চট্টগ্রাম থেকে: উইকেট নিয়ে রহস্যের অনেকটা খোলাসা হল দ্বিতীয় দিনে। প্রথম দিনের মতো দ্বিতীয় দিনেও উইকেট পড়ল ছয়টা। তবে ২৪ রান বেশি উঠেছে। প্রথম দিন ৯০ ওভারে এসেছিল ২৫৩। দ্বিতীয় দিনে ২৭৭ রান। যার মধ্যে ২৩.২ ওভার ব্যাট করে শেষের চার উইকেটে বাংলাদেশের করা ৫২ রানও আছে। বাকিটা অস্ট্রেলিয়ার। ৬৪ ওভারে দুই উইকেট হারিয়ে তারা তুলেছে ২২৫। রান তোলার হার বলে দেয় একই উইকেটে বাংলাদেশের চেয়ে কতটা সাবলীল ব্যাটিং করেছে অজিরা।
সফরকারী দলকে বিপদে ফেলতে অনেক গবেষণা করেই বানানো হয়েছিল উইকেট। কিন্তু ম্যাচ শুরুর আগের তিন-চার দিন উইকেট রোদ না পাওয়ায় লাভবান অস্ট্রেলিয়া। রোদ পড়ার সঙ্গে সঙ্গে উইকেট ব্যাটসম্যানদের পক্ষেই কথা বলছে।
বাংলাদেশের করা ৩০৫ রানের জবাবে দ্বিতীয় দিন শেষে অস্ট্রেলিয়া দুইশ পেরিয়েছে ২ উইকেট হারিয়ে। সকালে লাঞ্চের কিছু আগে থেমেছে বাংলাদেশের ১১৩.২ ওভারের ইনিংস। রান তোলার গড় ২.৬৯। আর অস্ট্রেলিয়ার ৩.৫১। ম্যাচের লাগাম ভালোভাবেই টেনে ধরেছেন ওয়ার্নার ও হ্যান্ডসকম্ব। ওয়ার্নার ৮৮ ও হ্যান্ডসকম্ব ৬৯ রানে অপরাজিত আছেন। অবদান রেখে গেছেন অধিনায়ক স্মিথও। ৫৮ রান করে ফিরেছেন তাইজুলের আর্ম বলে বোল্ড হয়ে।
বাংলাদেশের স্পিনত্রয়ী সাকিব-মিরাজ-তাইজুল মিলে এদিন করেছেন ৫০ ওভার। স্মিথকে ফিরিয়ে সাফল্য পেয়েছেন কেবল তাইজুল। সাকিব-মিরাজের উইকেটের খোঁজে থাকতে থাকতেই দিন পার। মিরাজ অবশ্য একটি সাফল্য পেতে পারতেন। ৭৩ রানে থাকা ওয়ার্নার সুযোগ দিয়েছিলেন, স্টাম্পিংয়ের সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি উইকেটরক্ষক মুশফিক। ডাউন দ্য উইকেটে এসে উড়িয়ে মারতে চেয়েছিলেন ওয়ার্নার। নিচু হওয়া বলটি এই বাঁহাতির ব্যাট ফাঁকি দিয়ে যায় পেছনে। বলের কাছেই হাত যায়নি মুশফিকের। লেগেছে তার প্যাডে।
অথচ এই মুশফিকই বাজপাখির মতো ঝাঁপিয়ে রেনশ’র ক্যাচ তালুবন্দী করে হুংকার ছেড়েছিলেন অজি শিবিরে। মোস্তাফিজের করা প্রথম ওভার আর ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই বাংলাদেশ সাফল্য পায় মুশফিকের ওই দুর্দান্ত ক্যাচে।
শরীরটাকে হাওয়ায় ভাসিয়ে ডানদিকে ছুটে তালুবন্দী করতেই আনন্দের রেশ মাঠ থেকে ছড়িয়ে পড়ে গ্যালারিতে। জায়ান্ট স্ক্রিনে তাকিয়ে নিজের ক্যাচটি দেখেছেন মুশফিকও। উইকেট পেয়ে উল্লাসে মেতে ওঠা মোস্তাফিজও হলেন কিছুটা অবাক, স্পিনারদের স্বর্গে উইকেট পাওয়া তো ভাগ্যেরও ব্যাপার! অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসের ৫ রানের মাথায় রেনশ’কে (৪) ফিরিয়ে যে সূচনা করেছিল বাংলাদেশ, শেষে তা ম্লান করে দিয়েছেন ওয়ার্নার ও হ্যান্ডসকম্ব।
সকালে দুই অপরাজিত মুশফিক ও নাসির থেমেছেন যথাক্রমে ৬৮ ও ৪৫ রানে। অফস্পিনার নায়ন ৩৬.২ ওভার বল করে ৯৪ রান খরচায় নিয়েছেন ৭ উইকেট। মাত্র চতুর্থ বোলার হিসেবে তিনি বাংলাদেশের বিপক্ষে ইনিংসে সাত উইকেট নেয়ার কীর্তিত্ব দেখালেন।









