বাড্ডায় চার বছরের শিশু ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা নাড়া দিয়েছে সারাদেশকে। সেই সঙ্গে সামনে এসেছে বগুড়ায় মা-মেয়ের উপর নির্যাতনের কথা। একের পর এক এমন সব ঘটনায় উদ্বিগ্ন সারাদেশ। সেসব নিয়েই এবার ফেসবুকে পোস্ট দিলেন ‘মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন’এর সমন্বয়ক শাহানা হুদা।
ফেসবুকে এক পোস্টে তিনি লিখেছেন, কোন কিছুতে নূন্যতম মনোসংযোগ করতে পারছিনা। বারবার ছোট্ট নয়নতারার মুখটি চোখের সামনে ভেসে উঠছে। ভয়ে কুঁকড়ে উঠছি বাচ্চাটার নিরাপদ বেড়ে ওঠার কথা ভেবে। যখনই কোন শিশুকে দেখি নিপীড়িত হতে তখনই আমার চারপাশের শিশুগুলোর মুখ ভেসে ওঠে। আমাদের ঘরের শিশুরই যদি নিরাপত্তা না থাকে, তাকে যদি পরিবারের ও পরিবারের বাইরের লোকদের দ্বারা যৌন নিপীড়ণের শিকার হতে হয়, তাহলে রাস্তায় দাঁড়িয়ে যে বাচ্চাটি ফুল বিক্রি করছে, সেই বাচ্চাটি যে কতটা ভয়াবহ অবস্থার মধ্যে আছে, তা সহজেই অনুমেয়।
এরপরে শাহানা হুদা লিখেছেন, বগুড়ার ঘটনাটার রেশ থাকতে থাকতেই বাড্ডার ছোট্ট মেয়েটির খবর কানে এল। আামি ভাবতে পারছিনা কতটা অধম ও বিকৃত হলে এমন কাজ করতে পারে কোন ব্যক্তি। অবশ্য কেনইবা ভাবতে পারছিনা। পরপর এরকম ঘটনা ঘটে যাচ্ছে। শিশু থেকে বুড়ি কেউ বাদ যাচ্ছেনা।
রাজনৈতিক পরিচয়ে অনেক অপরাধ করে মাস্তান সন্ত্রাসীরা। টেন্ডারবাজি, চর দখল, নদী দখল, হল দখল, হুমকি-ধামকি, হত্যা, গুম এরকম আারো অনেককিছু। এবার দেখছি ধর্ষণ। পরিবারের নারী সদস্যদের সহায়তায় রাজনৈতিক পরিচয়ে ধর্ষণ। শুধু তা করেই ক্ষান্ত হয়নি, মাথা ন্যাড়া করে গ্রাম ছাড়া করার হুমকি দিয়েছে।

সবশেষে পোস্টে তিনি লিখেছেন, আওয়ামী লীগের উচিত নিজেদের দলের স্বার্থেই এসব অপরাধীকে শাস্তির আওতায় আনা। অবস্থা দিনে দিনে এতটাই ভয়াবহ হয়ে উঠছে যে নারীদের নিজেই নিজেকে বাঁচানোর অস্ত্র হাতে তুলে নিতে হবে। কায়দা শিখতে হবে এসব বর্বর দুর্বৃত্তকে ঘায়েল করার। ঘরকন্যার বদলে বা পাশাপাশি আত্মরক্ষার তালিম নিতে হবে। লজ্জাবতী নারী হয়ে থাকার দিন শেষ। যে আমাকে আঘাত করবে, আমিও তাকে আঘাত করবো। আর শিশুকেও সচেতন করে তুলতে হবে, তার চারপাশ সম্পর্কে, তার চেনা মানুষ সম্পর্কে। ধর্ষণ করাটা অন্য যেকোন অপরাধের চেয়েও জঘন্য ও বড় অপরাধ। কাজেই শাস্তিটাও সেরকম হওয়া উচিৎ। মিনতি করি সবার কাছে ধর্ষক যেই হোক, তাকে প্রতিহত করুন, বয়কট করুন।







