জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার দক্ষিণ কানুপুর গ্রামের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ছাত্র আব্দুর রহিম হত্যা মামলায় সেনা ও বিজিবি সদস্যসহ ৭ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত। এছাড়াও তাদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।
রোববার (২৪ মার্চ) দুপুরে জয়পুরহাটের অতিরিক্ত দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক নুরুল ইসলাম দুইজন আসামীর উপস্থিতিতে ও পাঁচজনের অনুপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন।
সাজাপ্রাপ্তরা হলেন, জেলার আক্কেলপুর উপজেলার বেগুনবাড়ি গ্রামের মৃত হযরত আলী সরদারের ছেলে ফরহাদ আলী সরদার ঝন্টু, দেলোয়ার হোসেনের ছেলে মাহমুদ তারিক, ওসমান আলী সরদারের ছেলে আ: গফুর, মামুনুর রশিদের ছেলে সোহাগ, জাহাঙ্গীর আলম মন্ডলের ছেলে তৌফিকুল ইসলাম তৌফিক, মৃত মনির উদ্দিন সরদারের ছেলে ডুয়েল বখতিয়ার ও দেলোয়ার হোসেনের ছেলে হাসিবুল হাসান হাসিবুল।
এদের মধ্যে ডুয়েল বখতিয়ার সেনা সদস্য, তিনি ২২ ব্যাটালিয়ন ঢাকা সেনানিবাসের নায়েব সুবেদার এবং হাসিবুল হাসান হাসিবুল বিজিবি সদস্য, তিনি ১৯ রাইফেল ব্যাটালিয়নের সিপাহি পদে কর্মরত।
মামলা সুত্রে জানা যায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আব্দুর রহিম ২০০০ সালের ৭ জানুয়ারি ঈদুল ফিতরের ঈদ উদযাপনে বিকাল ৫টার দিকে ঢাকা থেকে নিজ বাড়ি জেলার আক্কেলপুরে উপজেলার দক্ষিণ কানুপুর গ্রামে আসেন। ১১ জানুয়ারি বিকাল ৪টার দিকে বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেনি। পরদিন ১২ জানুয়ারি সকাল ৭টার দিকে দক্ষিণ কানুপুর গ্রামের পাশে একটি পুকুরপাড়ে তার মরদেহ দেখতে পায় স্থানীয়রা । খবর পেয়ে রহিমের মরদেহ সনাক্ত করেন পরিবারের লোকজন। এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই আসাদুল ইসলাম বাবুল বাদী হয়ে ওইদিনই বেগুনবাড়ি গ্রামের ঝন্টু, তৌফিকুল ইসলাম ও জুয়েলের নাম উল্লেখ করে আক্কেলপুর থানায় মামলা করেন।
পরবর্তীতে ২০০৭ সালের ২২ অক্টোবর তৎকালীন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ওসি মাহাবুব উল আলম আসামীদের স্বীকারোক্তি ও তদন্তে ৭জনের নামে অভিযোগ পত্র দাখিল করেন। দীর্ঘশুনানি শেষে আজ দুই আসামীর উপস্থিতিতে ও পাঁচজনের অনুপস্থিতিতে আদালতের বিচারক এ রায় দেন।
মামলার আসামী পক্ষের আইনজীবী ছিলেন সরকারি কৌঁসুলি নৃপেন্দ্র নাথ মন্ডল পিপি, গকুল চন্দ্র মন্ডল, এপিপি এবং আসামী পক্ষের আইনজীবী ছিলেন মিজানুর রহমান।








