ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘খ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে
আজ সোমবার। হতাশার হলেও সেখানে পাসের হার মাত্র ১১.৪৩ শতাংশ। কিন্তু যারা
পাস করেনি বা পাস করার পরও ভর্তির সুযোগ পাবেন না তাদের হতাশার কারণ নেই
বলে মনে করেন সদ্য অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডির জন্য দুইটি কোর্সে
স্কলারশিপ পাওয়া আমিনুল ইসলাম।
ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসে তিনি লিখেছেন: “আমার অনেক দিনের ইচ্ছে ছিলো ইংল্যান্ডের অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটিতে পড়াশুনা করবো। সুইডেনের লূন্ড ইউনিভার্সিটি’তে যখন মাস্টার্স করার জন্য আসি, তখন মনে হচ্ছিলো ঠিক পথেই এগুচ্ছি। লুন্ড ইউনিভার্সিটি বরাবর’ই পৃথিবীর সেরা ১০০ ইউনিভার্সিটির তালিকায় থাকে। অর্থাৎ পৃথিবীর “এলিট” ইউনিভার্সিটিগুলোর তালিকায় এই ইউনিভার্সিটির নাম আছে।
তো লুণ্ড ইউনিভার্সিটি থেকে মাস্টার্স শেষ করে পিএচডি’র জন্য আবেদন শুরু করলাম। স্বাভাবিক ভাবেই শুরু করেছি অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটিতে আবেদন করে। প্রথম বার আবেদন করলাম, ওরা বাদ দিয়ে দিয়ে দিলো। ভাবলাম মনে হয় অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি আমার জন্য না। তাই নেদারল্যান্ডসের লাইডেন ইউনিভার্সিটিতে স্কলারশিপ পেয়ে পিএচডি শুরু করলাম। এই ইউনিভার্সিটিটাও বরাবর’ই পৃথিবীর সেরা ৫০/৬০ ইউনিভার্সিটির তালিকায় থাকে।
কিন্তু আমার মন যে পড়ে আছে সেই অক্সফোর্ডে! পরের বছর আবার আবেদন করলাম। এইবার ওরা আমাকে পিএচডি’র জন্য এডমিশন দিলো। এডমিশন পেলেও শেষ পর্যন্ত স্কলারশিপ পেলাম না। তাই আর যাইনি। কারণ নিজ খরচে পড়াশুনা করা আমার পক্ষে অন্তত সম্ভব না। এখানে বলে রাখি, অক্সফোর্ডে পিএচডি এডমিশন পাওয়াও অনেক কঠিন (অনেক, অনেক কঠিন!)
নেদারল্যান্ডসে পিএচডি করতে আর ভালো লাগছিলো না; সুইডেনে ফেরত আসলাম, সেখান থেকে দেশে গিয়ে কিছুদিন শিক্ষকতা করে আবার এসে পিএচডি শুরু করলাম। কিন্তু অক্সফোর্ডে পড়াশুনা করার ইচ্ছে আমার থেকেই গেলো। শেষমেশ আমার পিএচডি’র দুটো কোর্স করার জন্য অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটিতে যাবো বলে ঠিক করলাম। আবেদন করালাম এবং মজার বিষয় হচ্ছে হয়েও গেলো স্কলারশিপসহ।
আমি শেষ পর্যন্ত আমার অক্সফোর্ডে পড়ার স্বপ্ন পূরণ করতে পেরেছি। এই যেমন আমার এখনকার স্বপ্ন হচ্ছে গবেষণা করতে করতে একটা সময় আবার অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটিতে যাবো পোস্ট ডক্টরেট হিসেবে কিংবা গবেষক হিসেবে। এই স্বপ্ন পূরণ হবে কি হবে না, সেটা পরে দেখা যাবে। অন্তত একটা লক্ষ্য তো স্থির করেছি।
নিজের বিষয়ে এতো কথা বলার কারণ হচ্ছে আজ ঢাকা ইউনিভার্সিটির “খ” ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার রেজাল্ট দিয়েছে। ঢাকা ইউনিভার্সিটি নিঃসন্দেহে আমাদের দেশের সেরা ইউনিভার্সিটি। কিন্তু সেই ইউনিভার্সিটি’তে নিশ্চয় সবাই চান্স পাবে না। সেটা সম্ভবও না। মাত্র ২ থেকে আড়াই হাজার ছাত্র ছাত্রী হয়তো শেষমেশ চান্স পেয়েছে। বাদ বাকীদের অন্য কোথাও পড়তে হবে।
যারা চান্স পায়নি, তাদের থেমে থাকার কোন সুযোগ নেই। অন্য যে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা করার সুযোগ হবে, সেখনেই পড়তে হবে। সেই সাথে নিজের লক্ষ্য স্থির রাখতে হবে। তাহলে একদিন না একদিন সাফল্য আসবেই। আমি নিজে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা করিনি। আমি পড়াশুনা করেছি সিলেটের শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ে।
সেই সিলেট থেকে পড়াশুনা করে যদি আমি এতোসব জায়গায় শেষমেশ পড়াশুনা করতে পারি, তবে তোমরাও যদি তোমাদের লক্ষ্যে স্থির থাকো, এক সময় না এক সময় ঠিক’ই সেখনে পৌঁছাতে পারবে।”









