সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়ার স্ত্রী, চিত্রশিল্পী আসমা কিবরিয়াকে বনানী কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। সোমবার সকালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে রাজধানীর একটি হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন তিনি। তাঁর বয়স হয়েছিলো ৭৮ বছর।
আজ সোমবার সকাল সোয়া ৯টার দিকে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে হৃদরোগের সমস্যায় চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় মারা যান তিনি।আসমা কিবরিয়ার মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও জনপ্রশাসনমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।দুপুর সোয়া ১২টার দিকে আসমা কিবরিয়ার লাশ তাঁর পরিবারের সদস্যরা নিয়ে গু লশান-২-এর ৫৫ নম্বর রোডের ২০ নম্বর বাসায় রাখেন।
আসমা কিবরিয়ার ছেলে রেজা কিবরিয়া বলেন, ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ সোমবার সকাল ৮টা ১০ মিনিটের দিকে মায়ের হার্ট অ্যাটাক হয়। এরপর ৯টা ১০ মিনিটে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। কয়েক দিন ধরে তিনি হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে ছিলেন।আসমা কিবরিয়া জন্মগ্রহণ করেন ১৯৩৭ সালে। নিউইয়র্কের উন আর্ট স্কুল এবং ওয়াশিংটনের কোরকোরান স্কুলে চিত্রকলা বিষয়ে লেখাপড়া করেন। তার কাজ নিয়ে ব্যংকক সহ বিশ্বের বিভিন্ন শহরে ১০টি একক প্রদর্শনী হয়েছে।
মৃত্যুর আগ পর্যন্ত গ্রেনেড হামলায় কিবরিয়া হত্যার বিচারের দাবিতে সরব ছিলেন মানুষটি। বয়স-অসুস্থতাকে পাশ কাটিয়ে এতোদিন বিচারের দাবিতে রাজপথে সোচ্চার ছিলেন তিনি। গড়ে তুলেছিলেন ‘শান্তির স্বপক্ষে নীলিমা’ নামের এক অহিংস আন্দোলন। হত্যার বিচার চাইতে বেদনার নীল রঙের কাপড় পড়ে শোককে শক্তিতে পরিণত করে নেমেছেন রাস্তায়। দেশের রাজপথ ছাড়াও আসমা তাঁর স্বামী ও দেশের অন্যতম সফল অর্থমন্ত্রী হত্যার বিচারের দাবিতে দাড়িয়েছেন প্রবাসেও।
বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময়ে ২০০৫ সালের ২৭ জানুয়ারি হবিগঞ্জ সদরের বৈদ্যের বাজারে ঈদ পরবর্তী এক জনসভা শেষে বের হওয়ার পথে গ্রেনেড হামলার শিকার হন সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়া। ঢাকা নেয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়।
এই হত্যার বিচার দাবি করতে এসে আসমা বলেছিলেন,“এদেশে ভালো মানুষের কোনো মূল্যায়ন নেই। এদেশে তাদের বাচঁতে দেওয়া হয় না। যদি আমরা একটু চোখ খুলে তাকাই তাহলেই দেখতে পারি তার বাস্তব প্রমাণ যারা দেশের দরিদ্র জনগোষ্টিকে বঞ্চিত করে নিজের পকেট ভারি করেছে তাদের ওপর কেউ গ্রেনেড ছোড়ে না। তাদের পকেট ফুলে দিনে দিনে বড় হয়। বাড়ি গাড়ি সংখ্যা বাড়ে। অথচ যারা দেশের জন্য কোনো কিছু করতে চায়। নিজের পকেট ভারি করতে চায় না। তাদের অকালেই চলে যেতে হয়। তাদের বাঁচতে দেওয়া হয় না, আহসান উল্লা মাস্টারকে বাঁচতে দেওয়া হয়নি, বাঁচতে দেওয়া হয়নি শাহ এ এম এস কিবরিয়াকে। এটাই কি ভালো ও সৎ রাজনীতিবিদদের প্রাপ্তি?”
কিবরিয়া হত্যা, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে হার্ভার্ড, নিউ ইংল্যান্ড, বোস্টনে ‘শান্তির স্বপক্ষে নীলিমা’কে পৌঁছে দেয়া মানুষটিই আজ চলে গেলেন না ফেরার দেশে।
বাদ আছর গুলশানের আযাদ মসজিদে নামাজে জানাজা শেষে বাদ মাগরিব বনানী কবরস্থানে স্বামী শাহ এ এম এস কিবরিয়ার কবরের পাশে আমসা কিবরিয়াকে দাফন করা হয়।






