শাহীনা বেঁচে থাকলে স্কুলে যেতে পারত রবিন
রানা প্লাজা ধসের পাঁচ বছর পূর্ণ হল। বাংলাদেশের বুকে এই দুর্ঘটনা শুধু একটি ভবন ধসের ইতিহাস নয়। এটি জীবনের আকাঙ্খাগুলো না মেটার একটি সুদীর্ঘ ইতিহাস। বুকের ভেতরে গভীর ক্ষত আর অতৃপ্তির বড় কারণ। মানবতা, মানুষ আর যাপিত জীবনে নিহতদের পরিবারের সদস্যদের জন্য এক দীর্ঘস্থায়ী ধস।
ভিডিও প্রতিবেদনের বিস্তারিত তথ্য ও প্রাসঙ্গিক বর্ণনা নিচে পড়ুন।
রবিন। বয়স ৭। স্কুলে পড়তো কিছুদিন আগেও। এখন আর তা এগিয়ে নিতে পারছেন না ওর বড় খালা আছিয়া খাতুন। জীবনের এই যুদ্ধে রবিনকে যে এখনই নেমে পড়তে হয়েছে, তা এই শিশু বুঝতে পারছে না। এর চেয়েও কঠিন সত্য সে জানে না। তার মা শাহীনা যে ৫ বছর আগে তাকে ছেড়ে চলে গিয়েছে। আর, জন্মের এক বছর পরেই রবিনের বাবা মারা যায়। ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল, রানা প্লাজা ধসের পর ধ্বংসস্তূপের নীচে আটকে ছিল শাহীনা। তখনও জীবনের সাথে লড়াই করে যাচ্ছিল মনের সাহসে। ফায়ার সার্ভিস অনেক চেষ্টা করেও তাকে উদ্ধার করতে পারেনি। ধ্বংসস্তূপের নীচে মারা যান শাহীনা। ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ রবিনের পড়াশোনার খরচ চালিয়ে যাচ্ছিল, কিন্তু এখন আছিয়া খাতুন বলছেন, রবিনের লেখাপড়া চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ তিনি আর পাচ্ছেন না। তিনি বলছেন, তার সন্তানের মতোই তিনি বড় করছেন রবিনকে। শুধু লেখাপড়ার খরচটুকু দিতে না পারার কারণে এখন রবিনের স্কুল যাওয়া বন্ধ। রবিন জানে তার আম্মু হচ্ছেন আছিয়া খাতুন। মায়ের অভাব রবিনকে টের পেতে দেয়নি আছিয়া খাতুন। রবিন চ্যানেল আই অনলাইনের ক্যামেরায় বলে, সে স্কুলে যেতে চায়।
নির্মাণ: ওবায়দুল হক তুহিন
অ্যানিমেশন ও গ্রাফিক্স: মুহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম






