শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে পেছনে ফেলে স্কুল-কলেজের গণ্ডি পেরিয়ে মাস্টার্স পাস করেছেন রাজবাড়ীর মশিউল আযম রাজিব। সম্প্রতি নিয়োগ পেয়েছেন বাংলাদেশ ডাক বিভাগে পোস্টাল অপারেটর পদে। অদম্য রাজিবের সারা জীবনের স্বপ্ন যেনো এখন হাতের মুঠোয়।
তবে, শুনতে যতোটা সহজ মনে হচ্ছে রাজিবের চলার পথটা ততোটা সহজ ছিলো না। ২০০৫ সালে নবম শ্রেণিতে পড়ার সময় বাবাকে হারানোর পর বড় ভাইয়ের উপার্জনের ওপর ভর করে চলা ৬ জনের সংসারে রাজিবের পড়াশুনা প্রায় বন্ধ হওয়ার উপক্রোম। তারপরও প্রবল ইচ্ছে শক্তি এবং পরিবারের সমর্থনে পড়াশুনা চালিয়ে যাওয়া।
এরপরের গল্পটা ভিন্ন! একের পর এক চাকুরির পরীক্ষা দিয়ে হতাশ হয়ে পড়েছিলেন রাজিব। শেষ, ডাক বিভাগের পোস্টাল অপারেটর পদে লিখিত পরীক্ষায় পাস করেন।
ভাগ্য বিড়ম্বিত রাজিব একদিন ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিমের একটি ফেসবুক পোস্টের কমেন্ট অপশনে চাকুরি চেয়ে কমেন্ট করেন। এরপরই প্রতিমন্ত্রীর পক্ষ থেকে তার একান্ত সহকারী জয়দেব নন্দী যোগাযোগ করেন রাজিবের সঙ্গে। মেলে চাকুরির আশ্বাস। আশ্বাসেই থেমে থাকেনি, আজ রাজিবের হাতে পৌঁছে বাংলাদেশ ডাক বিভাগে পোস্টাল অপারেটর পদে নিয়োগের নিয়োগপত্র।
চ্যানেল আই অনলাইনের পক্ষ থেকে মশিউল আযম রাজিবের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিমের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন: ‘আমার জীবনের সব থেকে বড় ও আমার মা এবং ভাইয়ের ইচ্ছা পূরণ হয়েছে। ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হলিমের সহযোগিতায় আমার জীবনের সব থেকে বড় ইচ্ছা পূরণ হয়েছে। আমার মতো অসহায় এক প্রতিবন্ধীর বাংলাদেশ ডাকবিভাগে একটা চাকরি দিয়ে সাহায্য করেছেন।আল্লাহ যেন আপনার সারা জীবন ভালো রাখেন এই দোয়া করব।’
এ প্রসঙ্গে বৃহস্পতিবার তারানা হালিম তার ফেসবুক ভেরিফাইড পেজে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন।
তার স্ট্যাটাসে তিনি লিখেছেন: আমার ফেসবুক পেজে শারীরিক প্রতিবন্ধী এক ভাই চাকরী চেয়েছিলেন। ছেলেটির দুটি পা অচল। দারিদ্র্যের কারণে হুইল চেয়ার কেনা হয়নি কোনো দিন। পথ চলতে হয় হামাগুড়ি দিয়ে। তাই বলে শারীরিক প্রতিবন্ধকতা তাকে দমাতে পারেনি। অদম্য ইচ্ছাশক্তির ওপর ভর করে স্কুল-কলেজের গণ্ডি পেরিয়ে মাস্টার্স পাস করেছেন।
ছেলেটির বাবা নাই, তার পরিবার চালানোরও কেউ নাই। পদ্মার গর্ভে বিলীন হয়েছে তার বাড়ি। তার চাকরিটা দিতে পেরেছি। এই একটি চাকরী তাকে জীবনে বেঁচে থাকার নতুন অর্থ এনে দেবে বলে আমি বিশ্বাস করি। নতুন স্বপ্ন দেখার মনোবল দেবে। তার এই ছোট্ট ইচ্ছে পূরণ করতে পেরে আমার খুব ভাল লাগছে। সেই সাথে মনের মাঝে কষ্টের কাঁটাও খচ খচ করছে- যাদের জন্য বলার কেউ নাই, তাদের সবার জন্য যদি কিছু করতে পারতাম!








