শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামের শততম ওয়ানডে ম্যাচে যখন শ্রীলঙ্কা ও জিম্বাবুয়ে দল খেলতে নামল, ইনডোরে তখন অনুশীলনে বাংলাদেশ। নিজেদের প্রিয় ভেন্যুর মাইলফলকের দিনে মাঠেই থাকতে পারতেন মাশরাফী-সাকিবরা। কিন্তু ত্রিদেশীয় সিরিজের সূচির কারণে দর্শক হয়েই থাকতে হচ্ছে তাদের। এ নিয়ে দর্শক-ক্রিকেটার সবার মাঝেই আক্ষেপের সুর।
ঐতিহাসিক ম্যাচটিতে বাংলাদেশ খেললে হতে পারতো গ্যালারিভরা দর্শক। থাকত উৎসবের আমেজ। কিন্তু দুই অতিথি দল খেলায় তার কিছুই নেই মিরপুরে। শ’খানেক দর্শকের সামনে আগাচ্ছে ম্যাচটি। সময় গড়ালে দর্শক বাড়বে এমনটিও বলা যায় না, স্বাগতিক দল না খেললে আগ্রহ থাকবে কোথা থেকে!
ম্যাচ শুরুর আগে কিছুটা উদযাপনও হল। তাতে থাকতে পারলেন না টাইগার ক্রিকেটাররা। অনুশীলন সেরে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হলেন আগের ম্যাচেই একশ ওয়ানডে উইকেটের মাইলফলক ছোঁয়া রুবেল হোসেন। এমন দিনে খেলতে না পারার আক্ষেপ ছুঁয়ে গেল তাকেও, ‘১০০তম ম্যাচ বাংলাদেশ খেলতে পারলে অবশ্যই ভাল হত, আমরা খেলার সুযোগ পেলে খুব ভাল হত।’
২০০৬ সালের ৮ ডিসেম্বর বাংলাদেশ ও জিম্বাবুয়ে ম্যাচ দিয়ে আন্তর্জাতিক যাত্রা শুরু করেছিল মিরপুরের এই স্টেডিয়ামটি। সেই ম্যাচে ৮ উইকেটের বড় জয় পায় বাংলাদেশ। অথচ স্টেডিয়ামটির কোথাও নেই অভিষেক ম্যাচের স্মৃতিচিহ্ন!
সেদিনের ম্যাচসেরা আফতাব আহমেদের কণ্ঠে এ নিয়ে আক্ষেপ, ‘দেশের এক নম্বর মাঠ যেমন হওয়ার কথা সেটি এখনো হতে পারেনি। লর্ডসে বলেন আর ভারতের কোনো মাঠ সেখানে প্রবেশ করলে যেমন ওদের দেশের ক্রিকেট ইতিহাসকে খুঁজে পাওয়া যায় এখানে সেটি পাওয়া যায় না। এটি আমরা যারা ক্রিকেট ছেড়েছি তাদের জন্য অনেক বড় আক্ষেপের।’
স্মৃতি সংরক্ষণে স্টেডিয়ামে মিউজিয়াম করা নিয়ে অনেক কথা শোনা গেছে। কিন্তু তা আলোর মুখ দেখেনি। বিসিবি পরিচালক ও মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান জালাল ইউনুস বললেন, ‘আমরা সব স্মৃতি রাখার জন্য আর্কাইভ করবো, ক্রিকেট মিউজিয়াম হবে। স্টেডিয়ামের কোন অংশে হবে, কীভাবে হবে এ নিয়ে আলোচনা চলছে। এখনও নকশা হয়নি। তবে আমরা করবো এবং এ নিয়ে পরিকল্পনা আছে।’






