কার্ডিফ থেকে: ওয়েলসের মধ্যে সবচেয়ে শান্তির শহর কার্ডিফ। বাংলাদেশ-ইংল্যান্ড ম্যাচের সব কাজ শেষ করে সোফিয়া গার্ডেনস থেকে বিঊট স্ট্রিটে ফেরার পথে বাঙালি ট্যাক্সিচালক মোহাম্মদ আলম জানালেন, এমন শান্তিপ্রিয় শহর আর নেই পুরো ইংল্যান্ড এন্ড ওয়েলসে। রাতেই ক্রসচেক করে জেনেছি এটি তার ব্যক্তিগত ধারণা নয়, দিনের আলোর মতোই সত্য।
শান্ত, সজীব, নির্মল এক শহর কার্ডিফ। চারদিকে কেবল সবুজ আর সবুজ। বাহারিসব গাছগাছালির সমারোহ। প্রকৃতির এতসব আয়োজনের পরও স্থানীয়দের বাড়ির সামনে দেখা মেলে ফুলের বাগান।
প্রকৃতির কারণে মানুষের আচরণও অনেক সময় বদলায়। যেমন বৃষ্টি হলে মানুষের মন শান্ত থাকে। গরম পড়লে হয়ে ওঠে অস্থির। এখানকার মানুষ শান্ত ও অত্যন্ত বিনয়ী হওয়ার কারণ হতে পারে সেটি।
এই শহরে অদ্ভুত এক মায়া আছে। যেটি কাটানো কঠিন। বাঙালি সিটিজেন যারা আছেন তারা কার্ডিফ ছেড়ে অন্য শহরে গেছেন তার নজির খুব কমই। সোফিয়া গার্ডেনস থেকে আমাদের গন্তব্যে পৌঁছে দেয়া আলম যেমন ২০ বছর ধরে আছেন এখানে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভাষার ওপর কোর্স করে এসে থিতু হয়েছেন কার্ডিফে।
লন্ডন থেকে কার্ডিফ আসার পথে রাস্তার দুই পাশের দৃশ্য দেখেই বুঝে ফেলেছিলাম যাচ্ছি সবুজের শহরে। বিশাল ভূমিতে শস্যের চাষবাস।
কার্ডিফে এসেছিলাম গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি মাথায় নিয়ে। পরদিন তো সারাদিনই ভারী বর্ষণ ছিল। শনিবার বাংলাদেশ-ইংল্যান্ড ম্যাচের দিন ছিল স্বাভাবিক আবহাওয়া।
ন্যাশনাল এক্সপ্রেসে চড়ে আমরা ১৫ জন বাংলাদেশি সাংবাদিক কার্ডিফ ছেড়ে ব্রিস্টলে যাচ্ছি বড় এক শঙ্কা নিয়ে। মঙ্গলবারের বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা ম্যাচ বৃষ্টিতে ভেসে যাওয়ার শঙ্কা। বিশ্বকাপে বাংলাদেশ যাদের হারানোর ছক কষেছে তাদের মধ্যে অন্যতম শ্রীলঙ্কা। ম্যাচটা ভেসে গেলে ক্ষতি বাংলাদেশেরেই।
কার্ডিফে ইংল্যান্ডের কাছে বাংলাদেশের বড় ব্যবধানে হারের ক্ষত না শুকাতেই পরের ম্যাচের ভেন্যুর আবহাওয়ার পূর্বাভাস হতাশ করে দিচ্ছে। ম্যাচের আগেরদিন সোমবার ও ম্যাচের দিন মঙ্গলবার বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা ৯০ ভাগ। তবু আশায় বুক বেধে আমাদের ছুটে চলা। বিশ্বকাপে ঘুরে দাঁড়ানোর মিশনে টাইগাররাও ধরেছেন ব্রিস্টলের বাস।








