এক সময় অন্যের সাহায্য নিয়ে পথ চলা আব্দুল করিম এখন একটি উপজেলার ইউএনও হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। হয়ে উঠেছেন অনুপ্রেরণার উৎস।
ঠাকুরগাঁয়ের হরিপুর উপজেলার নির্বাহী অফিসার আব্দুল করিম। বাড়ি রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার কাশিমপুর গ্রামে।
ছোট বেলায় পোলিও রোগে আক্রান্ত হয়ে এক পায়ের সমস্যা হওয়ায় হাঁটা চলা করতে পারতেন না। মা এবং ভাই-বোনের কোলে চড়েই স্কুলে যেতেন, মোকাবিলা করেছেন নানা প্রতিকুলতা। তারপরও থেমে থাকেন নি। পরিবারসহ সবার সহযোগীতায় কাশিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করে কাশিমপুর এ.কে ফজলুল হক উচ্চ বিদ্যালয় থেকে প্রথম বিভাগে এসএসসি পাশ করেন তিনি।
পরে রাজশাহী নিউ গর্ভমেন্ট কলেজ থেকে এইচএসসি শেষ করে রাজশাহী কলেজ থেকে ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রী অর্জন করেন।
এরপর প্রথমে কিছুদিন সরকারি মাধ্যমিক স্কুলে শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে পরে ৩১তম বিসিএসে প্রশাসন ক্যাডারে উত্তীর্ণ হন। ২০১৩ সালে লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে যোগদান করেন। প্রতিবন্ধকতা আর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে সমাজের বোঝা না হয়ে সম্পদ হতে কঠোর পরিশ্রম করেছেন। বিভিন্ন জেলায় ম্যাজিস্ট্রেট, সহকারী কমিশনারের পর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ২০২০ সালের শুরুর দিকে যোগদান করেন হরিপুরে।

চ্যানেল আইয়ের সাথে আলাপকালে আব্দুল করিম বলেন, ছোট বেলা থেকেই আমার ইচ্ছা ছিল বড় কিছু করার। সব সময় অনেক চ্যালেঞ্জ এর মুখোমুখি হতে হয়েছে, তবে আমি এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করেছি পরিস্থিতি অনুসারে। লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলাও করেছি যেন শারীরিকভাবে ফিট থাকা যায়।
যারা শারীরিক প্রতিবন্ধীদের নিয়ে কটু কথা বলে থাকে তাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আমাদের দেশ এগিয়েছে কিন্তু কিছু মানুষ এখনও মানসিকভাবে এগোতে পারেনি। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শারীরিক প্রতিবন্ধীদের নিয়ে সমাজের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনে উদ্যোগ নেওয়ার ফলে বর্তমানে অনেক মেধাবী শারীরিক প্রতিবন্ধীরা ভালো অবস্থানে আছেন। এজন্য তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
স্থানীয়রা জানান, বর্তমান ইউএনও শারীরিক প্রতিবন্ধী হলেও দাপ্তরিক কাজে কর্মে তাকে কখনই প্রতিবন্ধী মনে হয় না। তবে তার আছে যথেষ্ট মানবিক গুনাবলি।
প্রতিবন্ধীদের অবহেলা না করে সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে দিলে তারাও সমাজের জন্য ভুমিকা রাখতে পারে এমন উদাহরণের দৃষ্টান্ত আব্দুল করিম।








