আজ পবিত্র শবে বরাত। বছরের এই বিশেষ দিনটির জন্য সবাই অপেক্ষা করে। ইবাদত করে আল্লাহর নৈকট্য লাভের আশায়। আর সেই সঙ্গে অপেক্ষা করে মজার মজার হালুয়া রুটি খাওয়ার। অনেকে তো মনে করে যে হালুয়া রুটি মানেই শবে বরাত। তবে এক হালুয়াই তৈরি করা যায় ভিন্ন ভিন্ন উপকরণ দিয়ে।
আসুন জেনে নেয়া যাক, কয়েক পদের হালুয়ার রেসিপি:

নেসেস্তার হালুয়া
উপকরণ
কর্নফ্লাওয়ার ১/২ কাপ, পানি ১ কাপ, গুঁড়া দুধ ২ চা চামচ, চিনি ১/২ কাপ, ঘি ৩ টেবিল চামচ, বাদাম কুচি ২ চামচ, ফুড কালার(যেকোনো) কয়েক ফোঁটা, লবণ ১ চিমটি, রোজ এসেন্স ২-৩ ফোঁটা।
প্রস্তুত প্রণালী
কর্নফ্লাওয়ার, পানি ও গুঁড়া দুধ একসঙ্গে গুলিয়ে রাখুন। প্যানে ১/২ কাপ পানিতে চিনি জ্বাল দিন। চিনি গলে পানি কমে আসলে আগে বানানো গোলাটা দিয়ে ভালো করে নাড়তে থাকুন। ১ চামচ ঘি দিন। পানি শুকিয়ে এলে আবার ১ চামচ ঘি দিন। ঘন হয়ে এলে আঁচ কমিয়ে পছন্দমতো ফুডকালার দিন। আবার ১ চামচ ঘি দিয়ে নেড়েচেড়ে নামিয়ে রোজ এসেন্স দিন। বাদাম কুচি দিন। ঘি মাখানো প্লেটে সমান করে বিছিয়ে দিন। ঠাণ্ডা হলে পছন্দমতো সাইজে কেটে নিন।

বুটের ডালের হালুয়া
উপকরণ
হাফ কেজি বুটের ডাল, এক কাপ ঘন দুধ (জ্বাল দিয়ে দুই কাপকে এক কাপ করতে হবে), এলাচ, দারুচিনি, তেজপাতা, পরিমাণমতো ঘি, হাফ কাপ তেল, কিশমিশ, চিনি।
প্রস্তুত প্রণালী
বুটের ডাল পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। ভালোমতো ভিজে গেলে সিদ্ধ করে নিন। সিদ্ধ বুটের ডাল বেটে বা ব্লেন্ড করে এক কাপ গরম ঘন দুধ দিয়ে মাখিয়ে পেষ্ট/কাই বানিয়ে নিন। চুলায় পাত্র দিয়ে দুই চামচ ঘি এবং হাফ কাপ তেল গরম করে তাতে কয়েকটা এলাচ, দারুচিনি ও তেজপাতা দিয়ে দিন। তেল ভালো গরম হলে বুটের ডালের কাই দিয়ে দিন এবং ভালো করে মিশিয়ে দিন।
এবার চিনি দিন এবং নাড়তে থাকুন। হালুয়া রান্নায় এই অংশটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং বিপদজনক। খেয়াল রাখতে হবে নাড়তে নাড়তে যখন ঘন হচ্ছে তখন যেন পুড়ে না যায়। এভাবে নাড়তে নাড়তে হালুয়ায় পানি শুকিয়ে গেলেই হালুয়া তৈরি হয়ে গেল। এরপর পছন্দমতো কেটে বরফি করে পরিবেশন করতে পারেন।

