খৎনার জন্য হাসপাতালে অজ্ঞান করা পাঁচ বছরের শিশু আয়ান আহমেদের মৃত্যুর ঘটনায় তার পরিবারকে কেন ৫ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেয়া হবে না এবং সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নেয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।
সেই সাথে শিশু আয়ানের মৃত্যুর ঘটনার তদন্ত করে ৭ দিনের মধ্যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডিজিকে আদালতে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। এছাড়া সারাদেশের কতগুলো অনিবন্ধিত হাসপাতাল আছে তার তালিকা ১ মাসের মধ্যে জমা দিতে বলা হয়েছে।
এসংক্রান্ত রিটের শুনানি শেষে সোমবার বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি মো. আতাবুল্লাহর হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ এই আদেশ দেন। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট এ বি এম শাহজাহান আকন্দ মাসুম। আর রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তুষার কান্তি রায় ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল সেলিম আজাদ।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট এ বি এম শাহজাহান আকন্দ মাসুম জনস্বার্থে রিটটি করেন। রিটে শিশু আয়ানের চিকিৎসায় থাকা চিকিৎসকদের দায়িত্ব অবহেলার অভিযোগে তাদের ডাক্তারি সনদ বাতিল ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা চাওয়া হয়।
গত ৩১ ডিসেম্বর সাঁতারকুলের ইউনাইটেড মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে খৎনা করানোর জন্য আনা হয় আয়ানকে। সেদিন বেলা ৯টায় খৎনা করার জন্য তাকে অজ্ঞান করা হয়। তবে খৎনা করার পর ১১টায়ও জ্ঞান না ফিরলে গুলশানের ইউনাইটেড হাসপাতালে এনে লাইফসাপোর্টে রাখা হয় আয়ানকে। রোববার রাতে তার লাইফ সাপোর্ট খুলে নিয়ে তাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা।
আয়ানের পরিবারের অভিযোগ, আংশিক অচেতন করে খৎনা করানোর কথা থাকলেও চিকিৎসকরা আয়ানকে পুরোপুরি অজ্ঞান করেছিল। অন্যদিকে ইউনাইটেড হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আয়ানের মৃত্যুসনদ দিয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, আয়ানের মৃত্যুর কারণ কার্ডিও-রেসপিরেটরি ফেইলিওর, মাল্টিঅর্গান ফেইলিওর এবং কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট।









