এবারের শিক্ষা দিবসের প্রতিপাদ্য যাই
হোক, এর মূল লক্ষ্য শিক্ষার সার্বজনীন অধিকার নিশ্চিত করা। একটি প্রাগ্রসর
শিক্ষানীতির আলোকে জাতিকে বিজ্ঞানমনস্ক হতে উদ্বুদ্ধ করা। শিক্ষা যেহেতু
মৌলিক-মানবিক অধিকারসমুহের অন্যতম তাই স্বাধীনতার দীর্ঘ ৪৫ বছর পর এখন এ
প্রশ্ন উঠা মোটেই অসঙ্গত হবে না যে,আমাদের সামগ্রিক শিক্ষার লক্ষ্য সেদিকে
অগ্রসর হচ্ছে কী না? শিক্ষা নিয়ে যারা ভাবেন, মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা
যাচ্ছে কিনা সে ভাবনা তাদের ‘ভাবিত’ করবেই।
এ কথা অনস্বীকার্য, সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেও আধুনিক শিক্ষার যথেষ্ট সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে এখন। শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ তথা ডিজিটালাইজড শিক্ষা এখন আমাদের বাস্তবতা। তবে শিক্ষার আধুনিকীকরণ আর মানসম্মত শিক্ষা এক কথা নয়।
শিক্ষার মান নিয়ে এখনো বিরাট প্রশ্ন রয়েছে। অনেকের মতে বিগত কয়েক বছরে সামগ্রিকভাবে শিক্ষার মানের ব্যাপক ধ্বস হয়েছে। এর জন্য সরকারের ‘রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত’ দায়ী বলে মনে করেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা। বলাই বাহুল্য, খুবই দৃষ্টিকটুভাবে সরকার পাসের হার বাড়ানোতে অধিক মনোযোগ ও সময় ব্যয় করছে। 
পাসের হার বাড়ানো মোটেও দোষের কিছু নয়। কিন্তু যেন তেন ভাবে পাবলিক পরীক্ষার পাসের হার বাড়ানোর সরকারি প্রবণতা গোপন রাখা যাচ্ছেনা। এর প্রভাবেই বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়া, পরীক্ষার উত্তরপত্রে নম্বর বেশি দেওয়ার কর্তৃপক্ষের গোপন নির্দেশণার কথা ব্যাপকভাবে শুনা যায়। তাছাড়া, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের অযাচিত প্রভাব ও হস্তক্ষেপ শিক্ষার মানকে দারুণভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
কেবল শিক্ষামন্ত্রণালয় তথা একজন শিক্ষামন্ত্রী ও শিক্ষা সচিবের চেষ্টায় জাতির মেরুদন্ড শিক্ষাকে প্রত্যাশার মানদন্ডে উন্নীত করা যাবে না। এর জন্য প্রয়োজন- সুশিক্ষার তাগিদ, রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত এবং সরকারী উদ্দ্যোগ। সরকারের সবচেয়ে অগ্রাধিকার বিবেচনয়ায় থাকতে হবে শিক্ষা।বর্তমান সরকার শিক্ষা নিয়ে অনেক কাজ করছে, ভাবছেও অনেক কিন্তু শিক্ষাই সবচেয়ে প্রাধান্য পাচ্ছে এমন বলা যাবেনা।
আমাদের একটি ভালো শিক্ষানীতি হয়েছে । কিন্তু এগুলোকে কেবল অক্ষরবন্ধি না করে শক্তহাতে বাস্তবায়নের নেতৃত্ব দিতে হবে।
প্রায়ই দেখা যায়, শিক্ষা প্রদানে যারা নিয়োজিত সেইসব শিক্ষকদের ‘উচিত শিক্ষা’ দিতে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বিভিন্ন ধরণের নিবর্তনমূলক আইনের খরগ ঝুলিয়ে রাখেন। ভয়ভীতি দেখিয়ে শিক্ষারমত অতি গুরুত্বপূর্ণ কাজটি সম্পন্ন হওয়ার কথা নয়। ভালো ও মেধাবীরা যাতে শিক্ষকতায় আসে, আসার মতো উৎসাহ পায় সে পদক্ষেপ নিতে হবে। একটি মানসম্পন্ন শিক্ষক নিয়োগ পদ্ধতি চালু করা প্রয়োজন সবার আগে। এর ব্যত্যয় হলে, শিক্ষা নিয়ে সমস্ত আয়োজন ব্যর্থ হবে, এতে কোন সন্দেহ নেই।
জাতীয় শিক্ষা দিবসকে সামনে রেখে সবশেষে যোগ করতে চাই, জাতিকে ‘শিক্ষা দেয়া’ নয়, ‘শিক্ষিত’ করার প্রয়াসে আমাদের যাবতীয় পরিকল্পনা, উদ্দ্যোগ এবং প্রচেষ্টা সফল হোক ।
(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)







