চলতি মাসেই দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। করোনা মহামারির প্রথম ধাপে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়ার পর ধাপে ধাপে মাসের পর মাস বন্ধ ছিল। একপর্যায়ে সীমিত আকারে খুলে দেয়া হলেও ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্ট ছড়িয়ে পড়ায় সর্বশেষ গত ২১ জানুয়ারি আবারও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করা হয়।
শিক্ষার্থীদের জীবন রক্ষার জন্য প্রতিষ্ঠান বন্ধ করা হয়েছিল যৌক্তিক কারণেই। আর অনলাইন কার্যক্রমে শিক্ষা ব্যবস্থা কিছুটা টিকে থাকলেও দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত। ইউনিসেফসহ নানা শিক্ষা গবেষণা প্রতিষ্ঠানের নানা জরিপে সেসব চিত্র উঠে এসেছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক করতে যথেষ্ট আন্তরিক বলে আমাদের মনে হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রীও তাদের বিভিন্ন সময়ের বক্তব্যে শিক্ষা কার্যক্রমের বিষয়ে তাদের চেষ্টা ও বাস্তবতার উদাহরণ তুলে ধরেছেন। সে পথেই আবারও খুলতে যাচ্ছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
করোনা মহামারির মধ্যে বাংলাদেশ একটি নেতিবাচক রেকর্ড করেছে। ইউনিসেফের জরিপে, টানা ৬১ সপ্তাহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখে ওই রেকর্ডটি যৌথভাবে ভেনেজুয়েলার সঙ্গে এখন বাংলাদেশের। এত দীর্ঘসময় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় দেশের শিক্ষাখাত ও শিক্ষার্থীদের যে চরম ক্ষতি হয়েছে, তার প্রভাব দীর্ঘ কয়েকযুগে হয়তো কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে না।
করোনাতে বিশ্বের সবচেয়ে আক্রান্ত ও মৃত্যু দেখেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ইউনিসেফের ওই জরিপে দেখা গেছে, এতো প্রতিকূলতার মধ্যেও যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করা হয়নি। প্রতিবেশি দেশ ভারতেও ২৫ সপ্তাহের মতো বন্ধ ছিল। বিশ্বের উন্নত দেশের পাশাপাশি আফ্রিকার চরম অনুন্নত দেশগুলোও কোনো না কোনো উপায়ে চালু রেখেছে শিক্ষা কার্যক্রম।
আরেকটি বিষয় লক্ষ্যণীয়, আমাদের দেশে শিক্ষা খাতে শহর-গ্রাম, ধনী-গরীবসহ নানা পর্যায়ে বৈষম্য বেশ প্রবল। বিগত প্রায় ২ বছরের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, শহরের শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ ও ইন্টারনেট সুবিধার মধ্যে অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম অনেকটাই স্বাভাবিক ছিল। কিন্তু গ্রাম পর্যায়ে বিদ্যুত সুবিধা, ইন্টারনেটের স্পিড, স্মার্টফোন-কম্পিউটারের অভাব ও আনুষঙ্গিক খরচের কারণে শিক্ষার্থীদের বিরাট অংশ শিক্ষা বঞ্চিত।
উপরোক্ত বিষয়গুলো মাথায় রেখে আগামীতে শিক্ষা কার্যক্রম জোরদার করা উচিত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো খুলে গেলে। সেইসঙ্গে যেকোন করোনা পরিস্থিতিতে বিশেষ অবস্থায় হলেও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চালু রাখা দরকার। এছাড়া আগামী অর্থবছরের বাজেটে শিক্ষাখাতে বিশেষ বরাদ্দের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশ ও শিক্ষা কার্যক্রম এগিয়ে নেয়া যেতে পারে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে মনোযোগী হবেন বলে আমাদের আশাবাদ।








