বির আস্তানা নানাবিধ আঘাত প্রত্যাঘাতের মুখোমুখি করে দেয় তার কোষ গুলিকে। যকৃতকোষ ধীরে ধীরে তন্তু বা আশেঁর মত হয়ে যেতে থাকে। এ অবস্হাকে বলা হয় fibrosis। এ fibrosis-ই পরে লিভারের শেষ সর্বনাশ সিরোসিস ও ক্যান্সার ডেকে আনে।
একটা বড়সড় ইউরোপিয়ান স্টাডিতে দেখা গেছে শতকরা ৯৭ ভাগ স্হূল ও ৬৭ ভাগ overweight ব্যক্তির fatty liver আছে। ফলে আজ কাল বা পরশু হোক – তা fibrosis, সিরোসিস বা লিভার ক্যান্সারে রূপ নেবে বলে দেয়া যায়।
৪০ থেকে ৫০ বছর বয়সে যদি করো fatty liver দেখা দেয় – আর যদি জীবনধারা, ব্যায়াম ও খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন না আনে তবে ধরে নেয়া যায় ৫০ থেকে ৬০ বছর বয়সে তার সিরোসিস দেখা দিবে। যেহেতু টিভি, ফাস্টফুড, আর্থিক স্বচ্ছলতা ইত্যকার কারনে শিশুদের মধ্যে স্হুলতার প্রকোপ বাড়ছে তাই fatty লিভারও এখন তরুণ বয়সেই শুরু হচ্ছে। যার দূরপ্রসারী ফলাফল ভাবনার বিষয়।
অ্যালকোহলও লিভারে চর্বি জমাতে পারে, সিরোসিস-ক্যান্সার করতে পারে। কারণ যদি অ্যালকোহল হয় তবে তাকে বলে alcoholic fatty liver। আর অস্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রার কারণে যদি লিভার হয় মেদাক্ত তবে তার নাম non-alcoholic fatty liver (NAFL বা NASH)।
শারীরিকভাবে নিস্ক্রিয়, চেয়ার সোফায় বসে কাটানো জীবনের নেতিবাচক শরীরবৃত্ত থেকে আমাদের হার্ট-ব্রেন-কিডনির সাথে লিভারেরও মুক্তি মিলুক।’








