টেস্ট শেষ হতে হাতে আরও একটি দিন ছিলো। চারদিনেই শেষ হয়ে গেছে একটি টেস্ট ম্যাচ। এই টেস্টে জয়ী হয়েছে একটি দেশ। জিতেছে বাংলাদেশ। আর, প্রতিপক্ষের নাম অস্ট্রেলিয়া। সত্যিই, ওই দেশটির নামের পর আর কোন কথা হতে পারে না। টেস্ট খেলার সুদীর্ঘ গৌরব যে দেশটির। যেখানে একেকজন খেলোয়াড় সৃষ্টি করেছেন পর্বতসম ইতিহাস। সেই ঐতিহাসিক টেস্ট দলকে হারিয়ে মহাকাব্যিক এক ইতিহাসের জন্ম দিল বাংলাদেশ। মিরপুরের হোম অফ ক্রিকেটে আজ তিনটি টেস্ট পয়েন্ট খোয়া গেল মহাপরাক্রমশালী অজিদের। কি দুর্ভাগ্য স্মিথ আর ওয়ার্নারদের! আর সেখানে বাংলাদেশের জন্য টেস্টের পঞ্চম দিনটির প্রয়োজনই পড়লো না। এ বিস্ময়, এ আবেগ, এ পরাবাস্তব অভিজ্ঞতা, এ ভালোবাসার ওপর সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে এর সবটুকুই আসলে নিখাদ বাস্তবতা আর একদল পেশাদার ও মেধাবীর পরিশ্রমের ফসল। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী নিজে মাঠে গিয়েছেন এবং সাকিব-তামিম-মুশফিকদের উৎসাহ যোগাতে এর চেয়ে বেশি কি’ই বা প্রয়োজন ছিল। তিনি আগেও মাঠে গিয়ে উৎসাহ যুগিয়েছেন এবং এটি সত্যিই অনুপ্রেরণার এক অনন্য উদাহরণ। সাকিব জানতেন পুরো বাংলাদেশের মানুষ তাদের সাথে আছে। নইলে অমন লড়াকু অলরাউন্ডার হওয়াটা কঠিন ব্যাপার। সাকিব আল হাসানের ব্যাটিং, বোলিং, শারীরিক ভাষা যেন বলে দিল এই টেস্ট বাংলাদেশ জিততে এসেছে। ব্যক্তিগত রেকর্ড দেখে মনে হয়েছে মামুলি বিষয়। মূল লক্ষ্য ছিলো জয়, যা বাংলাদেশ অর্জন করেছে। কাকতালীয় কোন জয় বাংলাদেশের কাছে ধরা দেয়নি। অস্ট্রেলিয়া পরাভূত হয়েছে। মিরাজ যেমনটি সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন, দ্বিতীয় ইনিংসে সংগ্রহ যাই হোক না কেন, বাংলাদেশ প্রতিপক্ষকে আটকানোর চেষ্টা করবে। এই লড়াকু মনোভাবটাই বাংলাদেশকে একদম বদলে দিয়েছে। ২০১৫ সাল যেমন ছিলো একদিনের ক্রিকেটে বাংলাদেশের উত্থান। ২০১৬-১৭ সালটি বলা চলে টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা। অবশ্য, এর ভেতর চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে সেমিফাইনাল খেলে বাংলাদেশ কোন আন্তর্জাতিক ওয়ান ডে ক্রিকেট টুর্নামেন্টে তার সর্বোচ্চ অর্জনটুকু বয়ে নিয়ে আসতে পেরেছে। নতুন গৌরবের আর ধৈর্যের পরীক্ষায় বাংলাদেশ যেন এগিয়েই চলেছে। যেখানে টেস্ট ক্রিকেট হয়ে উঠেছে নতুন সাফল্যের পালক। আমরা চাই, বাংলাদেশ আরো বেশি টেস্ট খেলার সুযোগ পাক। দশ-এগারো মাস পরপর টেস্ট খেলার সুযোগ পাওয়ার পরও দল ভালো করেছে। আমাদের আশা আরো বেশি টেস্ট খেলবে বাংলাদেশ। দল সত্যিকারের পরিণত হবে তখনই যখন ধারাবাহিকভাবে টেস্ট ম্যাচে সাবলীলতার প্রকাশ ঘটবে। আমাদের চাওয়া, টিম ম্যানেজমেন্ট আর খেলোয়াড়দের যৌথ এবং কার্যকর সমন্বয়ে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল বিশ্বের এক নম্বর দল হয়ে উঠবে। আর, সেজন্য চাই বেশি-বেশি টেস্ট ম্যাচ। অস্ট্রেলিয়া সত্যিই টের পেয়েছে বাংলাদেশ ভেতরে ভেতরে কী উন্নতি করেছে। মাঠের বাইরের নিরাপত্তা শঙ্কা নিয়ে যতো আলোচনা-সমালোচনা ছিল তার জবাব ব্যাটে-বলে মাঠের ভেতরে দিয়ে পুরো অস্ট্রেলিয়া দলটিকে অনিরাপদ আর শঙ্কায় ফেলেছে বাংলাদেশ। এখন তাদের যতো চিন্তা দ্বিতীয় টেস্ট নিয়ে। অস্ট্রেলিয়া হোয়াইট ওয়াশ হবে না তো? অজিদের বিরুদ্ধে আজকের এই জয়ের মাধ্যমে ক্রিকেট বিশ্বকে বিরাট একটি ধাক্কা দিল টাইগাররা। ভালোভাবেই টনক নড়লো সবার। গর্বে বুক ভরলো আমাদের। আর, ঈদের আগেই ঈদের আনন্দে পুরো দেশ ভাসলো আনন্দবন্যায়।








