একমাস পর দেশে ফিরে প্রধানমন্ত্রী, সরকার, বিএনপি এবং জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন বিএনপি নেতা সালাহ উদ্দিন আহমেদের স্ত্রী হাসিনা আহমেদ। চ্যানেল আই অনলাইনের কাছে সালাহ উদ্দিনের এখনকার দিনকাল, আইনি লড়াই এবং পরিবারের পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
তিনি জানান, কাজ ছাড়া একদমই গেস্ট হাউস থেকে বের হন না সালাহ উদ্দিন আহমেদ। আদালতের আদেশে চিকিৎসার জন্য যে হাসপাতালে ছিলেন, জামিন পেয়ে প্রথম কয়েকদিন সেই নেগরিমস হাসপালের কেবিনেই ছিলেন তিনি। পরে স্ত্রী হাসিনা আহমেদসহ ওঠেন শিলং শহরে তিন তারকা মানের একটি গেস্ট হাউসে।
প্রায় দু’ মাস নিখোঁজ থাকার পর নিজেকে শিলং-এ আবিস্কার করে প্রথম দিকে বেশ অসুস্থ ছিলেন বাংলাদেশের সাবেক যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী। এখন চিকিৎসায় ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব।
স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে প্রায় ২০ কেজি ওজন কমে গিয়েছিলো তার। এখন সেটা পুনরুদ্ধারের চেষ্ট করছেন। তবে কিডনি সমস্যা, চর্মরোগ এবং ব্যাক পেইন এর মতো কিছু সমস্যা এখনও জেকে বসে আছে তার উপর।
ব্যাক পেইনের জন্য একজন ফিজিও থেরাপিস্ট গেস্ট হাউসে আসেন একদিন পর পর। দুই সপ্তাহ পর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে আবার নেগরিমস হাসপাতালে যাবেন সালাহ উদ্দিন আহমেদ।
মূলত: নামাজ আদায়, কোরআন তেলাওয়াত এবং বই পড়েই শিলং-এ সময় কাঠাচ্ছেন তিনি। বাংলাদেশ থেকে তার নির্বাচনী এলাকার অনেকেই শিলং গিয়ে তার সঙ্গে দেখা করছেন। তাদের সঙ্গে দেখা সাক্ষাৎ করে এলাকা এবং দেশের খোঁজ খবর নেয়া তার প্রতিদিনের কাজের একটি অংশ।
নিখোঁজ স্বামীর সন্ধান পাওয়ার পর গত ১৭ মে ভারতের শিলং যান বিএনপি নেতা সালাহ উদ্দিন আহমেদের স্ত্রী হাসিনা আহমেদ। প্রায় এক মাস সেখানে থাকার পর শুক্রবার রাতে দেশে ফেরেন তিনি।
সকালে গুলশানে নিজের বাসায় চ্যানেল আই অনলাইনের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ১৮ মে রাতে স্বামীর সঙ্গে প্রথম সাক্ষাতে কান্নাই ছিল বেশি। বাবা হিসেবে প্রথমেই জানতে চান কেমন আছে তার সন্তানেরা। দেশ এবং দেশের মানুষের খোঁজ নিয়েছেন স্ত্রীর সঙ্গে প্রথম সাক্ষাতের পনেরো মিনিটেই।
জামিন পেলেও আদালতের আদেশে ৭ দিন পর পর আদালতে হাজিরা দিতে যাচ্ছেন তিনি। সঙ্গে থাকছেন আইনজীবী এবং বাংলাদেশ থেকে যাওয়া আত্মীয় স্বজন এবং দলের নেতারা।
আদালতের বাইরেও সালাহ উদ্দিন আহমেদকে প্রায়ই যেতে হয় উকিল এস পি মাহন্তর চেম্বারে। পুলিশ সুপারের সঙ্গেও দেখা করতে যান মাঝেমধ্যে।
হাসিনা আহমেদ জানালেন, সালাউদ্দিন তাকে বলেছেন, সকলের দোয়াতেই তিনি জীবন ফেরত পেয়েছেন। শিলং পুলিশের কাছে যাওয়ার পর প্রথমে পাগল ভেবে তারা তাকে মানসিক হাসপালে পাঠালে দেশে একটি ফোন করার জন্য তাকে দুদিন অপেক্ষা করতে হয়েছে।
সালাহ উদ্দিন বাংলাদেশের ওয়েবসাইটে গিয়ে তার সম্পর্কে খোঁজ খবর নিতেও চিকিৎসকদের অনুরোধ জানান। মানসিক হাসপাতালের ডাক্তারের অনুরোধে পরে ওয়েবসাইট দেখে সালাহ উদ্দিন সম্পর্কে নিশ্চিত হয় শিলং পুলিশ এবং প্রশাসন।
তার স্ত্রী বলেছেন, সালাহউদ্দিন সবসময় দেশে ফিরতে চান। আবার তার উন্নত চিকিৎসাও জরুরি। কিন্তু সবকিছু নির্ভর করছে আদালতের উপর। তাকে সিঙ্গাপুর নিয়ে যাওয়ার বিষয়টিও নির্ভর করছে ভারতের আদালতের উপর।
সালাউদ্দিন আহমেদ মনে করেন তার দল বিশেষ করে দলের চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া এবং সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব তারেক রহমান তার জন্য অনেক কিছু করেছেন।
আর হাসিনা আহমেদ কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সরকার এবং দেশবাসীর প্রতি। এই অবস্থা থেকে উত্তরণে প্রধানমন্ত্রীর আরো সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি।
মালয়েশিয়ায় পড়াশোনা করা বড় মেয়ে দেশে ফিরলে দেশে থাকা আরো দুই সন্তানকে নিয়ে খুব শিগগির আবার শিলং যাবেন হাসিনা আহমেদ।







