অনিশ্চয়তার মধ্যেই রয়েছে বাংলাদেশের আসন্ন পাকিস্তান সফর। খেলোয়াড় এবং কোচিং স্টাফদের অনিচ্ছার কারণে সফরে নারাজ বাংলাদেশ। সফর হলেও সেটা কেবল টি-টুয়েন্টির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতে পারে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সূত্রে এমন খবর দিয়েছে ভারতের ইংরেজি দৈনিক ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।
ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশের সিরিজ চলায় বিসিবির অনেক কর্মকর্তাই সেখানে রয়েছেন। রোববার কলকাতায় শেষ হয়েছে সিরিজের ইতিটানা টেস্ট ম্যাচের। যেখানে ইনিংস ব্যবধানে জেতে স্বাগতিকরা।
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের খবর, অল্প সময়ের জন্য পাকিস্তান সফরে যেতে চাইলেও সেখানে লম্বা সময় অবস্থান নিয়ে দলের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে।
বিসিবির এক কর্মকর্তার বরাতে পত্রিকাটি জানাচ্ছে, ‘খেলোয়াড়রা তিন সপ্তাহের বেশি সময় ধরে ট্যুরের জন্য পাকিস্তানে যেতে রাজি নয়। কোচিং স্টাফরা এরইমধ্যে তাদের অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। তিনটি টি-টুয়েন্টি ম্যাচ ঠিক আছে, কারণ সেটা সাত-আট দিনের মধ্যে শেষ হবে। তবে তারা সেখানে ২১ দিনের (তিন সপ্তাহ) জন্য যেতে চান না।’
তিন টি-টুয়েন্টি ও দুই টেস্টের সিরিজ খেলতে ২০২০’র জানুয়ারিতে পাকিস্তানের যাওয়ার সূচি রয়েছে বাংলাদেশের। এরমধ্যে টেস্ট সিরিজ আবার আইসিসির টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ। সফরে না গেলে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট হারাবে বাংলাদেশ।
এই বিষয়ে বিসিবির সেই কর্মকর্তা বলেছেন, ‘যদি আমরা সফরে না যাই, তাহলে আমরা পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডকে (পিসিবি) একটি নিরপেক্ষ ভেন্যুতে সিরিজ আয়োজন করার জন্য অনুরোধ করতে পারি। যদি বিষয়টি আসে, আমরা আশা করছি আইসিসি আমাদের বিষয়টি বিবেচনা করবে।’
বোর্ডের মত অনুযায়ী, এই সফর হলেও এটি কেবল টি-টুয়েন্টিতেই সীমাবদ্ধ থাকতে পারে। বিসিবি এখনও সফরটি নিয়ে কোনো কিছু প্রকাশ করেনি। তাতে অনিশ্চয়তা থেকেই গেছে।
২০০৯ সালে লাহোরে শ্রীলঙ্কা টিম বাসে সন্ত্রাসী হামলার পর প্রায় দশ বছর পাকিস্তান সফর থেকে দূরে থাকে ক্রিকেট দলগুলো। সম্প্রতি সেদেশে সফর করেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও শ্রীলঙ্কা। গত মাসেই সেখানে তিন ম্যাচের টি-টুয়েন্টি সিরিজ খেলেছে লঙ্কানরা। ডিসেম্বরে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলতে পাকিস্তান যাওয়ার কথা রয়েছে তাদের।
গত বছর নিউজিল্যান্ড সফরের সময় ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলা থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পায় বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। তারপর থেকে বিদেশ সফরে আরও বেশি সতর্ক বিসিবি।







