চট্টগ্রামের ম্যাক্স হাসপাতালে ‘ভুল চিকিৎসা ও অবহেলায়’ সাংবাদিক রুবেল খানের মেয়ে রাইফার অকালমৃত্যু হয়েছে দাবি করেছেন কক্সবাজার সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আবু তাহের চৌধুরী।
তিনি বলেন: আর যেন ভুল চিকিৎসার কারণে কোন মায়ের বুক খালি না হয়। কর্তৃপক্ষের অবহেলায় আর কোন বাবাকে যেন রাস্তায় দাঁড়িয়ে চিৎকার করে কাঁদতে না হয়। ভবিষ্যতে শিশুদের অপমৃত্যুর হাত থেকে বাঁচাতেই রাইফা হত্যার বিচার হওয়া জরুরি।
শুক্রবার বেলা ১২ টায় কক্সবাজার প্রেসক্লাবের সামনে রাইফা হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন: সরকারি নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে গড়ে তোলা এই হাসপাতাল একটি মৃত্যুকূপ। এখানে অতীতে ভুল চিকিৎসা ও অবহেলায় অনেক রোগীর অকালমৃত্যু হয়েছে। তাই অচিরেই হাসপাতালটি বন্ধ করতে হবে।
কক্সবাজার সাংবাদিক ইউনিয়ন আয়োজিত মানববন্ধনে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক জাহেদ সরওয়ার সোহেল বলেন: চিকিৎসক ও সেবিকার ভুল এবং হাসপাতালেই অবহেলায় একটি শিশুর অকালমৃত্যু হল। এ নিয়ে সকলের দুঃখ প্রকাশ করার কথা। সমবেদনা জানিয়ে সন্তান হারা বাবা-মায়ের পাশে দাঁড়ানোর কথা। অথচ তা না করে ম্যাক্স হাসপাতালের যোগসাজসে কিছু ডাক্তার এই মৃত্যু নিয়ে নানা বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। সাংবাদিকদের চিকিৎসা বন্ধ করার হুমকি দেওয়া হয়েছে। তারা মানুষ কিনা এ নিয়ে আমার সন্দেহ আছে। কত বড় নির্লজ্জ হলে একজন মানুষ খুনীর পক্ষে কথা বলতে পারে। আমরা এমন চিকিৎসকের বিচার চাই যারা রাইফার মৃত্যু নিয়ে ষড়যন্ত্র করছে।
কক্সবাজার সাংবাদিক ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক দীপক শর্মা দীপুর সঞ্চালনায় বিইউএফজে কেন্দ্রীয় সদস্য আয়াছুর রহমান বলেন: রাইফা আমাদের সন্তান। আমরা আমাদের সন্তান হত্যার বিচার পেয়েই বাড়ি ফিরব। যেসব চিকিৎসক হুমকি দিয়েছেন আপনারা সাংবাদিকদের চিকিৎসা করবেন না তাদের বলতে চাই, মানবসেবা করার ব্রত নিয়ে যদি এ পেশায় থাকতে পারেন তবে থাকুন। নতুবা সসম্মানে বিদায় নেন।
কক্সবাজার সাংবাদিক ইউনিয়েনের সিনিয়র সদস্য এ.এইচ.এম এরশাদ বলেন: আপনারা প্রাইভেটে চিকিৎসা দেওয়ার জন্য কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকেন, গ্রামে বদলি হয়ে যান না। কিন্তু সেই আপনারা মানবতার কথা বলেন, সেবার কথা বলে সরকারের কাছ থেকে নানা সুবিধা আদায় করে নেন। তাই আপনাদের বলছি, দয়া করে মন মানসিকতা বদলান। না হয় পস্তাতে হবে একদিন। কিছু কিছু চিকিৎসক রোগীকে সেবার বদলে তাদের পকেটের দিকে তাকিয়ে থাকে। কন্ট্রাকে চিকিৎসা দেয়। এমন মানসিকতা পরিহার করুন।
প্রতিবাদ সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন কক্সবাজার সাংবাদিক ইউনিয়নের কার্যকরী কমিটির সদস্য ফরহাদ ইকবাল ও আহসান সুমন। এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র সাংবাদিক বিশ্বজিৎ সেন, দৈনিক ইত্তেফাকের জেলা প্রতিনিধি জুনায়েদ, চ্যানেল আইয়ের স্টাফ রিপোর্টার সরওয়ার আজম মানিক, ভোরের কাগজের কক্সবাজার প্রতিনিধি সৈয়দুল কাদের, কক্সবাজার প্রতিদিন এর সম্পাদক সুরেশ কান্তি বিপ্লব, কলকাতা টেলিভিশনের জেলা প্রতিনিধি শাহাজাহান চৌধুরী, একাত্তর টেলিভিশনের কামরুল ইসলাম, ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশনের জেলা প্রতিনিধি তৌফিকুল ইসলাম, নিউজ ২৪ এর কক্সবাজার প্রতিনিধি ইসমত আরা, জিটিভির কক্সবাজার প্রতিনিধি ওমর ফারুক হিরু, একুশে টিভির আব্দুল আজিজ, সকালের কক্সবাজারের বার্তা সম্পাদক রাশেদুল মজিদ, দৈনন্দিন এর নির্বাহী সম্পাদক শফি, সাংবাদিক আমিনুল ইসলাম, চঞ্চল দাশ, আরফাতুল মজিদ ও আজিম নিহাদ প্রমুখ।







