দেশের সবগুলো সেনানিবাস, নৌ ঘাঁটি ও স্থাপনা এবং বিমান বাহিনী ঘাঁটিতে নানা আয়োজনে উদযাপিত হলো সশস্ত্র বাহিনী দিবস। দেশের কল্যাণ, সমৃদ্ধি এবং সশস্ত্র বাহিনীর উন্নতি ও অগ্রগতি কামনা করে পালিত হয় দিবসটি।
অন্যান্য বছরগুলোর ধারাবাহিকতায় এবছর দিবসটির শুরু হয়, শিখা অনির্বাণে একাত্তরে স্বাধীনতাযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের স্মৃতির প্রতি রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদনের মাধ্যমে। পরে বীরশ্রেষ্ঠদের উত্তরাধিকারী এবং খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের পাশাপাশি তাদের উত্তরাধিকারীদের সংবর্ধনা জানানো হয়।
আমরা জানি, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের মধ্যেই এইদিনে সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর সমন্বয়ে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী গঠিত হয়। এরপর পাকিস্তানি দখলদার বাহিনীর বিরুদ্ধে সর্বাত্মক অভিযান শুরু করে এই বাহিনী। যাদের তৎপরতায় যুদ্ধে দ্রুত বিজয় অর্জিত হয়। বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের পর থেকে এই দিনটি সশস্ত্র বাহিনী দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।
মুক্তিযুদ্ধের সেই কঠিন সময়ে জন্ম নেয়া সশস্ত্র বাহিনী এখন অনেক পরিণত। নানাভাবে ব্যাপ্তি ও দক্ষতা বেড়েছে কয়েকগুণ। এরই মধ্যে আন্তর্জাতিকভাবেও মর্যাদার আসনে স্বীকৃতি পেয়েছে। বিশেষ করে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীর অংশগ্রহণ এবং অবদান পৃথিবীর অনেক বড় বড় দেশকেও ছাড়িয়ে গেছে।
গত কয়েক দশকের অগ্রগতিতে এরই মধ্যে সশস্ত্র বাহিনীকে আন্তর্জাতিক মানের বাহিনীতে রূপ দিয়েছে। যে কারণে সেনা, নৌ এবং বিমানবাহিনী নিয়ে গঠিত এ বাহিনী এখন আরো আধুনিক ও যুগোপযোগী।
সশস্ত্র বাহিনী দিবসে সেনাকুঞ্জে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একটি বিষয়ে উপর জোর দিয়ে বলেছেন, আমরা কারো সঙ্গে যুদ্ধ চাই না। কিন্তু, কেউ আমাদের দেশকে আক্রমণ করলে তাকে ছেড়ে দেয়া হবে না। এ জন্যই সশস্ত্র বাহিনীকে উপযুক্ত ও শক্তিশালী করে গড়ে তোলা হচ্ছে।
আমরা মনে করি, একটি দেশের আধুনিক সশস্ত্র বাহিনী শুধু যুদ্ধের জন্যই প্রস্তত থাকে না, শান্তির বাজায় রাখতেও বড় ভূমিকা পালন করে।







