বাসচাপায় শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার পর থেকে টানা বিক্ষোভ, প্রতিবাদের মধ্যেই অপ্রাপ্তবয়স্ক ও ড্রাইভিং লাইসেন্সবিহীন অবৈধ চালকদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা নিতে বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি-বিআরটিএ এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ-ডিএমপিকে নির্দেশ দিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়।
প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মোঃ নজিবুর রহমানের সভাপতিত্বে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ, বিআরটিএ ও বিআরটিসিসহ সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানকে নিয়ে জরুরি এক বৈঠকের পর এমন নির্দেশনা আসে।
আর যাই হোক, এই নির্দেশনার মাধ্যমে সরকার স্বীকার করে নিল দেশে অপ্রাপ্তবয়স্ক এবং ড্রাইভিং লাইসেন্সবিহীন চালক রয়েছে। যারা দিনের পর দিন বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালিয়ে যাচ্ছে। যাদের কারণে প্রতিদিনই দেশের কোথাও না কোথাও দুর্ঘটনা ঘটছে। যাতে প্রাণ হারাচ্ছে অসংখ্য মানুষ। কেউ কেউ আবার চিরতরে পঙ্গুত্ব বরণ করছে।
রাজধানীর বিভিন্ন রুটে প্রতিদিন যে সহস্রাধিক লেগুনা চলাচল করে, তার বেশির ভাগ চালকই অপ্রাপ্তবয়স্ক। তারা কিন্তু লুকিয়ে বা কোনো রকমের রাখঢাক রেখে গাড়ি চালায় না। কর্তৃপক্ষের নাকের ডগায় প্রকাশ্যেই চালায়। কিন্তু নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের চোখ তাদের দিকে যায় না।
অথচ দীর্ঘদিন ধরেই গণমাধ্যম এ নিয়ে একের পর এক প্রতিবেদন প্রকাশ করে গেছে। তাতে বিন্দুমাত্রও ভ্রুক্ষেপ করেননি দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা। এমনকি কয়েক মাস আগে দুই বাসের মধ্যে চাপা পড়ে হাত হারানো কলেজছাত্র রাজীব হোসেন আর বাসের চাপায় ডান পা হারানো গৃহকর্মী রোজিনার মৃত্যুর পরও তাদের টনক নড়েনি।
শুধু তাই নয়, ওই সময় গোপালগঞ্জের বাসের হেলপার হৃদয়, বগুড়ার শেরপুরে ট্রাক চাপায় হাত হারানো শিশু সুমি এবং রাজধানীতে বাসচাপায় পা হারানো রাসেল সরকারের ঘটনাও তাদের মনে দাগ কাটেনি। উল্টো দায়িত্বশীলদের কেউ কেউ ঘটনার শিকার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেই অভিযোগের আঙ্গুল তুলেছেন। অথচ পরে জানা গেছে, ওই ঘটনাগুলোর পেছনে চালকরাই দায়ী ছিল।
এতকিছুর পরও লক্ষণীয় বিষয় হলো; দুই শিক্ষার্থীর এমন মর্মান্তিক ঘটনার পর ব্যাপক আন্দোলনের মুখে সরকার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করছে। আর এ জন্যই দ্রুততর সময়ের মধ্যে এমন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে এটা যেন শুধু নির্দেশনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থাকে। বাস্তবেও যেন এর প্রতিফল দেখা যায়; সেটাই সকলের চাওয়া।
আরেকটি বিষয় হলো, দুঃখজনক এই ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষোভরত স্কুল-কলেজ শিক্ষার্থীদের কেউ কেউ গাড়ি ভাংচুর এমনকি গাড়িতে অগ্নিসংযোগের মতো নিন্দনীয় কাজের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে। এটা কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। আমরা মনে করি, যে কোনো অন্যায়েরই প্রতিবাদ হবে; কিন্তু তা শান্তিপূর্ণ হওয়াই বাঞ্ছনীয়।








