প্রধানমন্ত্রীপুত্র এবং তার তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়কে হত্যার ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার তথ্য-প্রমাণ পেয়েই শফিক রেহমানকে গ্রেফতার করা হয়েছে।শফিক রেহমানের গ্রেফতারের পর প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি আশরাফুল আলম খোকন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট লিখেছেন।
তিনি লিখেছেন, ‘শফিক রেহমান এবার আর পালাতে পারেননি । এরশাদের সময় দেশ থেকে পালিয়ে গিয়ে ব্রিটিশ নাগরিকত্ব নিয়ে দেশে ফিরেছিলেন। বিগত বিএনপি – জামাত জোট সরকারের ক্ষমতা ছাড়ার আগ মূহুর্তে ২০০৬ সালের অক্টোবরেও তিনি দেশ থেকে পালিয়ে যাচ্ছিলেন। আশাকরি আমাদের প্রতিবাদ মুখর সাংবাদিকদের এতো দ্রুত ভুলে যাওয়ার কথা নয়। ক্ষমতার শেষ মূহুর্তে কারা দেশ ছেড়ে পালায় ? সবাই পালায় না কেউ কেউ পালায়। কেন পালায় এটা বোঝার ক্ষমতা আশা করি আল্লাহ তায়ালা আমাদের প্রতিবাদমুখর সাংবাদিকদের দিয়েছেন।
নিজের দল জামাত – বিএনপি জোট ক্ষমতায় থাকার পরও শফিক রেহমান কেন দেশ ছেড়ে পালাতে পারেননি – আশাকরি এটাও আপনাদের ভুলে যাবার কথা নয়। ঐসময় সকল মিডিয়াতেও এই নিয়ে ব্যাপক মুখরোচক সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। সবগুলো বিষয় উল্লেখ না করে শুধু একটি বলি, আর তা হলো ওনার অফিসের কর্মরত সাংবাদিকদের প্রতিরোধের মুখেই ইমিগ্রেশন অফিসাররা তাকে এয়ারক্রাফট থেকে নামিয়ে আনতে বাধ্য হয়েছিলেন। কারণ, জামাত-বিএনপি সরকারের বেগতিক অবস্থা দেখে অফিসের সাংবাদিক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের প্রায় ছয়মাসের বেতন ভাতার টাকা নিয়ে তিনি পালিয়ে যাচ্ছিলেন।
আর বাকি কারণগুলো না বলি, বললে আপনারা আবার বলবেন “একান্ত ব্যক্তিগত” বিষয়গুলো নিয়ে নাড়াচাড়া করছি। ঐসব বিষয় আবার ওনার ভদ্রলোক (!) ইমেজে আঘাত আনতে পারে।
এখন আসেন এবারের গ্রেফতার নিয়ে বলি –
ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্নদ্রষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়কে অপহরণ করার ষড়যন্ত্রের বিষয়টি ইতিমধ্যে প্রমাণিত। মার্কিন সরকারই এই ষড়যন্ত্রের মুখোশ উন্মোচন করে বাংলাদেশ সরকারকে জানিয়েছেন। এই মামলার রায়ে এক বিএনপি নেতার পুত্র, একজন এফবিআই কর্মকর্তা ও তাদের একজন এজেন্ট বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের জেলে রয়েছেন।
এরপরও রাম ছাগল প্রকৃতির কিছু লোকজন এটাকে “কথিত” অপহরণ বলছেন। এই রাম ছাগলদের বিষয়ে কিছু না বলাই ভালো।
সাংবাদিক ভাইদের প্রসঙ্গে আসি,
মার্কিন কোর্টে যখন এই মামলাটি চলছিল তখন দেশের অনেক পত্রিকায়ও অপহরণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুইজন বিশিষ্ট ব্যক্তির নাম এসেছিল , এর একজন শফিক রেহমান আরেকজন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক এমাজউদ্দিন আহমেদ । এমাজউদ্দিন আহমেদ স্যার ঐসময়ে ওনার অবস্থান পরিষ্কার করে বলেছিলেন যে অপহরণের ষড়যন্ত্রকারী ওই বিএনপি নেতার পরিবারের সাথে ওনার ব্যক্তিগত পরিচয় রয়েছে এর বেশি কিছু নয়। শফিক রেহমান কিছু বলেননি। পল্টন থানায় মামলাটিও তখনই হয়েছিল ।
অপহরণের মামলায় অভিযুক্ত হলে গ্রেফতার করা যাবে না এটা কোথায় বলা আছে? তবে হ্যাঁ, বলতে পারেন এতদিন পর কেন গ্রেফতার করা হলো। বিএনপি চেয়ারপার্সনের এই উপদেষ্টা সাংবাদিক পরিচয়ে পরিচিত বলেই যাচাই-বাছাই শেষে আইনি প্রক্রিয়ায় আগানো হয়েছে ।







