এই পৃথিবী থেকে চলে গিয়ে মানুষ হয়ত আরও প্রিয় আরেক জায়গায় চলে যায়। সেখানে হয়তো পৃথিবীর থেকেও ভালো থাকা যায়। ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণী চিরবিদায় নিয়ে হয়ত তেমন কোথাও চলে গেছেন- এভাবেই বলছিলেন প্রখ্যাত রবীন্দ্র সংগীতশিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা।
মঙ্গলবার (৬ মার্চ) দুপুরে চিকিৎসারত অবস্থায় রাজধানীর একটি হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেছেন স্বনামধন্য ভাস্কর ও মুক্তিযোদ্ধা ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণী। তাঁকে নিয়ে আয়োজিত চ্যানেল আই তারকা কথন এর বিশেষ অনুষ্ঠানে এসেছিলেন রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা। সেখানেই ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণীকে নিয়ে নানা স্মৃতি ভাগ করে নিলেন সবার সাথে।
রেজওয়ানা চৌধুরীর ভাষায়, ‘প্রিয়ভাষিণী ছিলেন নিসর্গে থাকা মানুষ। সেই নিসর্গ থেকে যেন বিদায় নিয়ে চলে গেলেন। প্রকৃতির ব্যাপারে তাঁর অদ্ভুত ভালোবাসা ছিল।’ গতবছর হঠাৎ করে অসুস্থ হয়ে যাবার পর যখন হাসপাতালে ভর্তি হন, তখন তাঁকে দেখতে গিয়েছিলেন বন্যা। তিনি বারবার অভিযোগ করছিলেন হাসপাতালের বদ্ধ ঘর ভালো লাগে না। বদ্ধ ঘর থেকে প্রকৃতিকে উপভোগ করা যায় না, রোদ-বৃষ্টি দেখা যায় না।
রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যার সাথে ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণীর প্রথম আলাপ হয় ১৯৮৬ সালে, ভাস্কর হিসেবে তখনও তেমন একটা পরিচিতি পান নি প্রিয়ভাষিণী। সেবার ভারতের শিল্পী কণিকা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে যশোরে গিয়েছিলেন বন্যা। এয়ারপোর্টে নেমে দুপুরের খাবার খেতে প্রিয়ভাষিণীর বাংলোতে গিয়ে প্রথমেই আবিষ্কার করেন প্রয়াত এই ভাস্করের সৃষ্টিশীলতা। কণিকাকে বরণ করতে প্রিয়ভাষিণী সব গৃহকর্মীকে তৈরি রেখেছিলেন শিউলি ফুলে ডালা হাতে।
এর পরবর্তী সব আপ্যায়নেই রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা দেখেছেন ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণীর নান্দনিকতার ছোঁয়া। তখনও তাঁর বাসায় গাছের ডালের ছোট ছোট ভাস্কর্য ছিল। বাড়ির অপ্রয়োজনীয় নানা জিনিস দিয়ে শিল্পকর্ম করে সাজিয়ে রাখার এ শিল্পের নাম কাটুম কুটুম। রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা এর আগে শান্তি নিকেতনে এ ধরনের কাজ সম্পর্কে জেনেছেন।তবে বাংলাদেশে এ কাজে প্রথম প্রিয়ভাষিণী। তাঁর কাজে যেটা ব্যতিক্রম সেটা হলো জীবনের ছোঁয়া। প্রাণহীন গাছের ডালের সঙ্গে জীবন্ত গাছ রেখে দিতেন। শুকনো কাঠে জীবন দেয়ার চেষ্টা করতেন তিনি।
ভাস্কর্যের যে নতুন ধারা প্রিয়ভাষিণী তৈরি করে গেছেন তা অতুলনীয় বলে মন্তব্য রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যার। জীবনে সংগ্রাম করে বেরিয়ে এসে তিনি খুব সহজে লোকচক্ষুর সামনে শিকার করেছেন। এটি আমাদের সমাজের মেয়েদেরকে উদ্বুদ্ধ করবে সারাজীবন। কীভাবে সহজ কথা সহজ ভাবে বলা যায় এ শিক্ষা তিনি দিয়ে গেছেন গোটা সমাজকে।







