সাংবাদিক শফিক রেহমানের গ্রেফতারকে বাংলাদেশে গণমাধ্যমের ওপর সরকারে কঠোর অবস্থান হিসেবে উল্লেখ করে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বিশ্ব গণমাধ্যম। বিবিসি, নিউইয়র্ক টাইমস ও আনন্দবাজারসহ প্রভাবশালী বেশ কিছু পত্রিকা শফিক রেহমানের গ্রেফতারের প্রতিবেদনে এ বিষয়টি তুলে ধরেছে।
প্রধানমন্ত্রীপুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়কে অপহরণ ও হত্যা চেষ্টার অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া শফিক রেহমানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। শুক্রবার দিবাগত রাতে ইস্কাটন গার্ডেন রোডের বাসা থেকে তাকে আটক করে পুলিশ।
‘সিনিয়র সম্পাদক শফিক রেহমান গ্রেফতার’ শিরোনামের প্রতিবেদনে বিবিসি লিখেছে, প্রখ্যাত বাংলাদেশী পত্রিকার সম্পাদক শফিক রেহমানকে রাষ্ট্রদ্রোহ সন্দেহে গ্রেফতার করা হয়েছে।
২০১৩ সাল থেকে শফিক রেহমান তৃতীয় বিরোধীপন্থি সম্পাদক যিনি আটক হলেন। শীর্ষস্থানীয় বাংলা এবং ইংরেজি সংবাদপত্রের সম্পাদকদের উভয়কেই সম্প্রতি অনুরূপ অপরাধে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
এতে আরো বলা হয়, জনপ্রিয় ইংরেজি দৈনিক ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম সামরিক বাহিনী দ্বারা পরিচালিত সরকারের সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দুর্নীতির খবর প্রকাশ জন্য বিশ্বাসঘাতকতার অভিযোগের সম্মুখীন হন।
শফিক রেহমানের গ্রেফতার প্রতিবেদনের মাঝখানে ‘বাংলাদেশে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ‘‘হুমকির’’ মুখে’ এই লিঙ্কও জুড়ে দেওয়া হয়েছে।
বিবিসি আরো লিখেছে, প্রধানমন্ত্রী পুত্রের এক দাবির পর মাহফুজ আনামের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ ও মানহানির অভিযোগ আনা হয়। আর একই রকম অভিযোগে শফিক রেহমানকেও গ্রেফতার করা হয়।
গত ফেব্রুয়ারিতে প্রথমআলো বিষয় নিয়ে বিবিসির দক্ষিণ এশিয়া সংবাদদাতা জাস্টিন রাওলাটের প্রতিবেদনের কথাও এতে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিবিসি প্রতিবেদন শেষ করা হয়েছে এইভাবে-গণমাধ্যমের স্বাধীনতার অনিশ্চয়তায় মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ বাংলাদেশে উদ্বেগ বাড়ছে। আর সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ধর্মনিরপেক্ষ ব্লগার ও প্রকাশকদের সিরিজ হত্যাকাণ্ডে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
নিউইয়র্ক টাইমস লিখেছে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়কে হত্যা পরিকল্পনায় জড়িত থাকার অভিযোগে শনিবার দেশের একটি ম্যাগাজিনের বিশিষ্ট সম্পাদককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। দেশে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি বিচার প্রক্রিয়ার সর্বশেষ ঘটনা এটি।
নিউইয়র্ক টাইমস আরো লিখেছে, সাংবাদিকরা ও সুশীল সমাজের গ্রুপগুলো বলছে, ভিন্ন মতাবলম্বীদের দমনে সরকার ক্রমাগত বর্ধিত হারে কঠোর নীতি অবলম্বন করছে। সরকারের সমালোচক আরও দু’জন সাংবাদিক এখন তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা মোকাবিলা করছেন। তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ ও মানহানির মামলা করা হয়েছে।
তাদের একজন হলেন ইংরেজি ভাষায় বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় পত্রিকা দ্য ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম। তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রিদ্রোহের এক ডজনেরও বেশি মামলা রয়েছে। আর মানহানির মামলা রয়েছে ৬০টির বেশি। আরেকজন সাংবাদিক হলেন প্রথম আলো পত্রিকার সম্পাদক মতিউর রহমান। ডেইলি স্টারের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান এ পত্রিকা। মতিউর রহমান ২৫টি মানহানি মামলা মোকাবিলা করছেন।
শফিক রেহমানের গ্রেফতারের প্রতিবেদনে পশ্চিমবঙ্গের প্রভাবশালী দৈনিক আনন্দবাজার লিখেছে, ‘এর আগে পুলিশকে আক্রমণে জনতাকে উস্কানি দেওয়ার অভিযোগে বিএনপি-ঘনিষ্ঠ কাগজের সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে গ্রেফতার করেছিল শেখ হাসিনার সরকার। আর একটি ইংরেজি সংবাদপত্রের সম্পাদক মাহফুজ আনমের বিরুদ্ধে কয়েকশো মামলা করেছে শাসক দল আওয়ামি লিগের সমর্থকরা। এই ঘটনায় বাংলাদেশে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা খর্ব হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে একটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন। শফিক রেহমানের গ্রেফতার সেই অভিযোগকে জোরাল করবে বলে মনে করা হচ্ছে।’
শফিক রেহমানের গ্রেফতার প্রতিবেদনে একই রকম আশঙ্কা প্রকাশ করেছে, ভারতের ইকোনোমিক্স টাইমস, দ্য, হিন্দু, টাইমস অব ইন্ডিয়া, ইন্ডিয়া এক্সপ্রেস, মধ্যপ্রাচ্যের আরব নিউজ, গালফ নিউ, যুক্তরাষ্ট্রের ডিসপথ নিউজ।







