বাংলাদেশের প্রথম শহীদ নারী কবি মেহেরুন্নেসার জন্মবার্ষিকী আজ। ১৯৪০ সালের
২০ অাগস্ট পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন তিনি। প্রায় বিস্মৃতির
আড়ালে হারিয়ে যাওয়া দুঃসাহসী এক কবির নাম মেহেরুন্নেসা। স্বাধীনতা সংগ্রামে
নারীর ওপর নিষ্ঠুরতম ও নারকীয় হত্যাযজ্ঞের শিকার হয়ে শহীদ হন তিনি।
ষাটের দশকের সম্ভাবনাময়, প্রাণবন্ত, হাস্যোজ্জ্বল এক তরুণী কবি মেহেরুন্নেসা। বাবা ক্যান্সারে মারা গেলে পরিবারের খরচ যোগাতে পত্রিকায় কপি লেখা এবং প্রুফ দেখার কাজ শুরু করেন তিনি। সে সময়ের প্রায় সব পত্রিকাতেই তার কবিতা ছাপা হত। কিন্তু সংসারের চাহিদা মেটাতে গিয়ে এক সময় সাহিত্য-সংস্কৃতি থেকে দূরে সরে যেতে থাকেন তিনি। ছোট দু’ভাইকে মানুষ করার তাগিদে নিজের প্রতিভা আর সম্ভাবনা ভুলে দিনরাত কর্মক্ষেত্রে পরিশ্রম যালিয়ে যান।
তবে মাতৃভূমির প্রতি ভালোবাসা ভুলে যাননি মেহেরুন্নেসা। এরই মধ্যে ‘সাত কোটি জয় বাংলার বীর! ভয় করি নাকো কোন/ বেয়নেট আর বুলেটের ঝড় ঠেলে- চির বিজয়ের পতাকাকে দেবো, সপ্ত আকাশে মেলে/ আনো দেখি আনো সাত কোটি এই দাবীর মৃত্যু তুমি/ চির বিজয়ের অটল শপথ/ জয় এ বাংলায় তুমি….’ কবিতাটির মধ্য দিয়ে তিনি জানান দেন তার কবি-প্রতিভা আর বিপ্লবের কথা।
পাক-হানাদার, রাজাকার ও বিহারীদের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে পাকিস্তানের প্রজাতন্ত্র দিবসে অকুতোভয় এই নারী নিজ বাড়ির ছাদে লাল-সবুজ পতাকা উড়িয়েছিলেন। অবাঙালি ও বিহারীদের হাতে প্রতিনিয়ত নির্যাতিত ও লাঞ্ছিত মিরপুরের বাঙালিদের রক্ষার জন্য বন্ধু কাজী রোজীকে সঙ্গে নিয়ে তিনি গঠন করেছিলেন ‘অ্যাকশন কমিটি’।
১৯৭১ সালের ২৫ শে মার্চের ভয়াল কালো রাত্রিতে “অপারেশন সার্চলাইট”-এর নামে পাক বাহিনী বাঙ্গালীদের ওপর চালায় নির্মম গণহত্যা। ঠিক তার দু’দিন পর, ২৭ মার্চ নির্মমভাবে জবাই করে দেহ থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করে কবি মেহেরুন্নেসা, তার মা এবং দু’ভাইকে হত্যা করা হয়।
মেহেরুন্নেসার দুই ভাইয়ের মাথা নিয়ে ফুটবলের মতো খেলেছিল সেদিন ঘাতকেরা। আর মেহেরুন্নেসার কাটা মাথা তারই লম্বা চুল দিয়ে ফ্যানের সাথে বেঁধে ঘোরানো হয়। নিচে পড়ে থাকে তার রক্তাক্ত দেহ। মিরপুরের কসাই কাদের মোল্লার নেতৃত্বে, তার দোসরদের সাথে পরিচালিত সেই হত্যাকাণ্ড ছিল মানবতার ইতিহাসে অন্যতম এক কালো অধ্যায়।