গাজরের হালুয়া
উপকরণ
গাজর দুই কাপ (গ্রেট করা), ছানা এক কাপ, ঘন দুধ এক কাপ, ডিম দুইটি (ফেটানো), চিনি দেড়কাপ, ঘি আধা কাপ, পেস্তা বাদাম কুচি দুই টেবিল চামচ, কাঠবাদাম কুচি দুই টেবিল চামচ, ক্রাশ করা কাজুবাদাম দুই টেবিল চামচ, কিশমিশ দুই টেবিল চামচ, মাওয়া দুই টেবিল চামচ, কেশর সিকি চা চামচ, এলাচ গুঁড়া আধা চা চামচ, গোলাপ জল তিন চা চামচ, তরল দুধ এক টেবিল চামচ।
প্রস্তুত প্রণালী
গাজর হালকা ভাপ দিয়ে নিন। এবার প্যানে ঘি দিয়ে গাজর ভুনে নিন। তারপর চিনি ও ঘন দুধ দিয়ে নাড়ুন। কিছুক্ষণ পর ফেটানো ডিম দিন এবং নাড়তে থাকুন। এরপর কিছু বাদাম রেখে সব রকম বাদাম, কিশমিশ, মাওয়া, কেশর (দুধে ভিজানো) ও গোলাপ জল দিয়ে নাড়ুন। হালুয়া প্যানের গা ছেড়ে এলে ঘি মাখানো ডিশে ঢেলে সমান করে বাদাম কুচি ছড়িয়ে দিন অথবা কিছুটা ঠাণ্ডা হলে লাড্ডু আকারে গড়ে পেস্তা কুচি দিয়ে সাজিয়ে নিন। ব্যস, তৈরি হয়ে গেলো গাজরের হালুয়া।

পেঁপের হালুয়া
উপকরণ
পেঁপে বাটা চার কাপ, চিনি আড়াই কাপ, গুঁড়া দুধ আধা কাপ, মাওয়া দুই টেবিল চামচ, এলাচ তিনটি, দারুচিনি তিন টুকরো, চেরি কুচি তিন/চার টেবিল চামচ, কাঠবাদাম কুচি দুই টেবিল চামচ, কিশমিশ দুই টেবিল চামচ, পেস্তা বাদাম ক্রাশ করা দুই টেবিল চামচ, রোজ এসেন্স সামান্য (ইচ্ছা)।
প্রস্তুত প্রণালী
প্যানে ঘি দিয়ে গরম হলে এলাচ ও দারুচিনি দিন। তারপর পেঁপে বাটা দিয়ে ভুনে নিয়ে চিনি দিন। এবার গুঁড়া দুধ ও মাওয়া দিয়ে ভালো করে নাড়ুন। হালুয়া ঘন হয়ে এলে পেস্তা বাদাম, কিশমিশ ও রোজ এসেন্স দিন। কিছুক্ষণ পর একটা পাত্রে ঢেলে নিন। ঠাণ্ডা হলে গোল গোল করে চেরি ও কাঠ বাদাম কুচি দিয়ে সাজিয়ে নিন।

খেজুরের হালুয়া
উপকরণ
বিচি ছাড়া খেজুর ২ কাপ, ঘন তরল দুধ ২ কাপ, চিনি ১/৪ কাপ, মাওয়া ১ কাপ, ঘি বা তেল পরিমাণ মতো এবং এলাচ ২/৩ টা।
প্রস্তুত প্রণালী
প্রথমে ২ কাপ ঘন দুধের সাথে খেজুর সিদ্ধ করে পানি শুকিয়ে নিন। নরম হলে ব্লেন্ড করে বা বেটে নিন। একটি পাত্রে তেল বা ঘি দিয়ে তাতে পরিমাণ মতো এলাচ দিন। এবার খেজুরের মিশ্রণটি ঢেলে দিয়ে মাঝারি আঁচে নাড়তে থাকুন। ফুটে উঠলে চিনি এবং ১ চিমটি লবণ দিন।
চুলার আঁচ কমিয়ে নাড়তে থাকুন। এভাবে নাড়তে নাড়তে হালুয়া ঘিয়ের উপর উঠে এলে মাওয়া গুঁড়ো দিয়ে দিন। তারপর প্লেটে ঘি মাখিয়ে হালুয়া ঢেলে নিন। চেপে চেপে সমান করে দিন। হয়ে গেলো মজাদার হালুয়া। ঠান্ডা হলে পছন্দমতো কেটে বাদাম দিয়ে পরিবেশন করুন।









