চট্টগ্রাম থেকে: সম্ভাবনাময় অফস্পিনার হিসেবে গত অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলে অন্তর্ভুক্ত হন সঞ্জিত সাহা। তাকে ঘিরে স্বাগতিক দলের ছিল নানা পরিকল্পনা। কিন্তু প্রথম ম্যাচেই সন্দেহজনক বোলিং অ্যাকশনের অভিযোগের মুখে পড়েন এই তরুণ। পরে আর খেলতেই পারেননি। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগেও পরপর দুই মৌসুমে একই অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। তাতে টনক নড়েছে। সঞ্জিত সুযোগ দিতে চান না আর। প্রয়োজনে এক বছর ম্যাচ না খেলে বোলিং অ্যাকশন শতভাগ শুদ্ধ করেই ফিরতে চান।
১৯ বছরের এই তরুণ সবশেষ ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে ব্রাদার্সের হয়ে খেলেছেন। তখন তার দুটি ডেলিভারি সন্দেহের চোখে দেখেন আম্পায়াররা। আগের মৌসুমেও উঠেছিল একই অভিযোগ। বিসিবির বোলিং অ্যাকশন রিভিউ কমিটির অধীনে পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় থেকে অ্যাকশন বদলে নতুন করে শুরু করেছিলেন। সেই যাত্রায়ও বিপত্তি ঘটেছে। এবার তাই স্থায়ী সমাধানের পথ খুঁজছেন সঞ্জিত।
‘লম্বা সময় ধরে কাজ করতে পারিনি। দুই-এক মাস পরপর হয়েছে। জাতীয় লিগ, প্রিমিয়ার লিগ ছিল। অ্যাকশন নিয়ে কাজ করার পর্যাপ্ত সময় পাইনি। কী করলে ভালো হয় সেটা নিয়ে কোচদের সঙ্গে কথা বলছি। যদি এক বছর নাও খেলতে হয়, সেটাই করব। স্যাররা যেটা বলবে সেটাই করব।’
বোলিং অ্যাকশনে ত্রুটি রয়ে যাওয়ায় প্রতিভা মেলে ধরতে পারছেন না সঞ্জিত। তবে সম্ভাবনায়ম স্পিনারদের তালিকায় এই তরুণের নাম এখনও উপরের দিকেই আছে। জাতীয় দলের সঙ্গে চট্টগ্রাম পর্বের অনুশীলন ক্যাম্পে সঞ্জিত আছেন সাপোর্টিং হ্যান্ড হিসেবে।

আসন্ন অস্ট্রেলিয়া সিরিজে টাইগার ব্যাটসম্যানদের জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারেন অফস্পিনার নাথান লায়ন। নেটে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের ভালোমানের অফস্পিনারের সামনে অভ্যস্ত করতেই সঞ্জিতকে ডাকা হয়েছে ক্যাম্পে। জাতীয় দলের ব্যাটসম্যানরা তাতে উপকৃতই হচ্ছেন। সঞ্জিত উপকৃত হচ্ছেন আরও বেশি। বোলিংয়ে কীভাবে উন্নতি করা যায়, কোচ-খেলোয়াড়দের কাছ থেকে পাচ্ছেন সেসব পরামর্শ। সঙ্গে বোলিং অ্যাকশন নিয়ে কীভাবে কাজ করলে ভালো, পাচ্ছেন সেই প্রেসক্রিপশনও।
‘ক্যাম্পে আমি সর্বোচ্চটা দিয়ে আমার কাজটুকু করছি। ভুলগুলো শোধরানো যায় কীভাবে, বোলিংয়ে উন্নতি করা যায় কীভাবে সে পরামর্শ পাচ্ছি কোচ-খেলোয়াড়দের থেকে। বোলিং অ্যাকশন নিয়ে যেহেতু অভিযোগ আছে, সেটা নিয়েও অনেকে টিপস দিচ্ছেন যে কীভাবে বের হয়ে আসা যায় এটা থেকে।’
গত বছর ইংল্যান্ড দল যখন আসে, তখনও বাংলাদেশ দলের নেটে তিন দিন বোলিং করার সুযোগ হয়েছিল সঞ্জিতের। এবার সাতদিনের ক্যাম্প, পরিসরটাও বড়। সুযোগটা তাই কাজে লাগাতে চান, ‘এটা আমার জন্য অনেক বড় সুযোগ। আমি চাই সুযোগ কাজে লাগাতে। নিজের যে ভুলগুলো আছে বা উন্নতি কীভাবে করা যায় সেভাবে আগাতে।’
২০১৬ সালের জানুয়ারিতে হয়েছিল যুব বিশ্বকাপ। তখন থেকেই মানসিক চাপ কাজ করছে সঞ্জিতের ভেতর। ভালোভাবে ফিরে আসতে হলে মানসিকভাবেও শক্ত থাকতে হবে। সেই উপলব্ধিও হয়েছে এই তরুণের, ‘মানসিকভাবে খুব শক্ত হতে হয়। সময়টা অনেক কঠিন থাকে। চেষ্টা করছি শক্ত থাকার। সবার টিপস কাজে লাগানোর।’

কঠিন সময়ে পরিবারের সহযোগিতা পাচ্ছেন বলে জানালেন এআইইবি’তে বিবিএ পড়ুয়া এই স্পিনার। খেলাধুলার পাশাপাশি পড়াশুনাতেও খ্যাতি আছে তার। তাই দুটিই চালিয়ে যেতে চান সঞ্জিত।
বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলে যাদের সাথে খেলেছেন তাদের অনেকেই এখন জাতীয় দলের সদস্য। মেহেদী হাসান মিরাজ, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন, নাজমুল হোসেন শান্ত। এক সময়ের সতীর্থদের জাতীয় দলে দেখে নিজেও স্বপ্ন দেখেন সেখানে পৌঁছাতে। মিরাজের জন্য শুভকামনাও জানালেন, ‘মিরাজ খুব ভালো করছে। আমারও স্বপ্ন আছে খেলার। বোলিং শুদ্ধ করে ঘরোয়া ক্রিকেটেই বেশি মনোযোগ দেব আগে। ওখানে ভালো করতে পারলে হয়তো তাড়াতাড়িই জাতীয় দলে চলে আসব।’
৯টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলেছেন রংপুর বিভাগের এই ক্রিকেটার। নিয়েছেন ২৯ উইকেট। ২৭টি লিস্ট ‘এ’ ম্যাচে ৩০ উইকেট আছে সঞ্জিতের নামের পাশে।





