বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় সমস্যা নিয়ে ফেসবুকে লিখেছেন শিক্ষক ও লেখক হাসিম উদ্দিন আহমেদ। তিনি ফেসবুকে লিখেছেন,
“শিক্ষা নিয়ে কোন আলোচনায় গেলেই ‘শিক্ষার মান’ প্রসঙ্গটি অবধারিতভাবে সামনে চলে আসে।
শিক্ষার মান নিয়ে যারা ভাবেন, কথা বলেন তাদের ভাবনায় আরো সংযোজনের উদ্দেশ্যে এই পোস্টে কিছু তথ্য উপস্থাপন করবো।
শিক্ষা গ্রহণ কিংবা প্রদানের সবচেয়ে উত্তম স্থান হিসেবে এখনো শ্রেণীকক্ষ’র সমকক্ষ অন্য কিছু হতে পারেনি। একটি শ্রেণীকক্ষের পরিসর অবশ্যই সুচিন্তার সমন্বয়ে পরিকল্পিত হতে হবে। সংগত কারণেই একটি আদর্শ শ্রেণীকক্ষে শিক্ষার্থীর আয়োজন অবশ্যই নির্ধারিত সংখ্যার ভিত্তিতে সীমিত হওয়া বাঞ্ছনীয়।
শ্রেণী কক্ষ যদি শিক্ষক শিক্ষার্থীর মিথষ্ক্রিয়ার কেন্দ্রবিন্দু না হতে পারে, তাহলে এখানে আর যাই হোক ‘শিক্ষা’ হতে পারে না।
একজন শিক্ষককে ইন্ডিভিজ্যুয়ালি শিক্ষার্থীর মনোজাগতিক চিন্তার অংশীদার হতে হয়। শিক্ষার্থীর একান্ত ব্যক্তিগত চিন্তাশক্তির বিশ্বস্ত টেক কেয়ার ছাড়া নিজেকে ভালো শিক্ষক হিসেবে দাঁড় করানো অসম্ভব।
বলাই বাহুল্য হবে, মানসম্পন্ন শিক্ষার জন্য ভালো শিক্ষক কেবল অপরিহার্য নয় পূর্বশর্ত। কিন্তু ভালো শিক্ষক দিয়েও অনেক সময় ভালো শিক্ষা দেয়া সম্ভব হয়না যদি শিক্ষক শিক্ষার্থীর অনুপাত আদর্শিক না হয়।
বাংলাদেশে প্রাথমিক মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরে এমন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পাওয়া দুষ্কর হবে, যেখানে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অনুপাত আদর্শিক। আমার জানামতে অধিকাংশ স্কুলে প্রতিটি শ্রেণী শাখায় শতাধিক শিক্ষার্থী পাঠগ্রহণ (?) করছে।
আমার স্কুলের কথা যদি বলি তাহলে এ চিত্রটা হবে এরকমঃ-
৬ষ্ট থেকে ১০ম শ্রেণীতে প্রত্যেকটি একটি করে অতিরিক্ত শ্রেণীশাখা নিয়ে মোট শিক্ষার্থী প্রায় ১হাজার। গড়ে প্রতিশাখায় ১শত জন করে। এই শিক্ষার্থীর জন্য সরকার কর্তৃক নির্ধারিত শিক্ষক রয়েছেন ১৫ জন।
একটি ক্লাসে যেখানে চল্লিশজন শিক্ষার্থী থাকার কথা, তা না হয়ে যখন শতাধিক শিক্ষার্থী নিয়ে শ্রেণীকার্যক্রম চালাতে হয়, মানসম্পন্ন শিক্ষার ধারণাটি কেবল পুঁথিগত হয়ে যায়, বাস্তবোচিত হয় না।
যদি কেউ প্রশ্ন রাখেন, এতো শিক্ষার্থী ভর্তি করেন কেন? তাদের কাছে পালটা প্রশ্ন হবে, আপনার এলাকায় কত দীর্ঘ সময় ধরে আপনি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় আছেন?
এই যদি হয় আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার অবস্থা, তাহলে আপনি আমি শিক্ষার মান নিয়ে এতো লাফালাফি করি কিভাবে, বলুনতো?”










